তীব্র শীতে বেশি ভুগছে শিশুরা

প্রকাশিত

বেশ কিছু দিন ধরে জ্বর এবং সর্দি-কাশিতে ভুগছে সন্দ্বীপের নয় মাসের শিশু মিমতাহ জান্নাত। শুরুতে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করানো হয় তার। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চার দিন আগে মিমতাহকে সন্দ্বীপ থেকে এনে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

মিমতাহ জান্নাতের মতো বিভিন্ন উপজেলা থেকে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ ঠান্ডাজনিত শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ নিয়ে নগরের হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। নগরেও এ ধরনের রোগীর সংখ্যা কম নয়। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে বলে চিকিৎসকদের অভিমত। উপজেলা থেকে অনেক শিশুকে দেরি করে নগরের হাসপাতালে আনায় রোগীর অবস্থাও জটিল হয়ে পড়ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে গতকাল সোমবার ২৫০ শয্যার বিপরীতে মোট রোগী ছিল ২৭৮ জন। এর মধ্যে  ১২০ জনই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু ছিল ৭০ জন। এক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের রোগী বেড়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা চিকিৎসক ফাহিম হাসান রেজা প্রথম আলোকে বলেন, ঠান্ডার কারণে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ নিয়ে শিশুরা আসছে। বিভিন্ন উপজেলা থেকেও শিশুরা নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। ডায়রিয়া রোগীও বেড়েছে।

সরেজমিনে মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে দেখা গেছে, ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশির ভাগেরই বয়স এক বছরের নিচে। নিউমোনিয়ার কারণে অনেক শিশুকে নেবুলাইজার দিতে হচ্ছে।

সন্দ্বীপ থেকে আসা মিমতাহ জান্নাতের মা ফাতেমা বেগম বলেন, স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর ও সর্দি না কমায় মেয়েকে চট্টগ্রাম নিয়ে আসেন। এখন মিমতাহর অবস্থা উন্নতির দিকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগেও বিভিন্ন উপজেলা থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। গতকাল এই বিভাগের ৬৪ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিল ১৫৫ জন। এর মধ্যে অর্ধেকই ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। প্রতিদিন এই বিভাগে গড়ে ১৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুও ভর্তি হচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা জানান।

শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, উপজেলা থেকে শেষ মুহূর্তে আনার কারণে অনেক শিশু রোগীই সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। মোট ভর্তির অর্ধেক শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগী বলে তিনি জানান।

গতকাল শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি শয্যায় একাধিক শিশুকে রাখা হয়েছে। ঠান্ডার কারণে শিশুদের মেঝেতে রাখা হচ্ছে না।

ফটিকছড়ি থেকে আসা ফরিদা নামের এক অভিভাবক বলেন, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পরও তাঁর ছয় মাসের ছেলের জ্বর ভালো হচ্ছিল না। এ কারণে শহরে নিয়ে এসেছেন। এখানে তাঁর ছেলেকে কয়েকবার নেবুলাইজ করা হয়েছে।

হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, হাসপাতাল ছাড়াও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে। শীতের মাত্রা বাড়ার পর এই ধরনের রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। এ জন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনো ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ না খাইয়ে অভিভাবকদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন তিনি।

পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ মেঘনাদ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, গতকাল চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ঠান্ডাজনিত কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে বলে জানান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মহাজন