টঙ্গীতে দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায-সেলুন মালিককে কুপিয়েছে ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
টঙ্গীতে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টায় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় সেলুন মালিক কবীর হোসেন (২৩) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়েছে স্থানীয় ৪৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন ও তার সহযোগীরা। আহত ব্যবসায়ীকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টায় ৪৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন তার সহযোগী ২ যুবককে সেলুনে পাঠায় ব্যবসায়ী কবীরকে ডেকে নিতে। কবীর যেতে না চাইলে এবং তার কাছে কোন টাকা নেই বলে জানালে ধাঁরালো অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আল-আমিনসহ আরো ২/৩ জন ওই দোকানে প্রবেশ করে এবং দাবীকৃত ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে চাপ দেয়। টাকা না দেয়ায় কবীরকে পঙ্গু করে দিতে চাপাতি দিয়ে তার ডান হাতে কুপিয়ে গুরতর আহত করে। কবীরের ডাক-চিৎকারের আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আল-আমিন ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ বারেক মাতব্বর, হাবিুবর রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শী নুরজ্জামান মিয়া মিলে গুরতর আহত কবীর হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করেন এবং সেখানে তার অবস্থার অবণতি হলে তাকে পাশ্ববর্তী এলিট ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। তবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান, গত প্রায় ৩ বছর যাবৎ আল-আমিন এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের রাজত্ব কায়েম করেছে। ইতিপূর্বে এলাকার একটি মেলা থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আনতে গেলে স্থানীয় লোকজন তার হাতের রগ কেটে দেয়। তার অত্যাচার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আল আমিন স্থানীয় সুরোজ খলিফার পালিত মেয়ে জামাই বজলুর রহমানের ছেলে।
পঙ্গু হাসপাতাল থেকে কবীর হোসেনের চাচাতো ভাই বাচ্চু মিয়া জানান, কবীর হোসেনের অবস্থা আশংকাজনক, প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, ডান হাতের হাড় ও একাধিক রগ কেটে গেছে। পঙ্গুর ডাক্তার তাকে দ্রুত প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিলে পাশ্ববর্তী এলিট ক্লিনিক নামে একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
এব্যাপারে কবীরের চাচা মোশারফ হোসেন জানান, কবীর একটু সুস্থ হয়ে উঠলেই মামলা করা হবে। তিনি আরো জানান, আল-আমিন ও তার লোকজনের চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায় ইতিপূর্বেও ওরা কবীর হোসেনকে মারধরসহ তার পূর্বের সেলুনটি বন্ধ করে দিয়েছিলো। পরে বারেক মাতব্বরের সহায়তায় বর্তমান দোকানটি ভাড়া নিয়ে চলতি মাসে চালু করে। এবারও তাদের কথা মতো দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় এঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ৪৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন পলাতক ও তার মুঠো ফোনটি বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
টঙ্গী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে অবশ্যই মামলা নেয়া হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
##

6Shares
আরো পড়ুন :  ফেনসিডিলের বস্তা ফেলে পালালো চোরাকারবারীরা