ঠাকুরগাঁওয়ে শিকারীদের কবলে বিলুপ্ত প্রজাতির পাখি মদনটাক

প্রকাশিত

মো.সাদ্দাম হোসেন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : শিকারীদের লোলুপ দৃষ্টির মুখে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের সিংহারি গ্রামের বিলুপ্ত প্রজাতির মনদটাক পাখি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। এনিয়ে পাখিগুলোর দেখভালকারী এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হরিপুর উপজেলার সিংহারি গ্রামের আইনুল হকের বাড়ির শিমুল গাছ ও আশপাশের বাঁশঝাড়ে আশ্রয় গড়ে তোলা এ পাখিগুলো যেন গ্রামের বাসিন্দাদের অতি আপনজন। বাঁশঝাড় ও শিমুল গাছ থেকে নেমে বাচ্চা মদনটাক পাখি প্রায়ই হেঁটে হেঁটে চলে আসে লোকালয়ে। তাদের নির্বিঘœ চলাফেরায় নেই কোনও ভয়ভীতির ছাপ। আইনুল হক জানান, তার বাড়ির শিমুলগাছে গত ৩ বছর আগে দুই জোড়া মদনটাক বাসা বাঁধে। পরের বছর আসে ৪ জোড়া। প্রতিবার শীতের সময়ে এসে ৩মাস থেকে পাখিগুলো চলে যায়। গত বছর শীতের শুরুতেই আসে ৬ জোড়া। এবার এসে তারা আর চলে যায়নি। এই ৬টি পাখি বংশবিস্তার করে এখন ১২ জোড়ায় দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো জানান, গতবছর শিলা বৃষ্টিতে পাখিগুলোর কয়েকটি বাসা ভেঙ্গে যায়। সেই থেকে পাখির সংখ্যা কমে গেছে। তবে বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আশপাশের

আরো পড়ুন :  টমটমে ওড়না পেঁচিয়ে স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

লোকালয়ের কোথাও গিয়ে দু’এক জোড়া আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে। আইনুল জানান, কখনো কখনো দেখা যায় ঠান্ডার প্রকোপে পাখিগুলো অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। তখন গ্রামের মানুষ তাদের উদ্ধার করে আগুনের তাপ দিয়ে ও প্রয়োজনীয় সেবা-যতœ করে সুস্থ করে তোলে। পরে আবার ছেড়ে দেয়। সিংহারিতে গিয়ে দেখা গেল, বিলুপ্ত এই পাখিগুলোকে নিয়ে এলাকার মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই তাদের দেখভাল করে। একইসঙ্গে শিশুরাও আছে পাখিগুলোর অভিভাবকত্বের দায়িত্বে। গ্রামের দুই শিশু হোসেন আলী ও সোহেল রানা বলে, পাখিগুলো দেখতে খুব ভাল লাগে। প্রতিদিন সময় পেলেই এই ঝাঁড়ের পাশে এসে দেখি। আমরা কেউই তাদের ঢিল দিই না। কাউকে ঢিল মারতেও দেই না। কিন্তু বিরল প্রজাতির পাখিগুলোর দেখভালে গ্রামের আপামর জনসাধারণের যতটা তৎপর তার তুলনায় স্থানীয় প্রশাসনের তেমন নজরদারি না থাকায় পাখিগুলোর নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। দুর্লভ এই পাখিগুলোর লোভে এলাকায় শিকারীরা এখন তৎপর হয়ে উঠেছে বলে জানান স্থানীয়রা। গ্রামের ও আশপাশের এক শ্রেণীর শিকারী সুযোগ খুঁজতে থাকে তাদের শিকারের জন্য। দূরে কোথাও ফাঁদ পেতে অথবা রাতের আঁধারে বাসায় হানা দিয়ে তারা পাখি ধরে নিয়ে যায়। না হলে এই গ্রামে মদনটাকের সংখ্যা আরও বেশি

আরো পড়ুন :  জীবনী লিখছেন প্রিয়তী

হত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। জানা গেল, কয়েকদিন আগে একটি মদনটাকের বাচ্চা ধরে কাছের বাজারে ৪শ’ টাকায় বিক্রি করে এক চোরা শিকারীরা। ঘটনা জানতে পেরে শিকারি ও ক্রেতার কাছ থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করে বাসার কাছে এনে ছেড়ে দেয় সিংহারি গ্রামের বাসিন্দারা। হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সিংহারিতে ২৪টি মদনটাক পাখি রয়েছে। এদের দেখাশুনা করছে এলাকার মানুষজন। তবে কেউ যেন এদের শিকার করতে না পারে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে।’ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক শহিদুজ্জামান এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এই জায়গাটিতে পাখিদের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে হবে।’ তিনি জানান, পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

 

2Shares