পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৯টি পদের মধ্যে ৮টি পদই শূন্য

প্রকাশিত

গোলাম আযম সরকার (রংপুর):
রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরটি ২০০৬ এ ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হয়নি। চিকিৎসকের ৯টি পদের মধ্যে ৮টি পদই শূন্য থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্বক ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
এদিকে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদটি ১৯ বছর যাবত শূন্য । গত ৬ জানুয়ারি ডাঃ রাকিবুল ইসলাম ওই পদে যোগদান করেন। আবার একই দিনে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের প্রেষণে চলে যান। ফলে উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতাল চালু করতে হলে এখানে ২০ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন বলে । তবে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটিতে সব ধরনের ডিজিটাল সরঞ্জামাদি থাকলেও বর্তমানে ৩১ শয্যা চালু রয়েছে। ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুই জনসহ তিন জন দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ২০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও ১৬টি পদে দীর্ঘদিন ধরে কোন চিকিৎসক নেই। এখানে চিৎিসকদের মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণে রয়েছেন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ১৫ বছর ধরে এবং ডেন্টাল সার্জন ১০ বছর ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনী) পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
বর্তমানে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবু আল হাজ্জাজ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিসংখ্যানবিদ, ডেন্টাল সার্জন ও জুনিয়র মেকানিক পদও ১৬ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া প্রধান অফিস সহকারিসহ একজন অফিস সহকারি, একজন নৈশ প্রহরী, দুই জন ওয়ার্ডবয়, ঝাড়–দার ও মালী পদ শূন্য রয়েছে।
অপরদিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন এক্স-রে মেশিনটি ২০০৬ সাল থেকে বিকল পড়ে রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় ডিজিটাল সরঞ্জামাদি গুলো দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সদ্য সরবরাহ কৃত ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়েছে।
অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার না করায় অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় তার টাইলস ও প্লাষ্টার খোঁসে পড়ছে। ডেন্টাল যন্ত্রপাতি থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে না।
উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবু আল হাজ্জাজ চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করেন।