নতুন আইফোন নারীদের হাতে অস্বস্তিকর!

প্রকাশিত

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক :নারীদের হাতে উপযুক্ত নয় এমন বড় আকৃতির আইফোন তৈরি করায় অ্যাপলের সমালোচনা করেছে নারীবাদীরা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে স্টিভ জবস থিয়েটারের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ৩টি নতুন মডেলের আইফোন উন্মোচন করে। নতুন আইফোনগুলো হচ্ছে- আইফোন এক্সএস, এক্সএস ম্যাক্স এবং এক্সআর। আইফোনগুলোর স্ক্রিন সাইজ যথাক্রমে ৫.৮ ইঞ্চি, ৬.৫ ইঞ্চি এবং ৬.১ ইঞ্চি।

নারীদের হাতের জন্য এত বড় আকৃতির ফোন স্বস্তিকর নয় উল্লেখ করে অ্যাপলের সমালোচনা করেছেন নারীবাদীরা। আইফোন এসই (৪ ইঞ্চি) এর মতো ছোট আকৃতির আইফোন হাতে ধরাটা নারীদের জন্য সুবিধাজনক। কিন্তু অ্যাপল বড় আকৃতির আইফোন তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে।

এজন্য যুক্তরাজ্যের ক্যারোলিন ক্রিয়াডো পেরেজ নামের একজন নারী অধিকার ও সমঅধিকার কর্মী আইফোন প্রস্তুতকারক অ্যাপল কর্তৃপক্ষের প্রতি টুইটারে হতাশা প্রকাশ করেছেন। টুইটারে তিনি লিখেন, ‘এটা পরিষ্কার হলো যে: বেশিরভাগ নারীদের হাতের মুঠোয় ফিট হবে এমন আইফোন বাজারে আনতে অ্যাপল আবারো ব্যর্থ হয়েছে। এত বড় আকৃতির আইফোন হাতে ধরতে আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করবো না। অ্যাপলের সমস্যাটা কী? আমি আশা করি, বেশিরভাগ নারীদের হাতের মুঠোয় ফিট হবে এমন আকৃতির আইফোন বাজারে আনবে অ্যাপল। পুরুষের তুলনায় আইফোন বেশি কিনে নারীরা।’

আরো পড়ুন :  গাজীপুরে গাছায় পিস্তুলসহ যুবক গ্রেফতার

আইফোন এসই বন্ধ হওয়ার পর সবচেয়ে ছোট আকৃতির আইফোন হিসেবে বাজারে বর্তমানে রয়েছে ৪.৭ ইঞ্চি স্ক্রিনের আইফোন ৭ এবং আইফোন ৮।

২০১৪ সালে অ্যাপল আইফোন ৬ এবং পরবর্তীতে বছরের আইফোনগুলোতে সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি ফিচার যুক্ত করে। যা আইফোনের ডিসপ্লের ওপরের কনটেন্টগুলোকে ডিসপ্লের মাঝামাঝিতে নিয়ে আসে, যা ব্যবহারকারীদের এক হাতে আইফোন ব্যবহারের সুবিধা দেয়।

অ্যাপলের সমালোচনায় যোগ দিয়ে সোফিয়া ওয়াকার নামের একজন নারী সমঅধিকার নেত্রী বলেন, ‘অ্যাপল কোম্পানিতে উচ্চ পর্যায়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব না হওয়া পর্যন্ত নারীদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো কোম্পানিতে পরবর্তী চিন্তাভাবনা হয়ে থাকবে।’

আরো পড়ুন :  শাহজালালে আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি ওষুধ জব্দ

তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাপলের যুক্তরাজ্যের অফিসে নারী ও পুরুষ কর্মীর মধ্যে বেতন বৈষম্য ২৪ শতাংশ এবং বোনাস বৈষম্য ৫৭ শতাংশ, তাই এটা পরিষ্কার যে অ্যাপলের জন্য বড় সিদ্ধান্ত কারা গ্রহণ করছে এবং তারা নারী নয়।’

‘সুতরাং এটা অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয় যে, কোম্পানিটি এমন ভোক্তাদের নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে না, যারা পুরুষ নয়। কিন্তু এ বিষয়টি হতাশাজনক। কারণ ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, পুরুষের তুলনায় আইফোন বেশি কিনে থাকে নারীরা।

যা হোক, এই সমালোচনা সবাই অবশ্য সমর্থন করেননি। অনেকেই এ ধরনের সামান্য বিষয়ের সমালোচনা নারীবাদের খারাপ চেহারা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অ্যাপল এ ব্যাপারে এখানো কোনো মন্তব্য করেনি।

তথ্যসূত্র : মিরর

Shares