সাকিব, মুশফিক, নাসির হওয়ার জন্য..

প্রকাশিত

সূর্যটা হয়ে আছে ডিমের কুসুমের মতো। কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে বাংলাদেশে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) রাস্তা। আধো অন্ধকারে অনেক দূর থেকেই শোনা যাচ্ছে একঝাঁক ছেলেমেয়ের কৌতূহলী গর্জন। স্বপ্ন-দিশারিদের হইহুল্লোড় বলাই ভালো। তাদের মনে সংশয়—স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উচ্চতায় মার খেয়ে যায়, নাকি ধরা পড়ে যায় আসল বয়সটা। সঙ্গে ব্যাটিং-বোলিংয়ের দুশ্চিন্তা তো ঘুরপাক খাচ্ছেই মাথায়। তবু সব পরীক্ষা উতরে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে দুরু দুরু বুকে দাঁড়ানো লম্বা লাইনে। ওই যে হৃদয়ে স্বপ্ন—হতে হবে সাকিব, মুশফিক বা নাসিরদের মতো ক্রিকেট তারকা।

 

 

গতকাল শুক্রবার ভোরে বিকেএসপিতে পা রেখেই দেখা মিলল প্রায় কয়েক হাজার ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারের। সবার কাঁধেই ঝোলানো বড় ব্যাগ, হাতে ফাইলপত্র। কেউ পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বাতাসে ডেলিভারি দিয়ে লেগ স্পিনের গ্রিপটা ঝালিয়ে নিচ্ছে। বয়সে কম হলেও সবারই চোয়ালবদ্ধ মুখ, উতরে যেতে হবে প্রাথমিক পরীক্ষায়।
২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল খেলোয়াড় তৈরির কারখানার আগামী বছরের ভর্তি পরীক্ষা। গতকালই ছিল ঢাকা বিভাগের আবেদনকারীদের নিয়ে শেষ দিন। চার দিনে ৩ হাজার ৭৩৯ জন্য ক্রিকেটার অংশ নিয়েছিল ভর্তি পরীক্ষায়। ঢাকা বিভাগ থেকেই এসেছিল ১ হাজার ৯৮৪ জন।

বিশাল লম্বা লাইনের শেষের দিকে পাওয়া গেল মুগদা থেকে আসা সিফাত আহমেদকে। আবাহনী মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করা এই বোলিং অলরাউন্ডারের আত্মবিশ্বাস, পরীক্ষার্থী অনেক হলেও সে টিকে যাবে, ‘সকালবেলা মুগদা থেকে আসলাম। জানতাম অনেক ক্রিকেটার আসবে। তবে আত্মবিশ্বাস আছে, পারব।’
ক্রিকেটার হওয়াটা এখন বেশির ভাগ বালক বা কিশোরের স্বপ্ন। অনেকেই মনে করে, বিকেএসপি থেকে যেহেতু সাকিব, মুশফিকদের মতো তারকারা উঠে এসেছেন, তাই এখানে ভর্তি হতে পারলেই নিশ্চিত তারকা। তাই প্রতিবছর বড় হচ্ছে লাইন।