হেলিকপ্টার হুজুর,দাম ঘন্টায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মাত্র !

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ারঃ-

নাম এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরী, ভক্তরা চিনেন পীরে কেবলা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরী হিসেবে। ভালবেসে সবাই তাকে ডাকে হেলিকপ্টার হুজুর। সেই হেলিকপ্টার হুজুর গতকাল রবিবার নাটোরের সিংড়ার শালমারা দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে ‘প্রধান বক্তা’ হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। সেই লিকপ্টার হুজুর নিয়ে আমাদের নাটোর প্রতিনিধির তথ্যের ভিত্তিতে চ্যানেল সিক্স এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন।

সকাল থেকে আকাশপানে চেয়ে চেয়ে সময় কাটছিলো এলাকাবাসীর- কখন এসে হুজুর নামেন। এক পর্যায়ে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো হাজারো মানুষের। দূর থেকে শোনা গেল মেশিনের আওয়াজ। কিছুক্ষণের মধ্যে আকাশে দৃশ্যমান হলো হেলিকপ্টার। দর্শকদের মাঝে চাঞ্চল্য বেড়ে গেছে। জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া মাঠে অতবরণ করলেন হুজুর। সালাম জানালেন উপস্থিত জনতাকে। দু’পাশে সশস্ত্র বডিগার্ডরা আছেন। আছে পুলিশও। কিন্তু পুলিশ-গার্ডদের টপকে ইতোমধ্যে মোবাইল নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে তরুণরা। প্রিয় হুজুরের সাথে সেলফি ওঠাচ্ছে তারা। সেলফি পর্ব শেষে আয়োজকদের অভ্যর্থনায় বিশ্রামে চলে গেলেন অতিথি।

সিংড়ার শালমারা দাখিল মাদ্রাসার পাশের মাঠে নামছে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর হেলিকপ্টার

এইসব দৃশ্য গতকাল রোববার বিকালের। ঘটনস্থাল নাটোরের সিংড়ার শালমারা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গন। উল্লিখিত হুজুরের নাম এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরী। ভক্তরা চেনেন পীরে কেবলা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরী হিসেবে। তিনি শালমারা দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে ‘প্রধান বক্তা’ হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন

আরো পড়ুন :  দেশকে নিরাপদ রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প নাই

হুজুর নেমেছেন। ধেয়ে আসছে উৎসুক জনতা।

এদিকে প্রত্যন্ত গ্রামে ওয়াজ মাহফিলের এক অতিথিকে ঘিরে এমন এলাহি কাণ্ডের ছবি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর নানা আলোচনা হচ্ছে। ওয়াজে যাওয়ার ক্ষেত্রে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর হেলিকপ্টার-প্রীতি সম্পর্কে অবগত অনেকে তাকে ‘হেলিকপ্টার হুজুর’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এছাড়া সিংড়ার অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার বিনিময়ে এনায়তুল্লাহ আব্বাসী মোটা অংকের টাকা ‘হাদিয়া’ হিসেবে নিয়েছেন তা স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়েছে।

এসব শোনে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, গ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষকরা যেখানে বেতনের টাকায় সংসারের মাসিক খরচ নির্বাহ করতে রীতিমত সংগ্রাম করেন; তাদেরকে একটু বাড়তি টাকা দিতে গেলে মাদ্রাসা কমিটির পক্ষে সম্ভব হয় না, সেখানে এক ব্যক্তিকে এক ঘণ্টার ওয়াজের বিনিময়ে বিশাল অংকের টাকা কেন এবং কোথা থেকে দেয় মাদ্রাসা কমিটি?

সশস্ত্র গার্ডসহ জনাব আব্বাসী

হেলিকপ্টার থেকে নামার পর আব্বাসীকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন শালমারা দাখিল মাদ্রাসা সুপার শহিদুল ইসলাম, সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ জালসা কমিটির লোকজন।

শহিদুল ইসলাম চ্যানেল সিক্সকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মাদ্রাসায় বার্ষিক জলসা (ওয়াজ মাহফিল) অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার জনগণের মাঝে সাড়া তুলতেই পীরে কেবলা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরী হুজুরকে এক লাখ টাকার মাধ্যমে প্রধান বক্তা হিসেবে আনা হয়। এছাড়া হেলিকপ্টার ভাড়া বাবদ আরও ৮০ হাজার টাকার টাকা তাকে দেয়া হয়েছে বলেও জানান মাদ্রাসা সুপার।

আরো পড়ুন :  ফ্রান্স নারীদের যৌন হয়রানি রুখতে আইন করেছে

একই মাহফিলে অন্য চার বক্তাকে যথাক্রমে ২০ হাজার, ১০ হাজার, এবং ৫ হাজার টাকা করে (দুইজনকে) দেয়া হয়।

যেখানে একই মাদ্রাসার বেশিরভাগ শিক্ষক পুরো মাসের পরিশ্রমের জন্য ১৫ হাজার টাকারও কম বেতন পান, সেখানে এক ঘণ্টার জন্য এত টাকা দিয়ে বক্তা আনা কারণ কী- এমন প্রশ্নে সুপার জানান, মাদ্রাসা কমিটির সবার সিদ্ধান্তে এটা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার নিজস্ব পুকুরের মাছ বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতের আয়ের টাকা থেকে বক্তাদের ‘হাদিয়া’ দেয়া হয়েছে।

বিষয়ে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরীর আজ সোমবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। গতকাল রোববার ওয়াজ মাহফিল শেষে নাটোরের স্থানীয় সাংবাদিক রাজু আহমেদ তার সাথে কথা বলেছিলেন। তখন জৈনপুরী বলেনে, সময়ের অপচয় রোধ করতেই তিনি হেলিকপ্টারে যাতাযাত করেন এবং এর খরচ মাহফিলের আয়োজকরা বহন করে থাকেন। এছাড়া নিরাপত্তায় গানম্যান সঙ্গে রাখেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত ওয়াজ মাহফিলে অংশ নেয়া ছাড়াও সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার প্রায় ২০টি দেশে একই উদ্দেশ্যে সফর করেছেন বলেও জানান তিনি।

সিংড়া থানার ওসি (তদন্ত) নেয়ামুল আলম জানান, জলসা কমিটি নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ চেয়েছিলো। তাই জৈনপুরী পীরের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো।