গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশিং কার্যক্রম উদ্বোধন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত : আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৮টি থানা এলাকা ও ১ হাজার ১৫২ জনবল নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের লোগো অনুমোদন হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের লক্ষীপুরা এলাকাস্থ গাজীপুর পুলিশ লাইনে ভিডিও কনফারেন্সের সাথে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে বসে মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন নতুন জিএমপি পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে লোকবল নিয়োগ ও পদায়ন, ৮টি থানার জন্য ভবনসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভূক্ত ৮টি থানার আয়তন নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন মেট্রোপলিটন পুলিশিং কার্যক্রম চালু হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি মাদক, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে দাবী করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোর মতো গাজীপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করা হয়েছে। সপ্তম মেট্রোপলিটন অঞ্চল হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের পূর্বের ২টি থানাকে ৮টি থানায় বিভক্ত করে নতুন মেট্রোপলিটন পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মহানগরের নলজানি এলাকায় ভাড়া বাসায় স্থাপিত হয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর। নতুন মেট্রোপলিটন উদ্বোধনের জন্য যেসব প্রস্তুতির প্রয়োজন তার সবগুলো বেশ দ্রুতগতিতে চলছে। আগের ২টি থানা ছাড়াও ৬টি নতুন থানার জন্য ভবন নির্ধারণ, গোলাবারুদ ও গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকাকে ৮টি ভাগে বিভক্ত করে থানার এরিয়া নির্ধারণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭ টি ওয়ার্ডে অবস্থিত ৮ টি থানা হলো: সজয়দেবপুর সদর থানা, বাসন, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, গাছা, পূবাইল এবং টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা।
ডিআইজি পদমর্যাদার ১জন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ২জন উপ-পুলিশ কমিশনার, ৬জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, ১২ জন সহকারী পুলিশ কমিশনার, ২০ জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার জনবলের মধ্যে অধিকাংশ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে যোগদান করেছেন। নতুন মেট্রোপলিটন পুলিশিং কার্যক্রম চালু হলে পুলিশের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে এবং এলাকার ছিনতাই, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধ কার্যক্রম কমে যাবে বলে মনে করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইইউটি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, সমরাস্ত্র কারখানা, সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (টাকশাল), বাংলাদেশ কৃষি ও ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজ, কিশোর ও কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলা কারাগার, টেলিফোন শিল্প সংস্থা, ২টি রেলওয়ে জংশন, তিনটি রেলওয়ে স্টেশন, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ, তিনটি বে-সরকারি মেডিকেল কলেজ ও কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে।
এ ছাড়া অসংখ্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে এই মহানগরের জনসংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ব ইজতেমা গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
এলাকার সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে গাজীপুর ও টঙ্গী পৌরসভা এবং কয়েকটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে প্রায় ৩৩০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গঠিত হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান জানান, নগরবাসীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসন, মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে সিটি এলাকার সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নতুন মেট্রোপলিটন এলাকার ৮টি থানায় কাজ করবে প্রায় সাড়ে ১১শ’ পুলিশ সদস্য। শিল্পাঞ্চল অদ্যুষিত ঘনবসতি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর এলাকা হিসেবে পুলিশের জনবল অত্যন্ত কম। সামনে দিনগুলোতে পুলিশ সদস্য বাড়ানোসহ নগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের দীপ্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছে গাজীপুরের বোদ্ধামহল।

37Shares
আরো পড়ুন :  শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক