সাড়ে ৯ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন করেছে

প্রকাশিত

সচিবালয় প্রতিবেদক :এমপিওভুক্তি বা বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য সাড়ে নয় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বুধবার সচিবালয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সেমাবার সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যারা এমপিওভুক্ত না এবং সব প্রতিষ্ঠানের কাছে অনলাইনে আবেদন চেয়েছি। ইতোমধ্যে নয় হাজার ৪৮৯টি আবেদন জমা পড়েছে। এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি, কেবিনেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়েও পর্যবেক্ষণ করব। যাচাই-বাছাই শেষ হলে  এবার এমপিও দেওয়া হবে, এটা আমি নিশ্চিত করছি। যাচাই-বাছাইয়ের পরে উপযুক্ত সময়ে দেওয়া হবে। এটার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা।

সংখ্যা কত হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অর্থপ্রাপ্তি সব কিছু মিলে সরকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেব। কী পদ্ধতিতে দেব সেটাও সেখানে সিদ্ধান্ত হবে।

আরো পড়ুন :  ‘সঞ্জীব উৎসব’ সোমবার

নির্বাচনের আগে এমপিও দেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যাচাই-বাছাই করে দেওয়া হবে।

বেসরকারি শিক্ষকদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং ৫ শতাংশ বৈশাখী ভাতার দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারের কাছে অবগতি করেছি। আমরা শিক্ষকের পক্ষে আন্দোলন করি।

প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্তি প্রদানের জন্য গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দেশের মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সভায় মিলিত হন। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার নতুন প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে ‘নন-এমপিও’  প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে এবং স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ হাজার ৪ শত ৯৮টি আবেদন অনলাইনে জমা পড়েছে।’

আরো পড়ুন :  বঙ্গবন্ধু খুনি রশিদের জামাতা গ্রেফতার

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যাছাই-বাছাই চলছে। মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই চলবে। যাচাই-বাছাই করে এমপিওভুক্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আসাদুল হক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আজিজুল ইসলাম ও আব্দুল আওয়াল সিদ্দিকি, বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলম সাজু, স্বাধীনতা মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  কর্মচারী  ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহজাহান খান এবং বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছিনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, শিক্ষক-কর্মচারী ও সকল সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বেসরকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং এগুলো সমাধানে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

Shares