সাংবাদিক নির্যাতন ও টেলিভিশনের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

প্রকাশিত

সিক্স ডেস্ক: সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর শাসক দলের সন্ত্রাসীদের হামলা এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলে লাইভ ও সংবাদ প্রচারের ওপর বিধিনিষিধ আরোপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র নেতৃবৃন্দ।

বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে’র সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন শনিবার রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকায় ছাত্র বিক্ষোভের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সরকার দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদে হামলায় অন্তত ৮জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একই অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় ডটকমের কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলোর স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন :  মেহেরপুরে বোমাসহ দুই ডাকাত আটক

ডেইলী স্টারের ফটো সাংবাদিক শায়েল রেজা, সেলিম সাদমান ও প্রতিবেদক রফিকুল ইসলামকে ঝিগাতলায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় মারধোর করে থানায় নিয়ে ৪ঘন্টা আটকে রাখা হয় এবং তাদের ক্যামরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। একই পত্রিকার আরেক সাংবাদিক সুষ্মিতা সায়েন্স ল্যাবরেটরী মোড়ে লাঞ্ছিত হন সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের আরও অন্তত: ৪জন সাংবাদিক শনিবারের হামলায় আহত হয়েছেন।

কর্তব্যরত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনে বাধা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিকদের হত্যা-নির্যাতন মামুলি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারিদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

আরো পড়ুন :  খালেদার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত আদালতের কাছে

বিবৃতিতে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উত্তাল আন্দোলনের সময় সংবাদ পরিবেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করে বেসকারি টেলিভিশনের কর্তৃপক্ষকে তথ্য মন্ত্রণালয় যে পত্র দিয়েছে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপের সমতুল্য। এত দিন অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশীপের কবলে পড়ে এমনিতেই গণমাধ্যমজুড়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন সরাসরি এবং প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সরকার স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।