পুঁজিবাজারে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ‘এটিবি’

প্রকাশিত

পুঁজিবাজারে বিকল্প লেনদেন প্ল্যাটফর্ম গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মূল বোর্ড ও স্মল ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্মে নেই এমন কম্পানি নিয়ে পুঁজিবাজারে পৃথক অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) গঠিত হবে। এটিবির আওতায় কোনো কম্পানি মূলধন উত্তোলন করবে না তবে বিনিয়োগকারীরা মূলধন বিনিয়োগে পৃথক একটা প্ল্যাটফর্ম পাবে। এটিবি ক্রেতা-বিক্রেতা ও কম্পানির মধ্যে যোগসূত্র সমন্বয় করবে।

এই বোর্ড গঠনে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড রুলস ২০১৮ আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত এই আইনের বিষয়ে আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মতামত চেয়েছে কমিশন।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম রুলস কার্যকর হলে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ওভার দ্য কাউন্টার) রুলস ২০০১ বাতিল হয়ে যাবে। বাতিল হলেও যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বাতিল হওয়া আইনের আলোকেই।

সাধারণত কমিশন প্রথমে খসড়া আইন প্রকাশ করে মতামত আহ্বান করে। আর এই মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে কাটছাঁট ও সংশোধন করে চূড়ান্ত আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করে কমিশন। সেই হিসেবে বিকল্প লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ‘এটিবি’ বোর্ড গঠনে খসড়া প্রকাশ করে, মতামত পাওয়ার পরই আইনটি চূড়ান্ত হবে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর ফলে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা অসংখ্য কম্পানির শেয়ার লেনদেনে আইনি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য ও বিনিয়োগের বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে বিনিয়োগকারী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আরো পড়ুন :  চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ জেএমবি সদস্য আটক

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে মূল বাজারের পাশাপাশি যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নিয়ে শেয়ার লেনদেনের পৃথক প্ল্যাটফর্ম ‘স্মলক্যাপ’ মার্কেট গঠনে কাজ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার বাই স্মল ক্যাপিটাল কম্পানি রুলস ২০১৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

স্মল ক্যাপ বোর্ড আইন অনুযায়ী, ন্যূনতম পাঁচ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনের পর ৩০ কোটি টাকার কম মূলধনী কম্পানি তালিকাভুক্ত হয়ে স্মলক্যাপ বোর্ডে লেনদেন করতে পারবে। এই বোর্ডে ‘যোগ্য বিনিয়োগকারী’, যাদের উচ্চ সম্পদ রয়েছে শুধু তারাই (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর) লেনদেন করতে পারবে।

এটিবি প্ল্যাটফর্মের খসড়া আইন অনুযায়ী মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত ও স্মলক্যাপ বা ন্যূনতম পাঁচ কোটি টাকা রয়েছে এমন স্বল্প মূলধনী কম্পানি এটিবি বোর্ডে লেনদেন করতে পারবে না। অর্থাৎ পাঁচ কোটি টাকার কম মূলধনী কম্পানি এখানে শেয়ার লেনদেন করতে পারবে।

এটিবি প্ল্যাটফর্মের খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এটিবি প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের জন্য ইস্যুয়ার বা কম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করবে। কম্পানির পক্ষে কাজ করতে একজন মার্চেন্ট ব্যাংকার নিয়োগ করবে। ৩০ কার্যদিবসের আবেদন গ্রহণ অথবা বাতিলের বিষয়ে অবহিত করবে স্টক এক্সচেঞ্জ।

আরো পড়ুন :  পানিসম্পদ মন্ত্রীর ড্রাইভারের লাইসেন্স নেই

পুঁজিবাজারের অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে একটি কম্পানি তালিকাভুক্ত হলে এটিবি প্ল্যাটফর্ম সুবিধা থেকে বাতিল করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারী স্বার্থে কমিশন শুনানির সুযোগ প্রদানসাপেক্ষে যেকোনো কম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করতে পারবে।

এটিবি বোর্ডে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বলা হয়েছে, স্টক ডিলার ও ব্রোকারের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় লেনদেন সম্পন্ন হবে। সিকিউরিটিজের ধরন অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জ এটিবির লেনদেন প্ল্যাটফর্মের শ্রেণীকরণ ও ফি, কমিশন এবং চার্জ নির্ধারণ করবে। কমিশনের অনুমোদনক্রমে এক্সচেঞ্জ এটিবির সিকিউরিটিজের জন্য প্রতিবেদন জমা, ডিসক্লোজার ও তথ্য প্রদানের শর্তাবলি নির্ধারণ করবে। কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে এক্সচেঞ্জ এ আইনের আওতায় এটিবি অপারেশনাল হ্যান্ডবুক প্রকাশ করবে, যা এ আইনের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, এ আইনের কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে সেই বিষয়ে কমিশন ব্যাখ্যা দেবে। কমিশন প্রয়োজনবোধে নির্দেশনা, গাইডলাইন তৈরি ও যুক্তিসংগত কারণে কমিশন বিধিনিষেধ কিংবা শর্ত আরোপ করতে পারবে। এ আইন কোথাও ব্যত্যয় হলে কমিশন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে। আর কমিশন চাইলে কোনো ব্যক্তি, সিকিউরিটিজ ও শেয়ার লেনদেনকে অব্যাহতি দিতে পারবে কমিশন।

Shares