গাজীপুরে ব্যাটারি চালিত অটোর দাপড়…

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

গাজীপুর টঙ্গী ষ্টেশন রোড় থেকে  নগরের চেরাগআলীর দিকে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন চাকুরীজীবি আবু সাইদ। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা তাঁকে কোনো সাইড না দিয়ে পুরো পথটিই মোটরসাইকেলের সামনে সামনে চলল। রিকশার ভয়ংকর গতি দেখে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ আবু সাইদ। তাঁর ভাষায়, যেকোনো সময় রিকশাটি দুর্ঘটনায় পড়তে পারত।

আবু সাইদ মতো অনেক সচেতন ব্যক্তিই এখন গাজীপুর শহরের ব্যাটারিচালিত এ রিকশাকে ভয়ংকর বাহন বলে মন্তব্য করেন। অনেকে ভয়ে এ রিকশায় ওঠা ছেড়েই দিয়েছেন। এসব রিকশার অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। এ রিকশা থেকে তারা বাড়তি টাকা কর হিসেবে আদায় করলেও চালকদের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়নি। বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণে চেষ্টাও নেই পৌরসভার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে গাজীপুর শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলা শুরু হয়। পরে স্রোতের মতো দ্রুত সব রিকশাতেই ব্যাটারি যুক্ত করা হতে থাকে। পৌর কর্তৃপক্ষ বাহনটিকে মেনে নেয়। বর্তমানে শহরের সব রিকশাই ব্যাটারিযুক্ত। পৌর এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারের বেশি সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে। শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব রিকশা। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো এগুলোর বেপরোয়া চলাচল। এগুলো পাল্লা দেয় মোটরসাইকেলের সঙ্গে, ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের সঙ্গে। অনেক সময় এগুলো ব্রেক ধরতে পারে না। চলন্ত রিকশা গিয়ে সজোরে ধাক্কা খায় সামনের বাহনের সঙ্গে। এতে দুর্ঘটনা ঘটে। রিকশা বা সামনের বাহন থেকে পড়ে যায় যাত্রীরা। এসব রিকশায় চালকদের বসার দৃশ্যও বেশ অদ্ভুত। চলন্ত রিকশায় কেউ এক পাশ হয়ে, কেউ দুই পা ওপরে তুলে বসে, কেউ দাঁড়িয়ে থাকে।

 

 

শহরবাসীর অনেকেই বলেছে, চালকরা ব্যাটারিচালিত রিকশা যদি ধীরে ধীরে চালাত, তাহলে তেমন সমস্যা হতো না। কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ চালকই বেপরোয়া চালায়। বর্তমানে ময়মনসিংহ শহরে প্রতিদিন রিকশা দুর্ঘটনা ঘটছে শুধু এসব চালকের বেপরোয়াভাবে রিকশা চালানোর জন্য।

শাহীন আহম্মেদ নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভাই, আমি ভয়ে এ রিকশাতেই উঠি না। মনে হয় এই বুঝি দুর্ঘটনা ঘটল।’ গৃহিণী দেলোয়ারা বেগম বলেন, তিনি একাধিকবার এ রিকশা থেকে পড়ে গিয়েছেন। এসব চালক কথা শোনে না। কোনো নিয়ম মানে না। একাধিক পথচারী বলে, ব্যাটারিচালিত রিকশার দ্রুতগতির জন্য তারা শান্তিতে রাস্তার মোড় পার হতে পারে না। কারণ মোড়ে এসেও রিকশাগুলো গতি থামায় না।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান বলেন, শহরে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটায় ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো। এই রিকশাচালকদের শিক্ষা নেই, প্রশিক্ষণ নেই। তারা ইচ্ছামতো রিকশা চালায়। তিনি বলেন, এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব পৌরসভার।

চলবে……..