ঢাকায় পছন্দের এলাকায় বাড়ি ভাড়া পাওয়ার উপায়

প্রকাশিত

লাইফস্টাইল ডেস্ক :ঢাকা শহরে থাকার জন্য জায়গা কিভাবে পাবেন? ঢাকায় বাসস্থান খুঁজে পাওয়ার কষ্ট আর ঝামেলা কোনো অপরিচিত ঘটনা নয়!

আপনি যদি জীবনের কোনো একটা সময় রাজধানী ঢাকা মেগাসিটিতে কাটিয়ে থাকেন, তাহলে মানতে বাধ্য হবেন একটা বাসা, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা কেবল একটি রুম ভাড়া করাটাও একরকম অসাধ্য সাধন করার মতো ব্যাপার। এই শহরে তীব্র গতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবার কারণে দিনকে দিন এই কাজটা আরো জটিলতর হয়ে যাচ্ছে।

যদি আপনি এই ব্যাপারটিতে অনভিজ্ঞ হয়ে থাকেন, যা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে শিগগির ঢাকা শহরে পছন্দের জায়গায় ভাড়ার জন্য একটা সুবিধামতো প্রপার্টি খুঁজে পাবার জন্য বিভিন্ন রকম অপশন ভেবে দেখার সময় আপনি ব্যাপারটা ঠিকই বুঝে যাবেন। আপনার প্রপার্টির খোঁজের প্রথম দিনেই আপনি ক্লান্ত হয়ে যাবেন, হতাশা গ্রাস করতে পারে, এমনকি আপনি শারীরিক ভাবেও অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন এবং পুরোপুরি বেড রেস্ট এ চলে যেতে হতে পারে।

ঢাকা ব্যস্ত এবং ঘনবসতিতে পূর্ণ নগরী। এ শহরে সব এলাকাই বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে চলেছে। এখানকার ব্যয়বহুল কিংবা পছন্দসই সাশ্রয়ী মূল্যের রুমগুলো টু-লেট সাইন টানানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ভাড়া হয়ে যায়, হয় ওই দিনের মধ্যেই নাহলে যত জলদি সম্ভব!

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট ভাড়া করার বিভিন্ন উপায়, বা একটি বাসা খোঁজা বা যেকোনো রকম প্রপার্টি খোঁজার ব্যাপারে উপদেশ বা পরামর্শ দেয়া যত সহজ, সত্যি একটা খুঁজে বের করাটা ঠিক ততটা সহজ নয়। অতএব, আপনি একবার যখন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করবেন কিংবা বিভিন্ন প্রপার্টি সামনা সামনি গিয়ে দেখবেন, তখনই সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারবেন কেন সবাই এ ব্যাপারে এতটা হতাশ। কেবলমাত্র কিছু সৌভাগ্যবানেরাই পারেন সঠিক সময়ে তাদের নিজ নিজ পছন্দের এলাকায় একটি পরিষ্কার, বাসযোগ্য ফ্ল্যাট খুঁজে পেতে।

কিন্তু আমাদের মতো বেশিরভাগ মানুষের জন্য এটাই সত্যি যে, আমরা অতটা সৌভাগ্যবান নই, এটা পুরোপুরি খারাপ কোনো সংবাদ নয়। এ প্রতিবেদন আপনাকে কিছু ধারণা দেবে এবং ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট খুঁজে পাবার নানা উপায় সম্পর্কে জানাবে; একই সঙ্গে আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং দ্রুততর অপশন সম্পর্কেও জানাবে।

* প্রপার্টি পরিদর্শন করুন : টু-লেট সাইন এবং পছন্দের এলাকাটি ঘুরে দেখা
ভাড়ার জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়গুলোর মধ্যে একটি এখনো সেই প্রচলিত ঘুরে দেখা পদ্ধতি। আপনার পছন্দের এলাকাটিতে গিয়ে হেঁটে হেঁটে ‘টু-লেট’ কিংবা ‘ফর-রেন্ট’ সাইনগুলো খোঁজ করুন। ঢাকা শহরে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করার অন্যতম কার্যকরী উপায় হলো এটি, কেননা আপনি যে জায়গাটিতে থাকতে চাইছেন সে জায়গাটি স্বচক্ষে দেখে নিতে পারছেন। এছাড়াও আপনি একই দিনে জায়গাটি দেখে এসে শিগগির একটি সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন।

আপনাকে শর্তাবলী জেনে নিয়ে দরদাম করতে হবে এবং যত জলদি সম্ভব ফ্ল্যাটটিতে উঠে যেতে হবে। কারণ পছন্দসই বাসা, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা রুমগুলো পরবর্তী সম্ভাব্য বাসিন্দার কাছেও পছন্দ হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি থাকে। অতএব আপনার পছন্দমতো একটি প্রপার্টি পেয়ে গেলে, যত জলদি সম্ভব তাতে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করুন!

