ময়মনসিংহে পুড়ল মার্কেট

প্রকাশিত

ময়মনসিংহ শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনার পারের হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঈদের মাত্র দিন দশেক আগে বেচাকেনার ভরা মৌসুমে এই অগ্নিকাণ্ডে বহু দোকান পুড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পথে বসার উপক্রম হয়েছে দোকান মালিকদের। বছরের একটি বড় বেচাকেনা হয় এই সময়ে। দোকান মালিকরা বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল কিনে দোকানে রাখে। এবারও ঈদ সামনে রেখে সব দোকানেই বাড়তি পণ্য মজুদ করা ছিল। ব্যবসাও জমে উঠেছিল। আগের রাতেও সেখানে জমজমাট বেচাকেনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পৌনে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই মার্কেটের দেড় শতাধিক দোকানের মধ্যে পোশাক, জুতা, গয়না, প্রসাধনী ছাড়াও বেশ কিছু দরজির দোকানও ছিল। রাতে বিক্রি শেষ করে দোকানিরা চলে যায়। সকালে দোকান খোলার আগেই আগুন লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

 

ঈদের আগে ময়মনসিংহ হকার্স মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যবসায়ীরা যে পথে বসেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন আগুনের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। নানা কারণেই আগুন লাগতে পারে। এই সময়ে একটি বড় শহরের বড় মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা তদন্ত করে দেখতে হবে। হতে পারে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। কিন্তু সেই দুর্ঘটনাটিও কেন ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যদিকে নাশকতার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোনো কারণে কোনো পক্ষ নাশকতা করে মার্কেটে আগুন দিয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সবার আগে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া মার্কেটের দোকানিদের পাশে দাঁড়াতে হবে। মার্কেটে দোকান দিয়ে যারা ব্যবসা পরিচালনা করছিল তারা যে সর্বস্বান্ত হয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কাজেই তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। ময়মনসিংহ হকার্স মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা থেকে নতুন করে সতর্ক হতে হবে। এ সময়ে যেকোনো অসতর্কতা থেকেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে পারে। কাজেই সর্বত্র সব ধরনের অগ্নিকাণ্ড থেকে সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।