কোনো ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী করার জন্য নিয়মনীতি বাদ দেবেন না

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তিকে চিরস্থায়ী করার জন্য নিয়মনীতি বাদ দিয়ে আপনারা কাজ করবেন না। যাকে বাঁচাতে চান তিনি যখন খাদে পড়বেন আপনারা তখন যাবেন কোথায় ?’ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার : জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা আপনাদের কিছু বলবে না। কিন্তু জনগণ যারা সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা যদি হাত তুলে তাদেরকে থামাবে কে? সেজন্য বলব, যার যা দায়িত্ব সেভাবে পালন করুন।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। অতএব জনগণের ওপর চোখ রাঙাবেন না। আপনাদের সম্পত্তি দিয়ে আপনারা বেতন পান না। আপনারা জনগণের সেবক, সেজন্য আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব, আপনারা জনগণের সাথে চোখ রাঙাবেন না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিনা ভোটে ১০ বছর তো চালালেন। এখন একটাবার একটু দেখেন, জনগণ আপনাকে কতটুকু চায়? দেশের জনগণের সাথে তো আপনার দূরত্ব কমছে, প্রতিবেশী দেশের সাথে কিন্তু দূরত্ব বাড়ছে। আমরা তো প্রতিবেশী দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই। একাত্তরে তারা আমাদের পাশে ছিল। এজন্য তাদের বন্ধুত্ব অতি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ তো এ বন্ধুত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ওরাও একটা সময় ভারতের কথা শুনত, কিন্তু এখন তারা ভারতের ধার ধারে না। ভারত আগে যা দিয়েছিল তা-ও ফিরিয়ে নিতে বলছে।’

আরো পড়ুন :  আজকের কার্যতালিকায় খালেদার জামিন আবেদন

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আসলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব না, বন্ধুত্ব হলো একজন ব্যক্তির, একটি দলের। কারণ, কোনো দেশ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারে না। বর্তমান সরকারকে দেশের জনগণ চাক বা না চাক আমাদের প্রতিবেশী দেশ তাকে (শেখ হাসিনা) চায়। আমাদের এতেই সন্তুষ্ট হতে হবে এবং প্রতিবেশী দেশের খুশির জন্য এদেরকে ক্ষমতায় রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা ভারত সফর শেষে এসে বললেন, দিল্লি বিএনপিকে পাত্তা দেয় না। বিএনপিকে পাত্তা দিক বা না দিক আপনাদের কী? মালদ্বীপ তো দিল্লিকে পাত্তা দেয় না। তা তো বলবেন না। আর তাছাড়া দিল্লি তো বাংলাদেশের মালিক না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য যেই কাজ করুক না কেন তাদেরকে বিশ্ব দরবারে একদিন আসামি হয়ে দাঁড়াতে হবে।’

আরো পড়ুন :  বাউফলে শ্রমিকদের মধ্যে সনদ বিতরন

তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাব না। আরে আজ যদি খালেদা জিয়াকে ছেড়ে দিয়ে সরকার কাল নির্বাচন দিয়ে দেয় তবে কি সেই নির্বাচনে আমরা যাব? খালেদা জিয়ার সাথে সম্পর্ক হলো গণতন্ত্রের, তিনি রাজনৈতিকভাবে জেলে গেছেন, রাজনীতিকভাবেই মুক্ত হবেন। খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রে যদি জনগণ ভোট দিতে পারে তারা খালেদা জিয়ার ওপরে অসন্তুষ্ট হবে না। সুতরাং খালেদা জিয়া ছাড়া এ দেশে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। সেজন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি জাতির জন্য অপরিহার্য।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ার সরকারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।