প্রচলিত প্রপার্টি খোঁজার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে পত্র-পত্রিকা এবং শ্রেনীবদ্ধ বিজ্ঞাপনের তালিকা খুঁজে খুঁজে দেখাটাও রয়েছে। এই পদ্ধতি যুগের পর যুগ ধরে এখনো টিকে রয়েছে, কারণ এটা সত্যিই এখনো কাজে দেয়। অনেক কারণ রয়েছে যেগুলোর জন্য সহনীয় দামে কিংবা ভাড়ায় একটি ভালো প্রপার্টির বিজ্ঞাপন পত্র-পত্রিকার শ্রেনীবদ্ধ তালিকায় চলে আসতে পারে। অতএব এই পুরোনো দিনের পদ্ধতিকে একবার হলেও সুযোগ দিয়ে দেখুন।

* সামাজিক হোন : কলিগ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং অন্যান্য পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলুন
একটি ভালো বাসার খোঁজ করার জন্য এটা খুবই দরকারি যে আমরা কিছুটা সামাজিক হই। আপনার কলিগ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিত সকল লোকজনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কথা বলুন এবং তাদেরকে আপনার ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট খোঁজার ব্যাপারটি অবগত করুন। পরোক্ষ ভাবে আপনার পরিচিত সকলকে আপনার প্রপার্টি খোঁজের অংশীদার করে নিন এবং এই কঠিন কাজটিকে অনেকটা সহজ করে তুলুন। আমাদের বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজন হয়তো এমন আরো কিছু মানুষকে চেনেন যারা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন, তাই তারা ভালো একটি প্রপার্টির জন্য খোঁজ রাখতে পারবেন। কিন্তু দিনশেষে সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।

আরো পড়ুন :  ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’

আগেই বলেছি, ঢাকা শহরে ভাড়ার জন্য একটি বাড়ি খুঁজে পাওয়াটা বেশ কঠিন একটা কাজ, কিন্তু আশা হারাবেন না। এ প্রতিবেদনে যেসব আইডিয়া বা বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে তা আপনাকে এই কঠিন কাজটির জন্য প্রস্তুত করার জন্যই। আপনি যখন থাকার জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তখন আসলে কোনো মাধ্যমই যথেষ্ট নয়, সেটা আপনি একা করুন কিংবা পরিবারসহ। এই ব্যস্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকার মতো অনেক ভালো ভালো জায়গা রয়েছে। আপনার বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং কলিগদের কাছে প্রপার্টি ভাড়া দিচ্ছেন এমন মানুষের খোঁজ করাটা সবসময়ই কাজে দেয়। তাই এটা ভাবার কোনো কারণই নেই যে, আপনি কখনোই কোনো জায়গা খুঁজে পাবেন না।

কিন্তু একটি ভালো, পরিষ্কার, ঝামেলামুক্ত ও সাশ্রয়ী মূল্যের প্রপার্টির বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে এবং এটা একটা বোঝার মতো, তাই যে সিদ্ধান্তই নেবেন তা যত দ্রুত নেয়া যায় ততই ভালো। অতএব এই পদ্ধতিতে আপনার আশার তুলনায় বেশ লম্বা সময় লাগতে পারে, কিন্তু পুরোটা সময় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খুঁজতে থাকুন এবং এভাবে আপনি সফল হবেনই।

* রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, বিল্ডার এবং ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এবং দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কার্যকারিতাকে কখনো ছোট করে দেখবেন না। তারা এ ব্যাপারে পেশাদারী এবং অভিজ্ঞ! ভালো প্রপার্টির ব্যাপারে অনেক বেশি তথ্য ও খোঁজখবর তাদের কাছে থাকে। অতএব আপনার পছন্দের এলাকায় প্রপার্টি খোঁজার জন্য প্রপার্টির দালাল অথবা এস্টেট এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, যাতে তারা আপনাকে বিজ্ঞাপনের তালিকায় থাকা কিংবা না থাকা বিভিন্ন প্রপার্টির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে।

অনেক বাড়িওয়ালারাই নিজেরা না খুঁজে এজেন্টদের মাধ্যমে ভাড়াটিয়ার খোঁজ করে থাকেন। অতএব এজেন্টদের মাধ্যমে আপনি এমন প্রপার্টির সন্ধান পেতে পারে যেগুলোর জন্য হয়তো কোথাও বিজ্ঞাপন দেয়া হয়নি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন এমন বিভিন্ন এজেন্টদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার অপশন আপনার হাতে রয়েছে। এর ফলে একজন এজেন্ট আপনাকে গুলশানে ফ্ল্যাট ভাড়া পেতে সাহায্য করবে এবং আরেকজন বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ায় ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট খুঁজে দেবে। আপনি আপনার চাহিদাগুলো সরাসরি তাদের জানাতে পারেন এবং তারা সেইসব চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে আপনার হাতের কাছে প্রপার্টি এনে দিতে পারবে।

