জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দেশের জন্য বড় হুমকি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দেশের জন্য বড় হুমকি। ধর্মের নামে যারা সহিংসতা চালায় তাদের নিন্দা জানাই। ইসলাম ধর্মের নাম করে অনেকে বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। আমি বলতে চাই, তারা কখনও বেহেশতে যেতে পারবেন না। তারা ধর্মকে কলুষিত করছে।’

সোমবার ( ০৮ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জঙ্গি, মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সোমবার (৮ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের পুলিশ সপ্তাহ। দিবসটি উপলক্ষে পুলিশ প্যারেডে সারাদেশে থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশের যে সকল সদস্য কর্মক্ষেত্রে সাহসিকতা এবং বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাদেরকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (সাহসিকতা)’, ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (সাহসিকতা), ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (সেবা)’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (সেবা)’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরাধ দমনে সাহসিকতা, সেবা এবং কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ১৮২ জন পুলিশ সদস্যকে এই পদক দেয়া হয়।

দেশ ও জাতির জন্য কাজে আরও দক্ষতার সঙ্গে পালনে উদ্বুদ্ধ করতে এই পদক প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া গণতন্ত্র রক্ষা ও প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা এবং জনগণের প্রতি জবাবাদিহীতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ‘জঙ্গি ও মাদক প্রতিকার, পুলিশ সপ্তাহের অঙ্গীকার’ শ্লোগানে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ চলবে আগামী পাঁচদিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার মাটি থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করে দেশের শান্তি নিশ্চিত করতে চাই। তাই সব গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে হবে। আমরা চাই প্রতিটি পরিবার তাদের সন্তানদের নজরদারিতে রাখুক। তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে তার খোঁজ রাখতে হবে। কারণ জন সম্পৃক্ততা থাকলে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা সহজ হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ বাহিনীর বিরাট ভূমিকা আছে। ২০১৬ সালে গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে জঙ্গিদের নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য শহীদ হয়েছেন তাদের জাতি স্মরণ করবে।’ এসময় তিনি বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের সাহসিকতার পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘অপরাধ দমনে পুলিশ নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা ক্ষুধামুক্ত ও দরিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে চাই। হাত পেতে নয়, মাথা নিচু করে নয়, স্বাধীন দেশ হিসেবে এগিয়ে যেতে চাই। মাথা উঁচু করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা খাতের খরচ ব্যয় নয়, উন্নয়ন। আমরা ক্ষমতায় আসার পর পুলিশের বেতন যে পরিমাণ বাড়িয়েছি পৃথিবীর কোনও দেশের সরকার এটা পারেনি। আমরা পেরেছি কারণ আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট গতিশীল ও শক্তিশালী। দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে আমরা কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের পুলিশ বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে বিভিন্ন অবস্থার মোকাবিলা করেছে। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালে বিএনপির জ্বালাও পোড়াওয়ের সময় ২৭ জন পুলিশ সদস্য জীবন দেন। মহিলা পুলিশ কনটিনজেন্ট সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে