টঙ্গীতে পরাজিত প্রার্থীর বাড়ি ও অফিসে হামলা, ভাংচুর,লুটপাট,আহত ৫ থানা পুলিশ নিস্ক্রিয়

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত :
টঙ্গীতে নির্বাচন পরবর্তী বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থীওর বাড়ি-ঘরে, অফিসে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাটসহ ৫জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন আঃ রশিদ সোহেল (২৫), বাবু (১৮) ও মুন্না (১৯)। তারা টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।


গত ২৬ ও ২৭ জুন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে এলাকায় দুই প্রাথী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এব্যাপারে উভয় পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়রী ও অভিযোগ দেওয়া স্বত্বেও পুলিশ রহস্য জনক কারণে নীরব ভুমিকা পালন করছে বলে উভয় পক্ষের ভুক্তভোগিরা দাবী করছেন।
গতকাল রোববার সকালে কাউন্সিলর সেলিম হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে অভিযোগ করেন, ২০১৩ ইং জিসিসি’র প্রথম নির্বাচনে টঙ্গীর ৫৫নং ওয়ার্ড থেকে আমি বিএনপি সমর্থিত সেলিম হোসেন ও আমার প্রতিদন্ধী বিএনপির আবুল হাসেম কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। নির্বাচনে আমি বিজয়ী হলে আবুল হাসেম আমার বিরোধীতা শুরু করে। ২৬ জুনের নির্বাচনে জাল ভোটের মাধ্যমে আবুল হাসেম বিজয়ী হয়ে তার নেতৃত্বে আল-আমীন, মনির, মনির পাঠান, হৃদয়, সাবু, হেলাল মিলে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে এবং আমার লোকজনকে মারধরসহ আমার অফিসসহ সমর্থক নিরীহ সহিদের দোকান ও গ্যারেজ এবং শ্যামলের বাড়িতে সন্ত্রাসী তান্ডব ও বেপরোয়া ভাংচুর করে। হামলাকারীরা সিটি কর্পোরেশনের অফিসে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুরসহ অফিসের ফাইল কেবিনেট ভেঙ্গে নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটারসহ সিটি কর্পোরেশনের মুল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়। এতে বাঁধা দিতে গিয়ে উপরোক্ত ব্যক্তিরা আহত হয়। আমি নিরুপায় হয়ে সেদিন হাসেম সমর্থকদের হামলা প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্থানীয় মসজিদের মাইকে এলাকার লোকজনকে জড়ো করে তাদের প্রতিহত করার আহব্বান জানাই। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি।

আরো পড়ুন :  শিবিরে রোহিঙ্গাদের হামলা, গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত


এদিকে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র কওে বর্তমান কাউন্সিলর সেলিম হোসেন ও ২৬ জুন বিজয়ী কাউন্সিলর আবুল হাসেম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধওে শত্রুতা ও দ্বন্ধ চলে আসছিল। গত সিটি নির্বাচনে বেসরকারী ফলাফলের ভিত্তিতে আবুল হাসেমকে বিজয়ী ঘোষনার পর তারই বর্হিপ্রকাশ ঘটছে স্থানীয় নিরীহ লোকজনের উপর। নির্বাচনের পর থেকে এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে।
অপরদিকে গত ৬ জুন গভীর রাতে অজ্ঞাত একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মফিজ খানের দোকান, লাল মসজিদ এলাকার মানিক মিয়া বাচ্চুর দোকান, বসতবাড়ি ও কলাবাগান এলাকায় মোজাম্মেল হকের দোকানে এলোপাতারি কুপিয়ে ভাংচুরসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
এব্যাপারে আবুল হাসেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমার কোন সন্ত্রাসী দল নেই, আমার কোন লোকজন এসব ঘটনা করেনি বরং সেলিম নির্বাচনের দিন রাতে থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট পড়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিযোগকৃত পুলিশের সামনে নামাবাজার, লালমসজিদ এবং মিলবাজার এলাকায় হীরা, মফিজ খান, বাচ্চু ও মোজাম্মেলকে মারধর করেছে ও তাদের বাড়ি ঘরে কুপিয়েছে।
বাচ্চু এব্যাপারে থানায় মামলা করেছে। বাচ্ছুর সাথে যোগাযোগ করলে সব জানতে পারবেন। আপনারা তদন্ত করুন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা ছড়ালে আমিও মামলা করবো।
এ বিষয়ে টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ মো.কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে উভয়ের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
##