দশম সংসদ গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতীক

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বর্তমান দশম জাতীয় সংসদ জনকল্যাণকর ও অর্থবহ সংসদ। দশম সংসদ গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতীক। বর্তমান সংসদ গঠিত না হলে তৃতীয় শক্তি এসে গণতন্ত্রকে হত্যা করত। দেশের উন্নয়নযাত্রা ব্যাহত হতো।

সোমবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি একথা বলেন।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর বক্তব্যের সূত্রপাত করেন সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুল মতিন  খসরু, বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনএফ প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম আজাদ, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী প্রমুখ।

সভাপতির চেয়ারে বসা ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, আমার দীর্ঘজীবন পরিক্রমায় যে কয়টি সংসদ দেখেছি তার মধ্যে নবম সংসদ এবং দশম সংসদ অত্যন্ত অর্থবহ। এর চেয়ে অর্থবহ সংসদ আগে কোনো দিন দেখিনি। বিশেষ করে দশম সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটি একটি বিরল ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল বলেই দেশে গণতন্ত্র ও সংবিধান সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই দশম সংসদ শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এই সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন এমপিরা।

আরো পড়ুন :  স্মরণসভায় বক্তারা সাদির উদ্দিন ও আল আজাদ ছিলেন সাদা মনের মানুষ

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই সংসদ খুবই সফল সংসদ। এই সংসদ এরই মধ্যে সফলতা অর্জন করেছে। এখানে বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয়ে কথা তুলেছেন, সেই প্রসঙ্গে মন্ত্রীরা জবাব দিয়েছেন। এই সংসদে অনেকগুলো ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সংসদ গঠনের সময় বিএনপিসহ কেউ কেউ বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। প্রশ্ন তুলেছিলেন যারা তাদের কেউ কেউ নিজেরাই দু-একবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যেমন ড. কামাল হোসেন।

তোফায়েল বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব এই সংসদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আইপিইউ ও সিপিএ’র মতো দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় আমাদের এই সংসদের দুজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কাজেই এই সংসদ আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সেদিন যদি নির্বাচন না হতো আর এই সংসদ যদি না থাকত তাহলে দেশের অবস্থা কোথায় যেত ভাবা যায় না। তৃতীয় শক্তি এসে গণতন্ত্রকে হত্যা করে রাজনীতিবিদদের দোষারুপ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতো। সেদিন নির্বাচন হয়েছিল বলেই সাংবিধানিক ধারা আজও অব্যাহত আছে। আজ গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে।

আরো পড়ুন :  ৫টি আসনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ঘোষণা না.গঞ্জে

তিনি বলেন, নির্বাচনে কে এলো, কে এলো না এটা তাদেরই দায়িত্ব। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভাসানীর দল আসেনি তাতেও কিন্তু নির্বাচন হয়েছিল।

তিনি বলেন, নির্বাচন এমন একটা জিনিস যা একটা দেশকে স্বাধীনতাও দিতে পারে, গণতন্ত্রও দিতে পারে। কাজেই নির্বাচনের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কে আসবে না আসবে আমাদের দেখার বিষয় না।

বিএনপি’র উদ্দেশে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে তারা নির্বাচনী ট্রেন মিস করেছে, আগামীতে ট্রেন মিস করলে ছিটকে পড়বে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী সংসদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সাবেক আইনমন্ত্রী মতিন খসরু বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এসে পস্তাচ্ছে। আশা করি এবার আসবে। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসার কোনো পথ নেই। নো খালেদা জিয়া নো ইলেকশন- এই ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। তারা ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। তারা না এলে নির্বাচন হবে না- এটা কোনো কথা হতে পারে না। বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মী নির্বাচনে আসতে চাইছে।

Shares