ভুলে যেও না- এটা ভদ্রলোকের পাড়া!

প্রকাশিত

মিসেস মিলি সুপার শপে কেনাকাটা শেষে ব্যাগ খুললেন বিল পরিশোধের জন্য। ক্যাশিয়ারের নজরে এলো কাস্টমারের ব্যাগে রয়েছে একটি টিভি রিমোট। কৌতুহলবশত জানতে চাইলেন, ম্যাডাম, ব্যাগে রিমোট নিয়ে ঘুরেন নাকি?

মিলি : সব সময় না, মাঝে সাজে। আজ উনি বিপিএল ফাইনাল দেখবেন বলে শপিংয়ে এলেন না, তাই তাকে সাইজ করতে রিমোটটা নিয়ে এসেছি।

ক্যাশিয়ার : বাহ, ম্যা’ম! আপনার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়।

জবাবে মিলি হাসতে হাসতে ক্রেডিট কার্ড বের করে ক্যাশিয়ারের হাতে দেন।

কিন্তু মেশিনে কার্ড সোয়াইপ করে ক্যাশিয়ার গোমরা মুখে ফেরৎ দিল :

সরি ম্যাম, এটা ইনঅ্যাকটিভ দেখাচ্ছে।

নারী : এটা কী করে হলো? এমন তো হওয়ার কথা নয়।

ক্যাশিয়ার : খেলা দেখতে না পেরে আপনার স্বামী কার্ড ব্লক করে দিয়েছেন মনে হচ্ছে…

মিলি মোটেই আপসেট হলেন না। মুচকি হেসে তিনি এবার পার্স থেকে স্বামীর ক্রেডিট কার্ডটি বের করে দিলেন। তিনি এটিও সঙ্গে করে বের হয়েছিলেন। ঘটনা দেখে ক্যাশিয়ার চমকিত।

আরো পড়ুন :  ফলোঅনের সিদ্ধান্ত তাইজুল জানেন না

ওদিকে সোয়াইপ মেশিন জানালো, আপনার মোবাইলে পাঠানো কোডটি এন্টার করুন। অর্থাৎ বেচারা স্বামীকে বাঁচাতে মেশিনও চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটা দেখে পুরুষ ক্যাশিয়ার মিটি মিটি হাসতে লাগলো মিলির দিকে চেয়ে, যেন বলছে- এবার যাবেন কোথায়, বুবুজান!

কিন্তু এবারও দমলেন না মিলি। তিনি স্মার্ট হাসিটি ধরে রেখে ব্যাগ থেকে স্বামীর সেল ফোনটি বের করলেন।  বুদ্ধি করে এটা সঙ্গে এনেছিলেন যাতে শপিংয়ের মাঝে স্বামী বিরক্ত না করে। বেকায়দা পজিশন থেকে রক্ষায় কাজে লেগে গেল শেষ পর্যন্ত! অবশেষে সব কেনাকাটা করে আত্মতৃপ্ত মিলি বাড়ির পথ ধরলেন।

কিন্তু এসে ধাক্কা! দেখলেন-
গ‍্যারেজে গাড়ি নেই, দরোজায় তালা। দরজায় সাঁটানো কাগজে লেখা,‘বন্ধুর বাড়ি খেলা দেখতে যাচ্ছি, ফিরতে গভীর রাত হবে, জরুরি দরকার থাকলে কল কোরো।

আরো পড়ুন :  ফিরছেন গোবিন্দ-সালমান?

এবার অপ্রতিরোধ্য এই নারী যেন একটু হতাশই হলেন। কারণ, স্বামীর ফোনতো তার কাছে! তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চিন্তার ভার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে তিনি চুলের ক্লিপ দিয়ে দরোজা খুলে ফ্ল্যাটে ঢুকলেন।
এরপর ডিনার শেষে কয়েকটি সিরিয়াল একটানা দেখে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নাক ডেকে ঘুম।

খেলা শেষে মাঝ রাতে বাড়ি ফিরে স্বামী বেচারা চাবি বের করে দরোজা খুলতে ব্যর্থ হলো। ভেতর থেকে সিঁটকিনি আটকানো। ওপরে তাকাতেই দেখলো তার নোটিশের ওপর আরেকটি নোটিশ সাঁটানো। তাতে লেখা-

‘আজ গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়ো। কলিংবেল বাজিয়ে লাভ নেই, তার খুলে রেখেছি। আর দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে মহল্লার মানুষের ঘুম ভাঙিয়ে দিওনা। ভুলে যেও না- এটা ভদ্রলোকের পাড়া…’
গল্পের শিক্ষা : নারীশক্তি অবজ্ঞার পাত্র নয়! (সংগৃহীত)

6Shares