গাজীপুরের টঙ্গীর আলোচিত হত্যাকান্ড সৈকত হোসেনের খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে! প্রশাসন নিরব!

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিবেদনঃ গাজীপুরের টঙ্গীর মুক্তারবাড়ি এলাকায় সৈকত হোসেন শাওন (২৪) কে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু ঘটনার তিন মাস না যেতেই আসামিদের এলাকায় ঘোরাফেরা নিশ্চই প্রশ্নদায়ক এবং এ সময় প্রশাসনের নিরব ভুমিকা নিতান্তই রহস্যজনক।

জানা গেছে, সৈকত হোসেন শাওন (২৪) হত্যা মামলায় জড়িতরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরতে পারছে না যার অন্যতম কারণ এ হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত অন্যতম আসামী মাসুদ ( পুড়ি মাসুদ ) এর ডান হাত পুলিশের সোর্স ইমরান,  পুলিশের এ সোর্স মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে আসামীদেরে আগে থেকেই পুলিশের উপস্থিতির ব্যাপারে জানিয়ে দেয়।

নিহত সৈকত হোসেন শাওন (২৪) মোঃ কবির হোসেনের ছেলে ও মোছঃ সেলিনা বেগম এর ছেলে এবং সে উত্তরা কেন্দ্রীয় প্রেস ক্লাব এর আইটি এ্যডমিন সাংবাদিক রাজীব হাসান আকাশ এর ভাগীনা । সে ছোট থেকেই টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ি এলাকায় তার নানা বাড়ীতে বসবাস করত। তার নানা শেখ মোঃ আঃ রাজ্জাক।

শুক্রবার বিকাল ৫ ঘটিকার সময় গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ তার মরদেহ তার নানুবাড়ি উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ীতে নিয়ে আশা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয় স্বজনের আহাযারীতে ভরে উঠে চারপাশ।

এরপর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ী আদ -দীন জামে মসজীদে তার জানাযা নামায অনুষ্টিত হয়। মরহুমের জানাযার নামাজে গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ মোক্তার হোহেন, তার নিকটতম আত্মীয় টংগী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মনজুর। তার মামা সাংবাদিক শেখ রাজীব হাসান আকাশ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘট্টনের নেতা কর্মী ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। জানাযার নামজে প্রচুর লোকজনের সমাগম ঘটে পরে জানাযা শেষে এরশাদনগর ৫নং ব্লক জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১২ই অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৈকতের বন্ধু আমজাদ হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে একদল দূর্বৃত্ত। আমজাদ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেখে ১৩ই অক্টোবর সকালে বাসায় আসে সৈকত। ওই দিন তাদের বাসায় তার সকল আত্মীয় স্বজনের দাওয়াত ছিলো ৪টার দিকে তার মামা সাংবাদিক শেখ রাজীব হাসান ও সৈকত তার খালাত বোনদের নিয়ে এক সাথে খাওয়া দাওয়া করে। পরে তার মা মোছাঃ সেলিনা বেগম বাজারে যায় কেনাকাটা করার জন্য কারণ তার মায়ের ফ্লাইট ছিলো রবিবার তিনি চাকুরী নিয়ে জডান যাচ্ছিলেন। এরপর বিকেলে এলাকার স্থানীয় দোকানদার মহসিন তাকে বাসায় গিয়ে বলে তোমার ফালান মামা তোমাকে ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে ডাকে পরে সে মামা ফালান এর সঙ্গে দেখা করে এবং তার সাথে করে এরশাদনগর যায় এবং পরে গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ মোক্তার হোহেনকে দেখতে যায় কারণ মুক্তার হোসেনের পা ভেঙ্গে গিয়েছিলো পরে তাকে দেখে বাসায় আসার সময় একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে সৈকতের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি চোরাই বলে রাতের মধ্যে থানায় জমা দিতে বলা হয়।

আরো পড়ুন :  :রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌনে ৫ কেজি স্বর্ণসহ বিমানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আটক

সৈকত তার বন্ধু কবিরের সাথে ভাই বন্ধু ক্লাবের সামনে কথা বলে এবং জানায়, যে থানার কোন এক এস আই ওকে কল দিয়ে বলছে তার ফোনটা চোরাই আর সে জন্য সে ফোন্টা নিয়ে থানায় যাবে। এ সময় আইচপাড়া এলাকার সুমন ও নাহিদ ( ডিস সুমন ) কালো সবুজ রঙের একটি বাইক নিয়ে সামনে আসে এবং বলে কিরে কই যাবি চল আমিও যামু, পরে সৈকত নাহিদ ও সুমনের বাইকে করে চলে যায় কিন্তু সে সোজা না গিয়ে উলটা দিক দিয়ে বাশ পট্টি দিয়ে বাইক ঘুরিয়ে সৈকতকে মুক্তারবাড়ি এক্সিলেন্ট স্কুল রোডের পাশের একটি নির্মানাধীন বাড়ির নিচে নিয়ে যায় এবং সুমন ওই খানে সৈকতকে চড় মারে। পরে সৈকত তার মোবাইল ফোন থেকে কবিরকে বলে সুমন ওরা সৈকতকে চড় মারছে এবং কবিরকে খুব দ্রুত ওইখানে যেতে বলে। এবং জানা যায় অপুকে ও কল দিয়ে যাওয়ার কথা বলে। পরে কবির তার সাথে এক বন্ধুকে নিয়ে ওই খানে গিয়ে দেখে সুমন (ডিস সুমন) নাহিদ সহ অজ্ঞাত আরো ২ থেকে ৩ জন ও সুমনের হাতে একটি তরোয়াল এবং সৈকতের সাথে সৈকতের খুব ঘনিষ্ট বন্ধু আকাশ পিতা আনোয়ার। কবির ওইখানে যাওয়া মাত্র সুমন তরোয়াল দিয়ে সৈকতকে কুপ দেয় এক সময় সৈকত, কবির ও আকাশ তরোয়াল টা ধরে ফেলে এবং আকাশ তরোয়াল টা নিজের হাতে নিয়ে নেয়। এসময় নির্মানাধীন বাড়ি থেকে আরো ১০ থেকে ১৫ জন বেড়িয়ে আসে। পরে কবির সবাইকে দৌড় দিতে বললে সৈকত , আকাশ, এক দিকে ও কবির আর তা বন্ধু অন্য দিকে দৌড় দেয়। নিরাপদ স্থানে গিয়ে কবির ৫ মিনিট পর সৈকতকে কল দেয় কিন্তু আকাশ কল রিসিভ করে বলে সৈকত সেইফ আছে পরে কবির বলে তুই সৈকতের কাছে দে কিন্তু আকাশ ফোন কেটে দেয়।

আরো পড়ুন :  রংপুরে বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলায় দুই যুবদল নেতা কারাগারে

এসময় সৈকতের কাকা মোঃ মহন সৈকতের ফোনে কল দিলে আকাশ ফোন রিসিভ করে বলে কে তুই,

মহনঃ আমি সৈকতের কাকা মহন,তুই কে ? সৈকত কই?

আকাশঃ কোন মহন আর সৈকত নাই। আমি কোন মহন টহন চিনি না।

মহনঃ তুই আমারে চিনছ না? আচ্ছা সৈকতেরে দে?

আকাশঃ বকা দিয়ে যা সৈকত নাই খুইজ্জা ল , কাট কাট ফোন কাট।

কিছুক্ষন পর শাহেদ (পাকিস্তানি), কাওসার হোসেন, কবির ও তার অন্যান্য বন্ধুরা গিয়ে দেখে সৈকত একটা রিক্সায় বসা। পরে ওরা রক্তাক্ত অবস্থায় আল-কারীম জেনারেল হাস্পাতালে পাঠালে তারা কোন প্রকার প্রাথমিক সেবা প্রদান না করে বের করে দেয়। পরে তাকে উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যায়। এবং তার পরিবারকে বন্ধুরা ফোন দিয়ে জানায়। পরিবারের লোকজন টঙ্গী হাসপাতালে এসে সৈকত এর মরদেহ দেখতে পায় এবং থানায় যোগাযোগ করলে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হাসান বলেন, থানা থেকে কোন মোবাইল ফোনের ফোনের ব্যাপারে কেউ কল দেয় নি। অতপর সকাল ১২টার দিকে লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে সৈকতের মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এছাড়াও তার বন্ধুরা জানায় এরশাদ নগর এলাকার পুড়ি মাসুদ, বুক কাটা বাবু, ইমরান, খাইরুল সহ আরোও অজ্ঞাত কয়েক জনের সাথে তার বন্ধু আমজাদ কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিলো। এছাড়া ঘটনা স্থলে থাকা নাহিদ মুঠোফোনে প্রথমিক ভাবে সুমন ও আকাশের উপস্থিত ও ঘটনার বিবরণ জানান।

