প্রথম টেস্টে হিসাব মেলাতে পারেনি ভারত

প্রকাশিত

সকালে পেস বলের সামনে কাঁপাকাঁপি করল স্বয়ং দক্ষিণ আফ্রিকানরা। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরাও বোধ হয় ভাবলেন, ‘আমরা বাদ যাব কেন! উপমহাদেশের ব্যাটসম্যান হিসেবে ওটাই তো আমাদের সঙ্গে ভালো যায়।’ তাই দুপুরের সেশনে সে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন সফরকারীরা। প্রোটিয়া পেসারদের সামনে জবুথবু অবস্থা ভারতীয় ব্যাটিংয়ের। ফিল্যান্ডারের তোপে ১৩৫ রানে অলআউট হয়েছে ভারত। প্রথম টেস্টে ৭২ রানে হেরেছে বিরাট কোহলির দল।
কেপটাউনে পেসাররা কতটা দাপট দেখাচ্ছেন, সেটা সকালেই বোঝা গেছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন মোটে এক ওভার বল হাতে পেয়েছিলেন। ডেল স্টেইন চোট পেয়ে বাইরে। মাত্র তিন বোলার নিয়েই আদতে খেলছে স্বাগতিক দল। এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, তিন পেসারই ভারতকে কাঁপিয়ে দিতে যথেষ্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের ১৩০ রান পেরোতে পারে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ জেগেছিল।
ইনিংসের শুরুতেই নাটক। ভারনন ফিল্যান্ডারের বলে এলবিডব্লু  হলেন মুরালি বিজয়, রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেন ভারতীয় ওপেনার। চার ওভার পরে আবারও একই ঘটনা। আউট, রিভিউ, বেঁচে যাওয়া! এক ওভার পর এসেই বিজয়ের উইকেট বুঝে নিয়েছেন ফিল্যান্ডার। মাঝে ধাওয়ানকে তুলে নিয়েছেন মরনে মরকেল। ৩৯ রানে পূজারাও পথ ধরলেন ড্রেসিংরুমের।
ভারতীয় ইনিংসের সেরা মুহূর্তটা এসেছে এর পর। কোহলি ও রোহিত ৩২ রান তুলে ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দিচ্ছিলেন। কিন্তু আবারও ফিল্যান্ডার হাজির মঞ্চে। কোহলিকে (২৮) এলবিডব্লু  করে দিলেন প্রান্ত বদল করে টানা ১২ ওভার বল করা এই পেসার। রিভিউ নিয়েছিলেন বটে কোহলি, কিন্তু বাঁচতে পারেননি। পরের ওভারে রাবাদার বলে ক্যাচ তুলে দেওয়া রোহিত সেবার বেঁচে গেলেও পরের ওভারেই ফিল্যান্ডারের শিকার। ৭৬ রানে রোহিতের (১০) বিদায়ের ভাগ্য ফিরল রাবাদার। ৭৭ রানে প্রথম ইনিংসের নায়ক পান্ডিয়া এ ইনিংসে ১ রান করেই ক্যাচ হয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্সের। আর সেশনটাকে পূর্ণতা দিতেই হয়তো ২৯তম ওভারের শেষ ওভারে রাবাদার বলেই এলবিডব্লু  ভারতের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা। তিনিও কিন্তু রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ। ৭ উইকেটে ৮২ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় ভারত।
এরপর ৪৯ রানের এক জুটি গড়েছিলেন অশ্বিন ও ভুবনেশ্বর। কিন্তু চার বলের মধ্যে শেষ ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের প্রতিরোধের আশা শেষ করে দিয়েছেন ফিল্যান্ডার। ৪২ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন এই পেসার।