দুই সশস্ত্র বডিগার্ড পাহারা দেয় মাফিয়াদের আতঙ্ক এই কুকুরকে!

প্রকাশিত

৬ বছর বয়সী স্নিফার (প্রখর ঘ্রাণশক্তিসম্পন্ন) কুকুর সোম্ব্রাকে ধরে নিয়ে দিতে পারলে ৭০০০ ডলার ইনাম মিলমে- সেই ইনাম আবার দেবে পুলিশ না মাফিয়ারা!

জার্মান শেফার্ড প্রজাতির এই কুকুরটি কলম্বিয়ার ড্রাগ মাফিয়াদের দিনের বিশ্রাম আর রাতের ঘুম হারাম করে রেখেছে। মাদক বিরোধী পুলিশ স্কোয়াডের সঙ্গী কুকুরটি মাছের ঝুড়িতে, ফলের কনটেইনার আর সাধারণ ব্রিফকেস-স্যুটকেসে লুকিয়ে রাখা কোকেন খুব সহজেই বের করে ফেলে গন্ধ শুঁকে শুঁকে।

একবার কলার বাক্সে লুকিয়ে ২৯৫৮ কেজি কোকেন পাচার করা হচ্ছিল। সোম্ব্রা তা বের করে ফেলে শুঁকে শুঁকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর এক হিসেবে দেখা গেছে, কুকুরটি ৫.৩ টন কোকেন উদ্ধারে পুলিশকে সহায়তা করেছে।

বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনরত সোম্ব্রা     ছবি: এপি

কিন্তু নিজের এই গুণপনার জন্য সে বর্তমানে দেশটির অতি কুখ্যাত আর ক্ষমতাধর ড্রাগ-লর্ডদের চক্ষুশূল- আছে গুম-খুনের ঝুঁকিতে। তারা চাইছে যে কোনো মূল্যে সোম্ব্রাকে পাকড়াও বা শেষ করে দিতে। এখন পর্যন্ত তার মাথার দাম সাত হাজার ডলার পর্যন্ত উঠলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্ক অনেক বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন :  বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও নির্বাচন করতে পারবেন, যদি…

কলম্বিয়া পুলিশ জানিয়েছে, সোম্ব্রাকে নিয়ে মাফিয়াদের এমন তৎপরতার খবরে তারা কুকুরটির নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তার জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

দেখা গেছে, প্রতি ৬ ঘণ্টা ডিউটির পর কুকুরটিকে সুরক্ষিত বিশ্রামাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া সবসময় দুজন সশস্ত্র গার্ড পাহারা দেয় তাকে। কুকুরটির তত্ত্বাবধায়ক পুলিশ কর্মকর্তা জোস রোজোস বলেন, সোম্ব্রার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। সে যখনি কোনো সাফল্য অর্জন করে তখন তাকে খেলার বল দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

আরো পড়ুন :  বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

মাদককারবারীদের আতঙ্ক সোম্ব্রা 

রাজধানী বোগোতার পুলিশ সূত্র জানায়, সোম্ব্রার কর্মকুশলতার সূত্রে এখন পর্যন্ত ২৪৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এখন দেশের দুটি বড় বিমানবন্দরে তার ডিউটি রাখা হয়েছে। এই সময়কালে সে প্রায় ৮৪ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করে দিয়েছে। ২০১৭ সালে সোম্ব্রা ১.১ টন কোকেন জব্দে ভূমিকা রেখেছে।

প্রসঙ্গত, দুনিয়াজুড়ে অবৈধ মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কুখ্যাতি আছে কলম্বিয়ার। দেশটির সরকারগুলো নিয়মিতই মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। কিন্তু অতি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আর বেপরোয়া স্বভাবের বলে বলীয়ান দুর্বৃত্তদের নির্মূল করা সহজসাধ্য কখনোই হয়ে ওঠেনি। জাগরন.কম

5Shares