অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে

প্রকাশিত

ফৌজদারি মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে শাহজাদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল মেয়র-২ নাসির উদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলার একটি হাইকোর্টের নির্দেশনায় স্থগিত রয়েছে। অন্য মামলাটি শাহজাদপুর কোর্টে বিচারাধীন থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (বরখাস্ত) নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯-এর ৩১(১) ধারায় (ফৌজদারি) বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করলে কর্তৃপক্ষ মেয়রকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে।

শাহজাদপুর কোর্টের মামলার বিপরীতে সিরাজগঞ্জ জজকোর্টের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) সিরাজুল হক মতামত দিয়েছেন, যেহেতু মামলার অভিযোগ আদালত আমলে নিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে প্যানেল মেয়র-২-এর দায়িত্বে থাকার আর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। শাহজাদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেছেন, স্থগিতাদেশ দেওয়া মামলার কপি জমা দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে প্যানেল মেয়র-২ দায়িত্বে থাকার অপকৌশল নিয়েছেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা ও সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং জজকোর্টের এপিপি সিরাজুল হক ভারপ্রাপ্ত মেয়র নাসির উদ্দিনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মতামতসহ চিঠি পাঠালেও অজ্ঞাত কারণে সেখান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

আরো পড়ুন :  কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ২

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলা ও আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি হয়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে সমকাল সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল মারা যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ায় মেয়র হালিমুল হক মিরু ও প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর প্যানেল মেয়র-২ নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান। এ অবস্থায় বসতবাড়িতে হামলা ও মারপিটের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র হালিমুল হক মিরুর স্ত্রী লুত্ফুন নেছা পিয়ারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। শাহজাদপুর থানার পুলিশ তদন্ত শেষে সব আসামিকে বাদ দিয়ে আদালতে ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। মামলার বাদী চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দিয়ে মামলাটির জুডিশিয়াল তদন্তের দাবি করেন। আদালতের নির্দেশে জুডিশিয়াল তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিস্ফোরক ও মারপিট আইনের দুটি ধারায় আদালতে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গঠন করা হয়। বিস্ফোরক আইনের অভিযোগপত্রটি মামলা হিসেবে সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতে (১) বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসামিপক্ষ ২০১৮ সালের ১১ মার্চ রিট করায় হাইকোর্ট ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন। আর মারপিটের অভিযোগপত্রটি সিআর ১৮১/১৭ (শাহ.) (দ্বিতীয়) মামলা হিসেবে শাহজাদপুর আমলি আদালতে বিচারাধীন। এ মামলার অন্যতম আসামি নাসির উদ্দিন।

আরো পড়ুন :  আইএমডিবি'র বিচারে ২০১৭ সালের সেরা ১০ সিনেমা

আব্দুর রাজ্জাক জামিনে মুক্ত হয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ২০১৮ সালের ১০ মার্চ। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁর কাউন্সিলর পদ ও প্যানেল মেয়র-১-এর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিনের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দাবি করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রাজ্জাকের।

অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বলেন, ‘দায়ের হওয়া মামলায় বিচারিক রায়ে শাস্তি হলে দায়িত্বে থাকতে পারব না। কিন্তু চার্জশিট হওয়ার পর মামলা চলমান অবস্থায় দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই বিধায় ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে রয়েছি।’

2Shares