গাজীপুরে ভূমি উপ সহকারী খাদিজার দুর্নীতির খতিয়ান-পর্ব ১

প্রকাশিত

ষ্টাফ রিপোর্টার,চ্যানেল সিক্স-

জাল ও ভূয়া দলিল পত্রের ভিত্তিতে গাজীপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনস্থ বাসন ভূমি অফিসে একই ব্যাক্তির নামে দুটি জোত (১৩৬৮) ও ২০১০) খোলা হয়। এই দুটি জোত খোলা হয় গাজীপুর সদরের চন্দপাড়ায় মৃত জমির আলীর ছেলে মোঃ ইসমাইল এর নামে। পরিত্যাক্ত হিন্দু সম্পত্তি আত্নসাতের লক্ষে ওই দুটি জোত খোলা হয়। আর এই অবৈধ কাজে ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা খাদিজা বেগম এর নামে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ্য ভাবে  জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তথ্য অধিকার আইনে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও তথ্য চেয়ে লিখিত আবেদন করার পর এর পর টনক নড়ে সদর উপজেলা ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষের। খারিজ বাতিল দেখিয়ে ও ভূয়া জোত উল্লেখ করে তাদের অপর্কম ধামাচাপা দেয়ার ছেষ্টা করে। অথচ এসব করা হয়েছে কোনো রকম অফিস আদেশ ছাড়াই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,মোঃ ইসমাইল বাসনের চান্দপাড়া মৌজার এক একর,৯ শতাংশ জমি ,২০১৪, সালের ২৭, জুলাই নামজারী ও জমাভাগের ,নথি নং ১৯৪/১৪-১৫) জন্য আবেদন করে। এক মাসের মধ্যে তা মন্জুর করা হয়। তার নামীয় জোত নং ২০১০খোলা হয়। এই জোতটি খোলেন বাসন অফিসের ভূমি উপ সহকারী র্দূনীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার। এর আগে ২০১০, সালের ২০,জুন একই দাগ খতিয়ানের ,৫ একর ৪৯,শতাংশ জমির মধ্যে দুই একর ১৮,শতাংশর নামজারী ও জমাভাগের ,নথীনং ৪০৩১৭/০৯-১০/ আবেদন করেন একই ব্যাক্তি। পরে তার নামে ১৩৬৮,নম্বর জোত খোলা হয়। জাল ও ভূয়া দলিল পত্রের ভিক্তিতে এই দুটি নামজারী ও জমাভাগ করার অভিযোগ উঠে। অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ খবর নেয়া হয় সরেজমিনে। বাসন অফিসে গিয়ে দেখা যায় ভলিউমে ইসমাইলের নামে দুটি জোত খোলা ও তথ্য সন্নিবেশিত আছে। বর্তমানে দুটিই জোতই অস্তিত্ববিহীন। খ,তফসিলের নামজারি সম্পূর্ণ করতে গিয়ে কেশরিতা গ্রামের সংখ্যালগু,সুধির চন্দ্র দাস,৬০ একজন ভুক্তভোগী জানান শতাংশ খ,তফসিলের জমি খারিজ করতে গেলে খাদিজা এক লক্ষ টাকা দাবি করেন,দিতে না পারায় উক্ত ১২৬১ নম্বর নামজারির নথিটি বাতিলের প্রতিবেদন পাঠান সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে।

আরো পড়ুন :  নরসিংদীতে এসএমই পণ্য মেলা-২০১৮’র সমাপনী প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বই জাতীয় অর্থনীতিতে গতির স ার করেছে — এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন

আগামী পর্বে থাকছে:-ভূমি কর্মকর্তা খাদিজার কোটি টাকার সম্পদের খতিয়ান 

শুধু তাই নয়,বাসন ভূমি অফিসে অনিয়ম ও কারসাজি করে ভূয়া জোত খোলারও অভিযোগ রয়েছে খাদিজার বিরুদ্ধে।‘খ তফসিল’ অবমুক্তির দেড় বছর আগে অনিয়ম ও কারসজি করে গাজীপুর ইটাহাটা মৌজার ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৯০ শতাংশ জমির জোত (নম্বর ৮৩৪৪) খোলা হয় ভূমি জালিয়াত চক্রের নামে। নামজারী আবেদন নামঞ্জুরের পর ওই চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় খারিজি পরচ, অর্জিনাল দাখিলা ও ডিসিআর। ২০১২ সনের ৯ অক্টোবর ৩৬৭/১২ স্মারকে ওই জোত বাতিলের আদেশ দিয়েছিল এসিল্যান্ড। তবে ভূমি প্রশাসনের আদেশ অমান্য করে জোতটি সচল রাখা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা দোষ চাপান একে অপরের উপর। ইটাহাটা মৌজার আর.এস-১০০০ খতিয়ানের ৯০ শতক জমির নামজারী ও জমাভাগ চেয়ে (১৯৯৪/১১-১২) আবেদন করা হয়। আবেদন করেন খন্দকার গোলাম এহিয়ার দুই ছেলে খন্দকার মেহবুব জামান (জুয়েল) ও খন্দকার রওশন জাহান, খন্দকার মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে গোলাম মোস্তফা এবং আলহাজ্ব মোঃ মফিজ উদ্দিনের ছেলে আফাজ উদ্দিন।তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর ওই সনের মার্চ মাসে বাসন ভূমি অফিসে ৮৩৪৪ নম্বর জোতটি খোলা হয় খাদিজার সহযোগীতায় সম্পূর্ণ দু’নম্বর।প্রার্থীদের দেওয়া হয় খারিজি পরচা, অর্জিনাল দাখিলা ও ডিসিআর (ডিসিআর নম্বর ২৫৮০৭ তারিখ ১৬.৪.১২)। ভলিউমে তাঁদের ঠিকানা দেখানো হয় জয়দেবপুর থানাধীন বারবৈকা গ্রাম। তবে এদের মধ্যে শুধু আফাজ উদ্দিনের বাড়ি বারবৈকা গ্রামে।সূত্র জানায়, প্রার্থীদের চাহিত জমি তখন ‘খ’ তফসিলভূক্ত  ছিল। তাছাড়া আবেদনকারীদের দলিল দস্তাবেজ জাল হওয়ার কারনে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এই অবস্থায় অরিয়ম-কারসাজি করে বাসন ভূমি অফিসে জোত খোলা হয় ভূমি জালিয়াতি চক্রের নামে। সেটি নামঞ্জুরের পর জোতটি খোলেন বাসন ভূমি অফিসের সেই দুর্নীতিবাজ ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার। তখন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ছিলেন লুৎফর রহমান।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগে ২০১২ সনের ৯ অক্টোবর ৩৬৭/১২ মিস নথি মূলে মোট ৪টি জোত বাতিল করা হয়। এই বতিলের তালিকায় উক্ত জোতটি ছিল। কিন্তু ভূমি প্রশাসনের এই আদেশ অমান্য করে সেটি সচল রাখা হয়। পরে ঢাকার বাসিন্দা রাঙ্গা আক্তারের নামে উক্ত জোত থেকে ৭.৪২ শতাংশ জমি নামজারীর জোড় চেষ্টা চালায়। যাঁরা ‘খ’ তফসিল অবমুক্তির আগে কারসাজি করে ভূয়া জোত খোলেন। রাঙ্গা আক্তার নামজারীর জন্য গত ২৭ এপ্রিল (নথি নং ৩৮৩৬/১৩-১৪ ইং) আবেদন করেন। তিনি ঐ জমি খরিদ করেন (দলিল নং-১৪৪৫/১৪) গত ১০ ফেব্রুয়ারী। এই খারিজের জন্য কারসাজির জোতটি বাতিল করা হয়নি।গত ১৪ জুন বাসন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ওই জোতে ‘বাতিল’ লেখা আছে। তবে সেখানে কোন কর্মকর্তার সীলসহি নাই। সীলসহি না থাকার বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ প্রতিবেদককে বলেন, সীলসহি না থাকা সম্পূর্ণ বে-আইনী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সাবেক ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার এই অপকর্মের জন্য দায়ী। ভূয়া জোত খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার প্রতিবেদককে বলেন, জোত খুলেছি উপরের মহলের তদবিরে। কিন্তু কে সেই তদবির কারক তা সে বলতে নারাজ। তখন বড় সাহেব ভূমি সহকারী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান এর অনুমতি নিয়ে জোত খুলি। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান প্রতিবেদককে জানান, জোত খোলেন খাদিজা, ভূয়া জোতের দায় তাঁরই নিতে হবে। যিনি অপকর্ম করেন সাজা তারই হওয়া উচিত। ভ’মি কর্মকর্তা খাদিজা তার দুর্ণীতির কারণে তাকে শাস্তি সরুপ বাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হলেও আবার সব ম্যানেজ করে বাসন ভূমি অফিসে যোগদান করেন।

203Shares