বাসভবনে হামলার সাথে কোটার সম্পর্ক নেই : ঢাবি উপাচার্য

প্রকাশিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেছেন, লাশ ফেলে বিভীষিকা সৃষ্টি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারকে অচল করার পরিকল্পনায় নিজ বাসভবনে হামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন পরিদর্শনে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, “দুর্বৃত্তরা চেয়েছিল একটি লাশের রাজনীতি করতে, রক্তের রাজনীতি করতে। এটি একবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছে… হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রক্তপাত ঘটিয়ে একটি বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করা, সরকারকে অচল করা, অস্থিতিশীল একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা। এটাই আমার কাছে সকল আলামতে মনে হয়। এর সাথে কোটার কোনো সম্পর্ক নেই।”

উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, “সিন্ডিকেট যথার্থই বলেছে, রাত ২টার দিকে যদি পুলিশ-র‌্যাব অ্যাকশনে যেত তবে অনেক প্রাণহানি হতো, যেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়- দুর্বৃত্তদের এটাই ছিল প্রত্যাশা। ”

আরো পড়ুন :  ছাতকে সিক্স-এ সাইড ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন!

তিনি আরো বলেন, “পুলিশ এবং র‌্যাবের শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দিয়ে আমরা এই দুর্বৃত্তকে দমন করি নি এবং সেটার জন্য আমরা যে প্রজ্ঞা এবং সাহসী একাগ্রতা এবং নৈতিক মানে উজ্জীবিত থেকেছি এবং বড় আকারের প্রাণহানি যে ঘটেনি সে কারণে সিন্ডিকেট সন্তোষ প্রকাশ করেছে।”

এ সময় হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, হামলার আগে মেয়েদের একটি মিছিল স্লোগান দিয়ে গেটের সামনে এলেও তারা ভেতরে ঢুকেনি।

রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব দিক থেকে একদল মিছিল নিয়ে এসে হামলা করে জানিয়ে তিনি বলেন, “এখানে গেইটে প্রায় ১৫ মিনিট যাবত হামলা করতে ছিল। তারপর ওয়াল টপকে তারা উপরে উঠে সিসি ক্যামেরা ভেঙে তারপর ভাঙচুর শুরু করল।”

আরো পড়ুন :  রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬০ জন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নেবে

প্রায় ৭০-৮০ জন হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ভেতরে ঢুকেই আলো বাতিগুলো ভাঙতে শুরু করে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “তখন আমি বুঝতে পারছি এরা আন্দোলনকারী নয়। তখনই ভাবলাম একটা নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্যই তারা আসছে এবং এটাই এখানে পরিচালিত হবে। তখন পরিবারে সদস্যরা দিগ্বিদিক ছোটাছোটি শুরু করছে। তখন আমি ভাবছি ওরা বুঝি নিচে ভাঙচুর করেই চলে যাবে। এর মধ্যে আমি নিচে যাওয়ার জন্য এগুচ্ছি তখনই তারা উপরে উঠে এসে আমার বেডরুমে ভাঙচুর শুরু করল। এই তাণ্ডবলীলা শুরু করল। আমার মেয়ে ও স্ত্রী কোনোক্রমে পালানোর পথ পেয়ে বের হয়ে গেল।”

আরো পড়ুন :  বিপুল পরিমান পারসের পোনা ও জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তার কি ধরণের শাস্তি হবে জানতে চাইলে আখতারুজ্জামান বলেন, “এটি খুব অমুলক প্রশ্ন। কারো যদি ক্রিমিনাল হিসেবে শাস্তি হয়। অপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হয়ে শাস্তি হয়, তাহলে বিধান অনুযায়ী সেগুলো রাষ্ট্র ও সরকারে আইনের মধ্যে হবে।”

উপাচার্য আরো বলেন, “যারা আমার বাড়িতে প্রবেশ করল তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, তারা কিন্তু আমার প্রাণ রক্ষা করেছে। তবে মুখোশ পরা কয়েকজন আমাকে লাঠি হাতে আক্রমণের, আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”