হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন ? কেনো থামছে না টঙ্গী হাসপাতালে দালালদের মারামারী

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত : স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় থামছে না টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের মারামারী হানাহানি। আধিপত্ত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহীন গ্রুপের প্রধান শাহীন, জীবন, মিরাজ ও শাহীনের স্ত্রী রেনু নামের দালালরা স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে রোগী বাগিয়ে উত্তরাসহ আশপাশের প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার নেশায় প্রতিপক্ষের সাথে মারামারীর ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে। গতকাল সোমবার রাত ১০ টায় প্রতিপক্ষের মেহেদি হাসান নামে এক যুবককে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো চাকু দিয়ে এলাপাথারী পিটিয়ে গুরতর আহত করে এবং নগদ টাকাসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাসে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপে দালাল চক্রের উৎপাত কিছুটা নিয়ন্ত্রনে থাকলেও গত কয়েকদিন যাবৎ স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্রটি। এ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতাল চত্ত্বরে ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। রোগী বাগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দালাল চক্রের দু’গ্রুপের সদস্যের মধ্যে মারামারীর ঘটনাও ঘটছে বেশ কয়েকবার। এরই মধ্যে গত শনিবার ও সোমবার রাতে দালাল চক্রের দু’গ্রুপের মধ্যে দুই দফা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে পলাশ (২৬) ও মেহেদী (২৮) নামে দুই দালাল আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত দু’জনেই টঙ্গী থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জুড়ালো কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় যে কোন সময় দুগ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয় লোকজন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা এবং ভর্তিরত সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় রাত্রিযাপন করে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সরকার দলীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে দালাল চক্রের একটি গ্রুপের প্রধান শাহিন অপর চক্রের সদস্যদের হাসপাতাল চত্তরে প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দালাল চক্রের অপর গ্রুপের সদস্য মেহেদী ও পলাশ হাসপাতালে প্রবেশ করলে দালাল শাহিন ও তার সহযোগীরা চত্ত্বরে পার্কিং করা তাদের প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স থেকে লাঠি বের করে পলাশ ও মেহেদীকে বেধড়ক মারধর করে আহত করে। তারা উভয়েই টঙ্গী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। মারধরের কিছুক্ষণ পরেই দুটি মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেনের ও তার সঙ্গীরা মেহেদীকে তুলে নিতে আসে। জাকির হোসেন হাসপাতাল ফটকে ঢুকেই মেহেদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মেহেদী তুই বেশি বাইড়া গেছোস, উঠ গাড়িতে উঠ। তোরে ভাই (ওই নেতা) ডাকছে। চল পার্টি অফিসে নিয়া তোর ব্যবস্থা করতাছি। এসময় স্থানীয় সাংবাদ কর্মীরা ওই দালালকে তুলে নিতে বাধা দিলে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন প্রভাবশালী ওই নেতার নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেন। বিষয়টি হাসপাতালের (আরএমও) ডাঃ পারভেজ হোসেনকে জানালে ঘটনাস্থলে আসেন তিনি। এসময় পুলিশের টহল টিমের পিএসআই বিজন বৈদ্যকে ডাঃ পারভেজ বলেন, সবগুলারে ধইরা ক্রসফায়ার দিয়ে দেন। আর আপনি না পারলে আমারে বলেন। আমি গুলি কইরা মারি।
অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালে বহিরাগত মাদক সেবী, ব্যবসায়ী, চোর চক্রের সদস্যদের আনাগোনা ও রাতের আধারে ভাসমান পতিতাদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। এ নিয়ে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর মাদক সেবন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুটি দালাল গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এসব দালালদের বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডাক্তার ও নার্স জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কতিপয় অসাধু ডাক্তার, কর্মচারীদের যোগসাজশে ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী ও পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে দালালচক্র ফায়দা লুটছে।
এব্যাপারে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ মো. পারভেজ হোসেন জানান, এসব বিষয়ে থানা প্রশাসনকে জানিয়েছি। বহিরাগত ও দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানতে চাইলে টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় দুটি অভিযোগ হয়েছে। হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত জীবন নামে এক দালালকে আটক করা হয়েছে। তাকে জি¹াসাবাদ করা হচ্ছে।
##

18Shares
আরো পড়ুন :  রোহিঙ্গা তরুণীদের টার্গেট করা হচ্ছে বাংলাদেশেও