গাসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার:- গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক)নির্বাচনে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আওয়ামীলীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নৌকা ও বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের ধানের শীষ চূড়ান্ত হয়েছে। ১৫মে অনুষ্ঠিত হবে এই সিটির নির্বাচন। এরই মধ্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসান সরকারের বিরুদ্ধে সাবাহ গার্ডেন জবর দখল করে গড়ে তোলার অভিযোগ অনেক দিনের ।এরপরও তিনি এ বিষয়ে কোন ব্যাখা দেননি। জেলা সদরের বাঘের বাজার এলাকা থেকে পূর্ব দিকে তার মালিকানাধীন বিনোদন স্পট সাবা গার্ডেনের বিরুদ্ধে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে তিনি স্পটটির কাজ শুরু করেন। পরে বিএনপি সরকারের আমলে সম্পন্ন হয়।সরেজমিনে জানা যায়, সাবা গার্ডেনের জমির পরিমাণ ৩৬ বিঘা। সাত বিঘা স্থানীয়দের কাছ থেকে কৌশলে নেওয়া হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়িঘর।এর মধ্যে ২ নং খতিয়ানভুক্ত সিএস ৩ নং দাগের ৩২ বিঘা বনের দাবি করে ২০১২ সালে মামলা করে বন বিভাগ। মামলা নম্বর ২১৭।এ ছাড়া স্পটের ম্যানেজার মনির হোসেনের বিরুদ্ধে গাছ কাটার মামলা করে বিট অফিস। পরে জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।অনুসন্ধানে জানা যায়,সাবেক সাংসদ ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ হাসান উদ্দিন সরকার।২০০১ সালে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ নির্বাচন করে আহসান উল্লাহ মাস্টারের নৌকার নিকট পরাজিত হন। ওই সময় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক এম এ মান্নান নির্বাচন করে হাসান সরকারের সমসামিয়ক ভোট পান। টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগ করায় অধ্যাপক মান্নানকে বহিঃস্কার করে বিএনপি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করে। ওই নির্বচানের পর হাসান সরকার বিএনপিতে একক কর্তৃত্ব লাভ করেন। ওই সময় গাজীপুর-২ আসনে সরকারদলীয় অভিভাবক হওয়ায় হাসান সরকার ও হাসান সরকার পন্থীরা গাজীপুর ও টঙ্গীতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। ওই সময়েই গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় হাসান সরকার গড়ে তোলেন বিলাস বহুল রিসোর্ট। সাবাহ গার্ডেন নামের ওই রিসোর্টে মোট ৩৬ বিঘা জমি রয়েছে। এই ৩৬ বিঘা জমির মধ্যে বাংলাদেশ বন বিভাগ জমি দাবী করে আদালতে দুটি মামলা করে। মামলা দুটো বর্তমানে বিচারাধীন।স্থানীয় সূত্র বলছে, সাবাহ গার্ডেনের বেশীর ভাগ জমিই বন বিভাগের। বন বিভাগ, ক্ষমতা ও টাকার প্রভাবে হাসান সরকারকে কিছুই বলেননি। সাবাহ গার্ডেনের ম্যানেজারের দাবি, তিনি গাছ কাটার সাথে জড়িত নন। আর দেওয়ানি মামলায় তাদের পক্ষে রায় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা জনাব নাসির উদ্দিনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যাস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

আরো পড়ুন :  ৬ বছর কেটে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য রহস্যই রয়ে গেলো!