টাকার লোভ মানুষকে কোথায় নামায়!

প্রকাশিত

চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্ব শুরু হতে আর এক মাস বাকি। এবার সেরা ষোলোতে জায়গা হয়নি বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের। গতবারের ধাক্কাও এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। গতবার কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচের আগে ডর্টমুন্ডের টিম বাসে বোমা হামলা হয়েছিল। তখন এই হামলার নেপথ্যে কে বা কারা; এটাও ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হামলা কি না—এসব নিয়ে কথা হচ্ছিল। তদন্ত শেষে জানা গেল অবাক করা সব তথ্য। হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাশিয়ান বংশোদ্ভূত জার্মান সেই ব্যক্তি দাবি করেছেন, কাউকে আহত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। শেয়ারবাজারে লাভ করতেই নাকি হামলা হয়েছিল!

গত বছর ১১ এপ্রিল মোনাকোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে যাত্রাপথে ডর্টমুন্ডের বাসে হামলা হয়েছিল। সে হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ডিফেন্ডার মার্ক বার্ত্রা। এক পুলিশ অফিসারও আহতের তালিকায় ছিলেন। ১০ দিন পরই সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জার্মান পুলিশ। যেহেতু শুনানি চলছে, তাই হামলাকারীর পুরো নাম জানানো হচ্ছে না। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত এই হামলাকারীকে সের্গেই ডব্লিউ নামে পরিচিত করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আজ সোমবার শুনানিতে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি, ‘আমি অনুতপ্ত।’ তবে কারও ক্ষতি করার ইচ্ছে নাকি ছিল না!

সের্গেই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও ধাতব বোল্ট ব্যবহার করে তিনটি বোমা বানিয়েছিলেন। সের্গেইয়ের এমন হামলার কারণটি খুব অদ্ভুত। অন্তত তিনি যা দাবি করছেন। মামলার কৌঁসুলি জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে লাভ করার জন্য হামলা করেছিলেন সের্গেই। জার্মানিতে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত একমাত্র ক্লাব ডর্টমুন্ডের ‘পুট অপশন’ কিনেছিলেন সের্গেই। পুট অপশন হলো, আগেই নির্ধারিত কোনো মূল্যে শেয়ার বিক্রি করার অধিকার। অর্থাৎ বাজারে শেয়ারের দাম ১০০ টাকা, কিন্তু পুট অপশনে যদি ৫০০ টাকাও লেখা থাকে, তবে পুট অপশনের মালিক সে দামেই সেটা বিক্রি করতে পারেন।

সের্গেই চেয়েছিলেন বোমা হামলা করে ডর্টমুন্ডের শেয়ারের দাম কমিয়ে দিতে। কারণ দাম পড়ে গেলেই পুট অপশন কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতেন। হামলার পর যদি ডর্টমুন্ডের শেয়ারের দাম ‘আশানুরূপ’ পড়ে যেত, তবে ৫ লাখ ইউরোর মতো লাভ হতো সের্গেইয়ের। কিন্তু ডর্টমুন্ডের মানুষের সাহসিকতায় শেয়ারবাজারে তেমন প্রভাব ফেলেনি। সের্গেইয়ের মাত্র ৫ হাজার ৯০০ ইউরো লাভ হয়েছে। অথচ এর জন্য মানুষ মেরে ফেলার কাণ্ড করেছিলেন। অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল বার্সার একাডেমি থেকে উঠে আসা বার্ত্রাকে।

এ মামলার যাবজ্জীবন শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাঁর। তবে জার্মানিতে ১৫ বছর পর প্যারোলে বের হওয়া যায়। টাকার লোভ মানুষকে কোন পর্যায়ে নামায়, সের্গেই আরও একবার দেখিয়ে দিলেন।