প্রশ্নপত্র প্রণয়নে হচ্ছে প্রশ্নব্যাংক : নুরুল ইসলাম নাহিদ

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিনিধিঃ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়নে গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সব বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগে প্রশ্নব্যাংক তৈরি করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বর্তমান বোর্ডগুলোর প্রশ্নব্যাংক তৈরির সফটওয়ারের কাজ চলছে। সফটওয়ারটি তৈরি হলে বাংলাদেশ পরীক্ষা মূল্যায়ন ইউনিট কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ অনলাইনে তৈরিকৃত প্রশ্নপত্র প্রশ্নব্যাংকে প্রেরণ করবেন। প্রেরিত প্রশ্ন হতে সুপার মডারেটর কর্তৃক মডারেশন হয়ে পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। এর ফলে পাবলিক পরীক্ষাসমূহের প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফা তাহেরের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। উন্নয়নকে গতিশীল ও স্থায়ী করতে এসডিজিতে শিক্ষাকে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দেশের সবার জন্য যুযোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বমান অর্জনে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে এবং জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে এ প্রয়াস সহায়ক হবে বলে আশা করি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস শিক্ষাক্ষেত্রে গৃহীত কার্যক্রমসমূহ রূপকল্প-২০২১ এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষক-অভিভাবক-সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কমিউনিটি নেতা-ইমাম-গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে এরূপ কার্যক্রমের বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুযোপযোগী করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘আল হাইয়াতুল উলুম লিলজামি আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদ্রাসার হাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি বর্তমানে সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে।
আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তি বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে। তবে কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে করা হবে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
দেশে প্রতিবন্ধী ১৬ লাখ
সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে শনাক্তকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯৪ জন।  রবিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের আক্তার জাহানের করা অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীকে পরিবারে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কর্মসূচি আছে। মন্ত্রী বলেন, সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এই হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কর্মসূচি আছে। তবে সমাজের বাইরে অন্তর্ভুক্ত না করে তাদের পরিবারে পুনর্বাসনের চেষ্টা আমরা করছি। আমাদের লক্ষ্য হিজড়াদের সমাজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা।
মন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানান, সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তা এবং এনজিওদের মাধ্যমে সেই কাজগুলো করছি। কয়েক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে থেকে যে মতামত উঠে আসবে তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মেনন।
বিহারিদের জন্য ৬ হাজার ফ্ল্যাট
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, অবাঙালি বিহারিদের জন্য ছয় হাজার ৩২০টি ফ্লাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার মোহম্মদপুরে বসবাসরত বিহারিদের জন্য ছয় হাজার ৩২টি এবং চট্টগ্রামের হালিশহর হাউজিং এস্টেটের বি ব্লকে ২৮৮টি ফ্লাট নির্মাণ করা হচ্ছে। রবিবার সংসদে সরকারদলীয় সদস্য সোহরাব উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী ঢাকার মোহম্মদপুরে বসবাসরত বিহারিদের জন্য পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধাসহ ফ্ল্যাট নির্মাণ করে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য ঢাকাস্থ কেরানীগঞ্জ উপজেলায় অবাঙালিদের জন্য ছয় হাজার ৩২টি এবং চট্টগ্রামের হালিশহরের বি ব্লকে ২৮৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শহরে ২৬টি প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার ২২০টি প্লট উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ১৩টি প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার ৭৫৭টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। অপরদিকে চলমান ২৯টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ৮৫৫টি প্লট এবং ২১টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩৩ হাজার ১৯১টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ঢাকায় অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিকভাবে বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তিনটি আলাদা প্রকল্পের আওতায় (ভাড়াভিত্তিক) মোট ১১ হাজার ৮৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে আলাদা দুটি প্রকল্পে বস্তিবাসী ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারি অর্থায়নে ১০ হাজার ৫৩০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য চারটি সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৫১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং ১৯টি চলমান প্রকল্পের আওতায় আট হাজার ১৯০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সংস্থান রয়েছে।
Shares
আরো পড়ুন :  মার্চের আগে মুক্তি পাচ্ছে না 'পদ্মাবতী'