সিরাজগঞ্জে ফটোকপির ম্যাধ্যমে পর্চা বিক্রিয়ের ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত

মারুফ সরকার :সিরাজগঞ্জ,

সরকারী বিধিবিধান অনুযারী, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচ তলায় কাউন্টারে নির্ধারিত কোর্ট ফি জমা দিয়ে যে কোনও পর্চার জন্য আবেদন করতে হয় এবং তাদের দেওয়া তারিখ অনুযায়ী রেকর্ড রুম থেকে পর্চা সংগ্রহ করতে হয়।

কিন্তু আশ্বর্যজনক হলেও সত্যে এগুলোর কোন নিয়ম কানুনই মানছে না,রতনগান্দি ইউনিয়নের, বাহুকা ভূমি অফিসের তফসীলদার (নায়েব) জহুরুল ইসলাম ।

জানা যায়, সরকারী আইনকে অমান্য করে বাহুকা ভূমি অফিসের ঘুষকর নায়েব জহ্রুল ইসলাম গোপনে জমির খতিয়ান বা পর্চা বিক্রি করছে। আর এর বিনিময়ে তিনি জমির মালিকের কাছে নিচ্ছেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, আর এই টাকা যাচ্ছে তার নিজস্ব পকেটে। এর জন্য সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে অন্য দিকে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

এমনই একটি অভিযোগ পেয়ে, সরজমিনে গিয়ে বাহুকা বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে গিয়ে রের্কড বই ও খতিয়ানের পর্চার ফটোকপিসহ নায়েবকে হাতে নাতে ধরে ফেলে এই প্রতিবেদক । কেন তিনি রের্কড বই বেলুপুর-১০৪ বাইরের ফটোকপির দোকানে নিয়ে এসে খতিয়ান বা পর্চা নং ৬৩ ও ১০০ ফটোকপি করছে, এই প্রতিবেদক তাকে জিজ্ঞাসা করলে, এর কোন উত্তর তিনি তিনি দিতে পারেন নি । কারন জমির মালিক তাকে কিছু টাকা ঘুষ দেওয়া মাত্রই সে ফটোকপি করতে এসেছে । এরপর সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সিরাজগঞ্জ সদর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহাকে জানানো হয় ।

আরো পড়ুন :  উত্তরখানে গ্যাস লাইনে লিকেজ : দগ্ধ ৮ জন

তাছাড়াও নাম না বলা শর্তে, কিছু এলাকাবাসী জানান, বাহুকা ভূমি অফিসের তফসীলদার (নায়েব) জহুরুল ইসলাম একজন ঘুষকর, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি, তিনি টাকার বিনিময়ে সব কিছু করতে পারে । এখানে পয়সা দিলে কাজ হয়, না দিলে হয়রানী শেষ নাই। আমাদের এলাকায় অনেক মানুষ তার হয়রানীর শিকার হয়েছেন ।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জে সদরের সড়াতৈল এলাকার গোলাম মওলা (৮০) জানান, আমি একজন বয়স্ক মানুষ মরে যাওয়ার আগে আমার জমি জমার সকল কাগজপত্র ঠিক করার জন্য নায়েবের কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু নায়েব জহুরুল ইসলাম আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার কাছ থেকে অতিরিক্ত ১,৫০,০০০ টাকা ঘুষ চেয়েছিল। আমি ঘুষ দেয়নি বলে আমাকে সে বিভিন্ন হয়রানি করেছে আর বলেছে জমির কাগজপত্র ঠিক করতে আমাকে ছাড়া সম্ভব নয়, ঘুরে ফিরে আমার কাছেই আসতে হবে, আর আমাকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে তো সেটা সম্ভবই নয় ।

আরো পড়ুন :  ফরিদপুরে আবাসিক হোটেলে অভিযান ১২ যুবতীসহ ৩০ জন আটক

তাই উপায় না পেয়ে আমি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সিরাজগঞ্জ সদর সহকারী ভূমি কমিশনার বরাবর আবেদন করেছি, এর উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে । কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেল কোন খবর নাই ।

এ বিষয়ে নায়েব জহরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে ,তিনি বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে সংবাদটি পরিবেশন না করার জন্য অনুরোধ জানান ।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সদর সহকারী ভূমি কমিশনার রিপন কুমার সাহা জানান, কোনভাবেই সরকারী রের্কড বই ফটোকপি করে খতিয়ান বা পর্চা বিক্রিয় করা যাবে না, এটা সর্ম্পন্ন আইন বিরধী জঘন্যতম অপরাধ, এটা যদি কেউ করে থাকে আর সেটা যদি কোনভাবেই প্রমানিত হয়, তাহলে এর বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ নেব ।

 

32Shares