টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সকল সদস্যদের একযোগে পদত্যাগ ॥ কমিটি বাতিলের দাবি

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত :
আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ‘পকেট কমিটি’ ঘোষণার প্রতিবাদে টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পদত্যাগ করেছে। কমিটির সভাপতি হাজী মোখলেছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাজী জাহাঙ্গীর আলম ভেন্ডার স্বাক্ষরিত এক পদত্যাগ পত্র বৃহস্পতিবার টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখে এবং সবচেয়ে বেশি হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এমন ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি বরং কমিটিতে আওয়ামীলীগ পরিবারের একজন সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটি কমিটি গঠনের দাবী জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু গত ২৫ জুলাই ঘোষিত মহানগর কমিটি সম্পূর্ণ একপেশে হয়েছে। যারা প্রকৃত আন্দোলন সংগ্রামে কখনো রাজপথে ছিলেন না বরং কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামেমাত্র কর্মসূচী পালন করে ফেইসবুকে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন এমন ধোঁকাবাজদের নব গঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে রাখা হয়েছে। টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পদ ত্যাগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি তাদের পদত্যাগ পত্র পেয়েছি। যেহেতু এব্যাপারে আমার কোন করণীয় নেই, সেহেতু পদত্যাগ পত্রটি জেলা বিএনপির কমিটিতে পাঠিয়েছি।
এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের গাজীপুর মহানগরির বিতর্কিত কমিটি গঠনের প্রতিবাদে নগরির পূবাইল সাংগঠনিক থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটি থেকেও সকলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পূবাইল সাংগঠনিক থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর আতাউর রহমান পদত্যাগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৫০ লাখ টাকার গাড়ির বিনিময়ে এই বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি চাই। তিনি বলেন, ঢাকায় বসে বিশেষ কারোর তদবিরে কমিটি ঘোষণা
দিলে আমরা তা মেনে নিতে পারি না বরং গাজীপুর বিএনপিসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের জৈষ্ঠ্য নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আন্দোলনমুখর কমিটি উপহার দিতে হবে। দেশ ও দলের ক্লান্তিলগ্নে গাজীপুরের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় কমিটি গঠনের আগে অনেক হিসাব নিকাশ কষতে হয়। মাঠ পর্যায়ের জরিপ ও সিনিয়র নেতাদের মতামত নিতে হয়। কিন্তু তা না করে ঢাকায় বসে যেভাবে কমিটি দেয়া হচ্ছে এসব কমিটির নেতাদের ভবিষ্যতে আন্দোলনে পাওয়া যাবে না বরং তারা কাপুরুষের মত ঘরে বসে কর্মসূচী পালন করে ফেইসবুকে ফটোসেশন করবে। নবগঠিত কমিটিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ বহনকারীদের অতীতেও এমন রেকর্ড রয়েছে।
এদিকে গাজীপুর জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নব গঠিত কমিটি নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক চলছে। প্রায় ১৮ বছর পর ছাত্রদলের কাঙ্খিত কমিটি গঠন না হওয়ায় নগরির সর্বত্র প্রতিবাদ চলছে। নবগঠিত বিতর্কিত কমিটি বাতিলের দাবীতে নগরির বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপরদিকে প্রায় ১৬ বছর পর যুবদলের কাঙ্খিত কমিটি গঠন না হওয়ায় এবং নতুন বিতর্কিত কমিটি বাতিলের দাবিতে জেলা বিএনপি অফিসে সম্প্রতি আগুন দিয়েছে সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তবে সবচেয়ে বিতর্ক চলছে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে। যাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে তারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ভুমিকা রেখেছেন তো দূরের কথা তাদের অনেকের নামই ইতিপূর্বে শোনা যায়নি। অনেকটা অজ্ঞাত পরিচয় ও কথিত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
##

আরো পড়ুন :  শপথ নিলেন রসিকের নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার