বিজয় আসবে যুক্তফ্রন্টে : খালেদাকে জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: ছোট দল, বড় দল নির্বিশেষে সবাইকে এককাতারে এনে যুক্তফ্রন্টের মতো প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে পারলে আন্দোলনে বিএনপি জয়ী হবে বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘অহমিকা ভুলে’ সেই পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে এক আলোচনা ও স্মরণ সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন।

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস স্মরণে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ।

১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে অন্যান্য দল মিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামীয় একটি সমন্বিত বিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তারিখে কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। সাথে আরো ছিল মৌলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি। বামপন্থী গণতন্ত্রী দলের নেতা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ এবং মাহমুদ আলি সিলেটি।

আরো পড়ুন :  সৌম্যর ফিফটি, শতরান পেরিয়ে বাংলাদেশ

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কাউকে অবহেলা করা উচিত নয়। ছোট দলগুলোর নেতাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। মওলানা ভাসানীর মতো সম্মিলিত বিরোধী দল বা যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে হবে। তাহলেই বিজয় সম্ভব হবে। অন্যথায় চলমান সংগ্রামে বিজয়ের সম্ভবনা কম।’

তিনি আরো বলেন, জাতি ও দেশের প্রয়োজনেই জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করেছিলাম। দুঃখজনক হলেও সত্য- সেই বিএনপিও মওলানা ভাসানীকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২২ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বিএনপিরও পালন করা উচিত ছিল। ভাসানীকে দেওয়া জিয়ার প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভুলে গেছে।

এ সময় কর্মসূচি দিয়ে জনগণের কাছে যেতে খালেদা জিয়াকে পরামর্শও দেন তিনি।

 

‘দুপুর বেলাও বিএনপি মনে করছে, রাত শেষ হয়নি। আর সে কারণেই তারা জনগণের কাছে যেতে পারছে না। তারা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মসূচিও গ্রহণ করতে পারছে না। নিরাপত্তার নামে বেগম জিয়া নিজেই গৃহবন্দি হয়ে থাকছেন। এভাবে চলতে থাকলে হবে না,’ বলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আরো পড়ুন :  সাহিত্য হচ্ছে উন্নত জাতির চাবিকাঠি -ড. আনিসুজ্জামান

তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়াকে জনগণের কাছে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, তার জনপ্রিয়তার ভীত হয়েই সরকার তাকে বকশীবাজারের কোর্টে হাজিরার নামে ব্যস্ত রাখছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মওলানা ভাসানী না হলে আওয়ামী লীগের জন্ম হতো না। আর আওয়ামী লীগ না হলে শেখ মুজিবুর রহমানও বঙ্গবন্ধু হতে পারতেন না। ভাসানী আর শেখ মুজিবের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মতো। এ কথা প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে রাখতে হবে। তারা মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে তা হবে অসম্পূর্ণ।’

সভায় সভাপতির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত সংগ্রামের পথই মুক্তির পথ। সংগ্রাম ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে ভাসানীর কোনো বিকল্প নাই।

আরো পড়ুন :  ‘নামকাওয়াস্তে’ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগার

তিনি ঢাবি সিনেট নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলের ভরাডুবিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুধু জনসমর্থন থাকলেই হবে না। জনসমর্থনকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করতে না পারলে সকল ক্ষেত্রেই বিপর্যয় অনিবার্য। নেতাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের কাছে যেতে হবে আত্মঅহমিকা ভুলে।

ন্যাপের ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলুর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, ডেমোক্রটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নরসিংদী জেলা সমন্বয়কারী এখলাছুল হক, যুবনেতা আবদুল্লাহ আল কাউছারী প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে নেতৃবৃন্দ মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।