টঙ্গীতে নেত্রীর ভাই সন্ত্রাসী ঈসমাইল বাহিনী কর্তৃক ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত মঙ্গলবার টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী শাহাদাত হোসেন সাদু (২৪) কে কলেজ গেইট এলাকা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এলঅকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ঈসমাইলসহ তার সহযোগীরা। এঘটনার প্রতিবাদে এবং তাকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে সাদুর সহপাঠী ও কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগ কর্মী শাহাদাত হোসেন সাদুকে কলেজ গেট এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ মহিলালীগের সাংগঠনিক সম্পাদিকা আয়েশা আক্তার আশার ছোট ভাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ঈসমাইল বাহিনীর প্রধান ঈসমাইলসহ তা সহযোগীরা। পরে তাকে সুরতরঙ্গ রোডের দেওয়ান মঞ্জিলের পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের দোতলায় নিয়ে ঈসমাইলসহ তার সহযোগী তানন, লাড্ডু, হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন যুবক লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এদিকে সাদুকে তুলে নেওয়ার পর তাকে কুপিয়ে হত্যা ও গুম করার গুজব ছড়িয়ে পড়লে সাদুর সহপাঠি এবং টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কয়েকশত কর্মী রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ঈসমাইলকে গ্রেফতার ও তার শাস্তির দাবীতে অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো.হাসানুজ্জামান ও স্থানীয় কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা এবং কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে সুরতরঙ্গ রোডে প্রবেশ করে। তাদের উপস্থিতি ঠের পেয়ে সন্ত্রাসীরা সাদুকে জোরপূর্বক চেতনানাশক ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকার দেওয়ান মঞ্জিলের পার্শ্ববতী নির্মাণাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় সাদুকে উদ্ধার করা হয়।
সাদুর সহপাঠী ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ এ প্রতিনিধিকে জানান, সাদুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায় ঈসমাইল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হওয়ায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, সাদুর সারা শরীরে নীলাফুলা ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার পায়ুপথেও কাটা জখমের চিহ্ন রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদিকা আয়েশা আক্তার আশা তার ছোট ভাই সন্ত্রাসী ঈসমাইল ও ঈসমাইল বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে টঙ্গীর চেরাগআলী কলেজস্থ ঢাকা ময়মনসিংহ রোড, আউচপাড়া ও সুরতরঙ্গ রোডের ফুটপাত দখল করে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এছাড়াও আয়েশা আক্তার আশা ও তার সন্ত্রাসী ভাই ঈসমাইলের কাজে কেউ বাঁধা দিলে কিংবা তাদের কথা না শুনলে মিথ্যা মামলা দিয়ে ওইসব লোকজনকে হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে।

আরো পড়ুন :  র‌্যাব ৬-ঝিনাইদহ এর সফল অভিযানে ৩৫২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, গ্রেফতার-১


অপরদিকে স্থানীয় থানা পুলিশ ঈসমাইলকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠালেও আইনের ফাঁক-ফোঁকরে অতি সহজেই বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো ওইসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
এব্যাপারে আওয়ামী মহিলা লীগ নেত্রী আয়েশা আক্তার আশার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যখন এ এলাকায় কোন নেতার বাড়ি ছিলো না তখন ওই আমলে আমার বাবার আউচপাড়ায় দুটি বাড়ি, তাছাড়া আমার স্বামী হেলথের মেকানিক্স এবং হেড অফিসের পরিচালক ঘুষ খাইলে মাসে ৬০/৭০ লাখ টাকা কামাতে পারে, সে ২ লাখর উপরে বেতন পায়, তাছাড়া সে ৫/৬ টি কোম্পানীর ডিলার এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। আমরা কি সাধারণ জীবন যাপন করতে পারি না ? এছাড়া দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যদি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি তাহলে মানুষের সেবা করবো কি করে ? আপনি আমার সম্পর্কে জানেন না, আমি আমার ভাইকে ধরিয়ে দিতে ডিবি পুলিশের কাছে লিখিত দিয়েছি, তাকে ধরে রিহ্যাবে দিতে চেষ্টা করছি। প্রতিদিন তাকে ধরার জন্য থানায় ঘুরছি। তাছাড়া ওই ছেলেকে (সাদুকে) আমি চিনি না জানি না এই প্রথম তার নাম শুনলাম। কি ঘটনা ঘটেছে আমার জানা নেই। তাছাড়া কোন পুলাপাইন বাসায় গিয়ে হামলা, জিনিসপত্র ভাংচুর, বা কাউকে মারধর করতে পারে ? আমার বাসায় তা করা হয়েছে। আমি হাই কোটের ল’ইয়ারের সাথে কথা বলেছি আদালতে যাবো, এঘটনার সুষ্ট পূর্ণ তদন্ত চাইবো, অপরাধীর শাস্তি হোক তা আমিও চাই। আমার চাচা শ্বশুড় হলো অর্থমন্ত্রণালয়ের সচিব, আমি খারাপ হলে ঐ সংসার করতে পারতাম না ? আমি এসব করতে যাবো কেনো ? আমার কি কোন কিছুর অভাব আছে ?
টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী শাহাদাত হোসেন সাদুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঈসমাইল ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। আশাকরি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে পারবো।
##

30Shares