শিক্ষক আন্দোলনে অস্থিরতা

প্রকাশিত

প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ—এই তিন স্তরে প্রায় ৯ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আন্দোলন করছেন অথবা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি রয়েছে। তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচ্ছিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও সরকার দেশের সবচেয়ে বড় এই পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ঠিকভাবে সামাল দিতে না পারায় কেউই এখন আর খুশি নয়।

বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে গৃহীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে সব শিক্ষকের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো করার কথা বলা হয়। গত অর্ধযুগেও তা হয়নি। এর মধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিভিন্ন সময় স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো করার কথা বললেও তা আর এগোয়নি। সরকার কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই যখন, যেটা সামনে আসছে, তখনই তা বিবেচনা করায় একধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষকদের জন্য কিছু জটিলতা সরকারই সৃষ্টি করেছে। আবার শিক্ষকদের কিছু দাবি দীর্ঘদিনের, যা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে চাঙা হয়েছে।

বছরের শেষ সময়ে এখন বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও ভর্তির মৌসুম চলছে। নতুন বছরের শুরুতে বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হবে। এই অবস্থায় বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকেরা আন্দোলনে নামায় এসব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই আন্দোলন নিয়ে সরকারের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অতীতেও দেখা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে শিক্ষক সংগঠনগুলো মাঠে নেমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করে। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৬ সালে নির্বাচনের আগেভাগে শিক্ষকদের আন্দোলন করে দাবি আদায়ের নজির রয়েছে। ভোটের রাজনীতির কারণেই ওই সময়গুলোতে সরকার নমনীয় হয়েছিল।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই সরকারের আমলে শিক্ষকদের বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। সব শিক্ষকের বেতন সরকারি চাকুরেদের মতো দ্বিগুণ হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা বেড়েছে। কিন্তু সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়াই যখন, যেটি সামনে এসেছে এবং সরকার চাপ অনুভব করেছে, তখনই সেটি মেনে নেওয়া হয়। এর ফলে এক অংশের শিক্ষকদের সঙ্গে আরেক অংশের বিরোধ সৃষ্টির মতো ঘটনাও ঘটছে।

দৃষ্টান্ত হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরোধের প্রসঙ্গটি এসেছে। গত শনিবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা ব্যবধান কমিয়ে বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বৈঠকে মন্ত্রী ঘোষণা দেন যে প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড করার উদ্যোগ আপাতত স্থগিত রাখা হবে। এতে প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির ২৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষক এবং পাঁচ বা ততোধিক সহকারী শিক্ষক থাকেন। সহকারী শিক্ষকেরা আন্দোলন করতে এসে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। প্রধান শিক্ষকেরা মনে করছেন, সহকারী শিক্ষকদের কারণেই তাঁদের দশম গ্রেডে যাওয়ার উদ্যোগ থেমে গেল। এ নিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হবে।

এমপিওভুক্তির দাবি

এমপিওভুক্ত নয়, দেশে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এখন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁরা বলছেন, সরকারের সব শর্ত মেনে তাঁরা শিক্ষকতা করলেও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। গতকাল শুক্রবার চতুর্থ দিনের মতো তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। কাল রোববার থেকে তাঁরা আমরণ অনশন শুরু করবেন।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী প্রথম আলোকে বলেন, আমরণ অনশন ছাড়া আর কোনো বিকল্প তাঁদের সামনে নেই।

সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। সরকারি দলের সাংসদদের অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি চান। কিন্তু অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ায় এবং বছরের পর বছর রাজনৈতিক কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করায় শিক্ষা বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি নিজেও চেষ্টা করছেন। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেনদরবার চলছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে কমিটি হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, এমপিওভুক্তি হতে হবে প্রয়োজনের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়।

এমপিওভুক্তদের দাবি জাতীয়করণ

দেশে মাধ্যমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৩৭ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় ৫ লাখ। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে ২৬ হাজার। এগুলোর ৪ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী সরকার থেকে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। তাঁদের এমপিওভুক্ত শিক্ষক বলা হয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় সব সংগঠন এখন শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে ধাপে ধাপে আন্দোলন করে আসছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির একাংশের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ কয়েকটি দাবি আদায়ে সমমনা ৯টি সংগঠন এক হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা ইঙ্গিত দেন, দাবি পূরণ না হলে মার্চ থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে।

জাতীয়করণের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এ জন্য প্রচুর অর্থ দরকার। এ মুহূর্তে এটা কঠিন। আর এটি সরকারের সার্বিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

 

 

প্রবীণ শিক্ষকনেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সন্তানদের অধিকার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ও প্রকাশ্য নীতিমালার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে। আরেক প্রবীণ শিক্ষক নেতা মাজহারুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে টাকা দেয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যে আয় হয়, সেটা মিলিয়ে আর কিছু টাকার সংস্থান হলে জাতীয়করণ করা সম্ভব এবং এটা করা উচিত। তবে সেটা অবশ্যই সুপরিকল্পিতভাবে করতে হবে।

