সম্পাদকীয় একই মঞ্চে জাহাঙ্গীর-আজমত উল্লাহ-বিভিন্ন জরিপে এগিয়ে আ. লীগ

প্রকাশিত

যতই দিন যাচ্ছে ততই ঘনিয়ে আসছে ঢাকার অদূরে অতিগুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ২৬ জুনের নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণায় জমে উঠেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। গত ১৫ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে আইনী জটিলতায় এটি পিছিয়ে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জাহাঙ্গীর এবং আজমত উল্লাহ। দুই জনের পক্ষ থেকেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, দল যাকেই মনোনয়ন দিবে সব বিবেধ ভুলে তার পক্ষ হয়ে কাজ করবেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। পরবর্তীতে সার্বিক দিক বিবেচনায় গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য মনোনীত করে আওয়ামী লীগ এবং সকল নেতাকর্মীকে এক হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করে আওয়ামীলীগের ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। কিন্তু বিএনপি জামাত তাদের রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী অপকৌশলের অংশ হিসেবে গাজীপুরে আজমত উল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে গাজীপুর তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের মাঝে বিভাদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছিল। কেন্দ্র থেকে দিক নির্দেশনা পাওয়ার পর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহসহ গাজীপুর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রভাব বলয়ের নেতারা দলের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণায় নেমে পড়েন। টঙ্গীর সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা মতো আমরা গাজীপুরের নেতাকর্মীদের বিভেদ মেটাতে সক্ষম হয়েছি। ইতোমধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বেশ জোড়ে শোরেই। কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীর আলম প্রচার চালান নগরীর ৪৫, ৫৬ ও ৫৭ নং ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ৫৭নং ওয়ার্ডে বসবাস করেন আজমত উল্লাহ খান। নিজ ওয়ার্ডে সেদিন দুপুরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাহাঙ্গীরের পাশে ছিলেন আজমত উল্লাহও। ওইদিন নগরীর মধুমিতা এলাকায় পথসভায় মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজমত ভাইয়ের নেতৃত্বে আমাদের সুসংগঠিত প্রচারণার ফলে ঘরে ঘরে নৌকার রব উঠেছে। আগামী ২৬ জুন গাজীপুরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবে। অন্যদিকে সরোজমিনে গাজীপুর সিটিতে বিভিন্ন স্তরের জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে গাজীপুরে জাহাঙ্গীরের জনপ্রিয়তা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীরের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে গাজীপুর নগরবাসীর আশা আকাঙ্খার শতভাগ প্রতিফলন ঘটেছে বলে মত দেন সাধারণ জনগণসহ নগরীর বিশিষ্টজনেরা। সরোজমিনে ঘুরে জানা গেছে এই বারের নির্বাচনে বেশ কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ব্যালট বাক্সে নগরবাসী তাদের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটাবে বলে জানা গেছে, উল্লেখযোগ্য কিছু ফ্যাক্টর হলো, জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত বিপুল জনপ্রিয়তা, গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজমান ঐক্য, সারাদেশব্যাপী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এর ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড, বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিপুল জনপ্রিয়তা, ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় মেয়র হলে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ থাকা,
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ থাকা, বিএনপির পক্ষ থেকে বর্তমান মেয়র এম এ মান্নানকে বাঁধা দিয়ে বিতর্কিত এবং অজনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার ফলে গাজীপুর বিএনপিতে সৃষ্ট অন্তঃকোন্দল, গত টার্মে বিএনপির মেয়র এম এ মান্নান কর্তৃক গাজীপুরবাসীর আশা অনুযায়ী নাগরিক সুবিধা না পাওয়া, এম এ মান্নান এর অবাধ দুর্নীতি, দলীয় কোন্দলের জের ধরে সারাদেশের ন্যায় গাজীপুর বিএনপিতেও বিবেধ সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি।
উল্লেখিত দিক গুলো বিবেচনায় এই বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে ধারণা করছেন নগরীর বিশিষ্টজনসহ গাজীপুরের অধিকাংশ সাধারণ জনগণ।
##