গাজীপুরে পরিবহন বিপর্যয়,৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা,দুর্ভোগে যাত্রীরা

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার, চ্যানেল সিক্স-

বিকল্প ব্যবস্থা না করে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে গাজীপুরে অটোরিক্সা ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে গাজীপুরবাসী। গতকাল নগরের প্রায় সব রাস্তায় শত শত যাত্রী রোদ মাথায় দাঁড়িয়ে বাস বা অন্য বাহন ধরার তীব্র প্রতিযোগিতায় ছিল। মহাসড়কে বৈধ কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নামায় গাজীপুরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে গত কিছুদিনে। এ অবস্থায় যাত্রীতে ঠাসা বাসগুলোতে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে ওঠার কসরত করতে দেখা যায় অনেককে। মূল সড়কে রাস্তাগুলোতে অটোরিক্সা ইজিবাইক চলাচল করতে না পারার কারণে বাসই ছিল এই দূরত্বে পৌঁছানোর অন্যতম বাহন। এসব কারণে গতকাল সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ে নারী ও শিশুরা। বাসে চাপাচাপি এড়াতে তারা এত দিন অটোরিক্সা ইজিবাইক  ভরসা করেই চলছিল।

ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা বলছে, বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরকার তাদের ‘হিতে বিপরীত’ অবস্থায় ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে তো বাস বাড়ানো, সড়কের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে, তারপর এ ব্যবস্থা। গণপরিবহন হিসেবে বাস কম থাকায় বিকল্প হিসেবে অটোরিক্সা,ইজিবাইক যাত্রীদের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠেছিল। গাজীপুরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতেও  শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শ্রমিক সবার ভরসা হয়ে উঠেছিল অটোরিক্সা,ইজিবাইক। মহাসড়কে অটোরিক্সা,ইজিবাইক চলাচলের কারণে যানজট বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অটোরিক্সা,ইজিবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো। এরপর গাজীপুর জেলা পুলিশ মাইকিং করে অটোরিক্সা ইজিবাইক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

আরো পড়ুন :  সরকার পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে : রিজভী

গতকাল জোর কদমে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন টঙ্গী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নিশাত। ঘাম ঝরছিল কপাল আর শরীর বেয়ে। তিনি বলেন,‘বোর্ডবাজার এক ঘস্টা দাঁড়ানোর পর কোনো বাস পাইনি। অটোরিক্সা,ইজিবাইক  চলছে না। হঠাৎ অটোরিক্সা,ইজিবাইক  বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। সময় বেঁধে দিয়ে, নির্দিষ্ট এলাকা ভাগ করে দিয়ে আপাতত চলতে দেওয়া উচিত।’

রহমত উল্লাহ কলেজগেট মাছ বিক্রি করেন। বড়বাড়ী জয়বাংলা রোড় এলাকায় তাঁর বাসা। গতকাল দুপুরে বড়বাড়ী বাস স্টপে এসে পড়েন বিপদে। কলেজগেট যাওয়ার জন্য সেখানে একটিও বাস নেই। চ্যানেল সিক্সকে তিনি বলেন,‘এই রম তো আগে অয় না। ইজিবাইক দিয়াই বড়বাড়ী থাইকা আসা-যাওয়া করি। আইজ সকালে হাইটা আইলাম। অহন বাসায় ফিরতে আইয়া দেহি বাস নাই। হাইটা গেলে তো অনেক সময় লাগব!’ ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন ‘আমগো তো গাড়ি নাই।-সিএনজি দিয়া চলার ক্ষমতাও নাই। ইজিবাইক দিয়া কম ভাড়ায় যাতায়াত করতাম। সেইডা বন্ধ কইরা দিলে আমগো চইলবো কেমনে!’ ওই সময় রহমত উল্লাহর মতো আরো অন্তত ২০-৩০ জন লোককে ইজিবাইক খুঁজতে দেখা গেল বড়বাড়ী এলাকায়। হঠাৎ ইজিবাইক বন্ধে তাদের কণ্ঠেও প্রবল ক্ষোভ।

আরো পড়ুন :  রাশেদসহ আরও ৩১ শিক্ষার্থীর জামিন পেলেন

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাজীপুরের ভোগড়া,মালেকের বাড়ী ,সাইনবোর্ড,বোর্ডবাজার,কলেজগেট ,চেরাগআলী,ঘুরে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। সবার কণ্ঠেই শোনা গেছে ক্ষোভের কথা।

অটোরিক্সা,ইজিবাইক বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সচিব) সফিকুল ইসলাম মোবাইলে চ্যানেল সিক্সকে বলেন ‘ইজিবাইক অবৈধ গাড়ি। বহু আগেই এগুলো সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আরো ভায়াবহ হয়েছে। মানুষের প্রাণ বাঁচাতেই মহাসড়কে এগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন,কঠিন সিদ্ধান্তের কারণে জনগণকে একটু দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে। এতে অবৈধতা প্রাণনাশের কারণ হবে না।’ সময় বেঁধে দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল—এমন মতামতের বিষয়ে তিনি চ্যানেল সিক্সকে আরও বলেন, আগে বহুবার সময় দেওয়া হয়েছিল। কোনো ফল হয়নি।তবে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমানের মতে, পুলিশ যদি লেগুনা বন্ধ করতে চায় করুক। গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা এ উদ্যোগ নিতেই পারে।

 

9221Shares