এছাড়া বিভিন্ন গোপন সুত্রে জানা যায়, রিয়াজ আহম্মেদ আকাশ পিতাঃ সাহেব আলী , মাসুদ ( পুড়ি মাসুদ ), আল- আমিন ( চিকন / কঙ্কাল আলামিন ) পিতাঃ কাজল বাদশা, পুলিশের সোরস ইমরান, বুক কাটা বাবু এরা আগে থেকেই সৈকত হোসেন শাওনকে মারার হুমকি ও দিয়েছিলো।

জানা যায়, আসামীদের বিভিন্ন সময় এরশাদ নগর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বিশেষ করে সৈকত হোসেন শাওন হত্যা কান্ডের মুল পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অন্যতম আসামী রিয়াজ আহমেদ আকাশ দেশ ত্যাগের ব্যাপারে পায়তারা করছে।

আরো জানা যায়, সৈকত হোসেন শাওন (২৪) হত্যার অন্যতম আসামি মাসুদ (পুড়ি মাসুদ ) এর কথা বা ইশারা ছাড়া নাকি এরশাদ নগর, দত্তপাড়া ও আউচপাড়া এলাকায় কোন অপরাধ মুলক কাজ হয় না … কে এই মাসুদ (পুড়ি মাসুদ)??? কে এই সুমন ( ডিস সুমন )??? কে এই মাদক ব্যাবসায়ী আকাশ কি তার পরিচয়? এদের কারা মদদ দেয় কাদের সাহসে এরা এমন নির্মম ভাবে হত্যা করেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়… তবে কি তাদের হাতে এভাবেই সাধারন মানুষ জিম্মি হয়ে থাকবে। আদৌও কি সৈকত হোসেন শাওন এর হত্যাকারিদের ধরা সম্ভব হবে???

আরো পড়ুন :  ভ্রমণ : মনুষ্য সৃষ্ট স্বর্গ 'ইয়াস আইল্যান্ড

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, যারা সৈকত হোসেন শাওন (২৪) কে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তারা যেই হোক না কেন যে কোন রাজনৈ্তিক দলের ছত্র ছায়ায় থাকুক না কেন, যাতে কাউকে ছাড় দেয়া না হয়। এ সময় এলাকাবাসী খুনীদের ফাসির দাবি জানান।

এ বিষয়ে নিহত সৈকত হোসেন শাওন এর বাবা মোঃ কবির হোসেন বাদি হয়ে টঙ্গী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ রিপোরট লিখা পর্যন্ত টঙ্গী মডেল থানার ওসি মোঃ ফিরোজ তালুকদার এবং এ মামলার এস আই আশরাফুল এর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে এত দ্রুত আসামিদের তথ্য বের করা সম্ভব হয়েছে এবং এরই মধ্যে এ মামলার ২ জন অন্যতম আসামী ছোট সুমন ও বুক কাটা বাবুকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হাসান।

তবে এর পর থেকেই মামলার অন্যতম আসামী পুড়ি মাসুদ এর দুই ভাই ও অন্যান্য আত্তীয় স্বজন হত্যা মামলার সাক্ষীদের বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখানো সহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

অতঃপর নিহতের নানা এবং নানি বিষয়টি মামলার ভারপ্রাপ্ত এস আই আশরাফুল ইসলাম ও টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ তালুকদারকে জানায়, তবে এ ব্যাপারে কোন প্রশাসনিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না যা নিতান্তই প্রশ্নবিদ্ধ।

নিহতের মাতা মোছাম্মত সেলিনা বেগমের সাথে কথা বললে জানায়, আমার ছেলের হত্যাকান্ডের সাথে যারা প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তারা তাদের নিজ বাড়ীতে ঘুমাচ্ছে এবং যারা এ ঘটনার সময় খুনীদের ঘটনাস্থলে দেখেছে তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলের খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে ছাড়ব। ন্যায় বিচার হবেই। আমার শুধু একটাই প্রশ্ন যে খুন করে আসামিরা কি করে এলাকায় ঘোরে ? দেখার কি কেঊ নেই? আমি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

টঙ্গী মডেল থানা – মামলা নংঃ ৩৪/৬৭৯।