ক্ষুব্ধ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকেরা

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৩ হাজার ৬০১টি। মোট শিক্ষক প্রায় সোয়া ৩ লাখ। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণি ঘোষণা করে। কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল করা হয় ১১তম গ্রেডে। আর প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয় ১২তম গ্রেড। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল হয় ১৪তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের স্কেল নির্ধারণ হয় ১৫তম গ্রেডে।

তখন থেকেই সহকারী শিক্ষকেরা তাঁদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে রাখার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকেরা বলে আসছেন, তাঁদের চাকরি দ্বিতীয় শ্রেণি হলেও বেতন স্কেল করা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির। এ জন্য তাঁরা দাবি করে আসছেন, তাঁদের বেতন স্কেল এক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেড করতে হবে।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর সম্প্রতি সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ বাড়িয়ে দশম গ্রেড করার উদ্যোগ নেয়। এই খবরে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে নতুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা প্রধান শিক্ষকের চেয়ে এক ধাপ নিচের স্কেলে বেতন নির্ধারণ করার দাবিতে গত শনিবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে নামেন। তিন দিনের মাথায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান শহীদ মিনারে গিয়ে আমরণ অনশন ভাঙান। কিন্তু সরাসরি দাবি না মানায় ক্ষুব্ধ মন নিয়ে বাড়ি ফেরেন সহকারী শিক্ষকেরা। এ জন্য তাঁরা শিক্ষকনেতাদের দুষছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র এস এম ছায়েদ উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে করা নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু দাবি করে প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড করার উদ্যোগ থামিয়ে দেওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন।

একাধিক প্রাথমিক শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, এখানে সরকারই জটিলতার সৃষ্টি করেছে। ২০১৪ সালেই যদি উভয় পক্ষের মধ্যে বৈষম্য কমানো হতো, তাহলে এখন এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

কলেজশিক্ষকদের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার আন্দোলন

দেশে ৩৩৫টি সরকারি কলেজ আছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে বেসরকারি কলেজকে সরকারি করা হবে। নতুন করে আরও ২৮৩টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু আগে থেকে নীতিমালা ছাড়াই এতগুলো বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণ করায় সংকট তৈরি হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ঘোষিত মানদণ্ড না থাকায় ভালো ও পুরোনো কলেজ বাদ দিয়ে যেনতেন কিছু কলেজ জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনও হয়েছে।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত করার উদ্যোগ তাঁরা মানবেন না। তাঁদের নন-ক্যাডার রাখতে হবে। এই দাবিতে গত ডিসেম্বর থেকে তাঁরা আন্দোলন করছেন। গত ২৬ ও ২৭ নভেম্বর সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। একই দাবিতে আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি আবারও পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির ঘোষণা রয়েছে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, পর্যালোচনা করে আন্দোলনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অন্যদিকে জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজশিক্ষকেরা বলছেন, তাঁদের আগের মতো ক্যাডারভুক্ত করতে হবে।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু একসঙ্গে অনেক কলেজ জাতীয়করণ হচ্ছে, তাই তাঁরা ক্যাডার ও নন-ক্যাডার আলাদা করেই নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা ধর্মঘট করলেন, যা তাঁরা করতে পারেন না। এ জন্য নীতিমালার কাজও বন্ধ আছে।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দাবি

টাইম স্কেল ও পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। সারা দেশে ৩৩৬টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ হাজার শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন প্রায় ৮ হাজার।

সমিতির সভাপতি মো. ইনছান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ৫ শতাধিক সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। এরপরও পদোন্নতি হচ্ছে না। শিগগিরই দাবি পূরণ না হলে কেন্দ্রীয় সভা ডেকে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মাদ্রাসার শিক্ষকেরাও আন্দোলনে

সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা (দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত) জাতীয়করণ, ওই সব মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন স্কেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো করাসহ কয়েকটি দাবিতে ওই সব মাদ্রাসার শিক্ষকেরাও আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা আছে ৯ হাজার ৩৫৫টি। এগুলোর শিক্ষকসংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। বাংলাদেশ সংযুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষক সমিতি ফাউন্ডেশনের ডাকে গত মঙ্গলবার থেকে তিন দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ওই সব শিক্ষক। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষকেরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষকদের পৃথক বেতনকাঠামো করাসহ অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষানীতিতে স্পষ্ট কিছু নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও গত ৭ বছরে শিক্ষানীতির সে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি বলেন, পৃথক বেতনকাঠামো করলেই সঙ্গে সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তা নয়, কিন্তু পদক্ষেপ তো নিতে হবে।