পাশাপাশি, আপনার যদি নিজে নিজে অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে বের করার মতো সময় না থাকে অথবা একজন পেশাদারের হাতে কাজটি করাতে চান, তাহলে একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট অথবা দালাল ভাড়া করুন। তারা আপনাকে আপনার পছন্দমতো অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করবে এবং সেটা আপনার নামে করিয়ে নেয়ার গ্যারান্টি পর্যন্ত দিতে পারবে। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার ভাড়ার খরচ ও ভাড়ার অ্যাডভান্স এর পাশাপাশি যোগ হওয়া প্রপার্টি এজেন্ট সার্ভিস ব্যবহারের আনুষঙ্গিক খরচের কথাও মাথায় রাখতে হবে, কেননা তারা সব ব্যাপারে কমিশন নেবে। এছাড়াও আপনাকে স্বাভাবিক কর্ম-ঘন্টায় অর্থাৎ কাজের সময় যেমন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত লভ্য প্রপার্টি দেখতে যাওয়ার জন্য আলাদা সময় বের করে নেয়ার প্রয়োজন হবে, অতএব আপনাকে সেভাবে ফ্রি থাকতে হবে।

* অনলাইনে দেখুন : ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক
এখন আপনি হয়তো ভাবছেন এক্ষেত্রে আধুনিক দিনের বিস্ময় ইন্টারনেটকে বেমালুম ভুলেই গিয়েছি! না, একদম ভুলিনি।

প্রায় যেকোনো এবং সবরকম সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা আজকাল প্রথমেই অনলাইনে সার্চ করি। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে সব জায়গায় ইন্টারনেট পৌঁছে যাওয়ার কল্যাণে এটাই এখন সর্বাধিক ব্যবহৃত ও গ্রহণযোগ্য একটি অপশন। কিন্তু এই ইন্টারনেটের ছোঁয়া সব রকম শিল্পক্ষেত্রে সমানভাবে পৌঁছায়নি। বাংলাদেশ থেকে চলমান অনেকগুলো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে কিন্তু খুব সামান্য কিছু সাইটই এমন রয়েছে যেগুলো প্রপার্টি খোঁজার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ কিংবা রিয়েল এস্টেট এজেন্সি বা দালালদের দ্বারা পরিচালিত। ঢাকায় ভাড়া বাসা পাওয়ার জন্য অবশ্যই বেশ কিছুটা সময় গুগল সার্চ করতে হবে আপনাকে। হয়তো এভাবে এক কিংবা একাধিক পছন্দনীয় জায়গা খুঁজে পেতে কিছুটা সময় চলে যাবে, কিন্তু ঠিকই খুঁজে পাবেন। আপনাকে শুধু খোঁজ চালিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত ওয়েবসাইটগুলোর একটি হচ্ছে facebook.com, এমনকি আন্তর্জাতিক ভাবেও এটি বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অতএব ফেসবুকের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্মের এই দারুণ উৎসগুলো ব্যবহার করে টু-লেট পেজগুলো, ফেসবুক অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এবং বিভিন্ন গ্রুপগুলোয় শুধুমাত্র ঢাকা নয়, সারা দেশব্যাপী ভাড়ার জন্য জায়গা খুঁজুন। বড় কোম্পানির ওয়েবসাইটগুলো হয়তো তাদের বিশাল ডাটাবেজের তালিকা থেকে আপনাকে অনেকগুলো প্রপার্টির বিজ্ঞাপন এনে ভালো ভাবে দেখাতে পারবে। কিন্তু সেগুলো সত্যিকার অর্থে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করতে সাহায্য করতে পারবে না। আপনার বেশির ভাগ সার্চ আপনাকে একটি ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, কিংবা বাড়ির লোকেশন জানাতে পারবে, কিন্তু এর লভ্যতা, অবস্থা এবং অন্যান্য বিবরণ তাতে থাকবে না। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটগুলো বাড়িওয়ালারা ব্যবহার করে থাকেন এবং তারা তাৎক্ষণিক কমেন্ট, চ্যাট অথবা কল সাপোর্টের মাধ্যমে আপনার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকবেন। এছাড়াও আজকাল ফেসবুকে প্রায় যেকোনো কিছু বা সবকিছুর জন্যই ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপও থাকে।

আরো পড়ুন :  আবারো দার্জিলিঙের পথে ট্রেন চলবে বাংলাদেশ থেকে

* দ্রুততম পদ্ধতি : অনলাইন প্রপার্টির পোর্টাল
ঢাকায় ভাড়ার জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজার জন্য অনলাইনে হয়তো বিভিন্ন রকম প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, কিন্তু নিরাপদ, দ্রুততম এবং বেশ কার্যকরী উপায় হচ্ছে এই উদ্দেশ্যে নিবেদিত অনলাইন প্রপার্টি পোর্টালগুলো। ঢাকা কিংবা সারা দেশের যেকোনো জায়গায় ভাড়া বাসা খোঁজার সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রপার্টি পোর্টালগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, bikroy.com/property পোর্টাল। এই প্ল্যাটফর্মে খুব সহজেই কিভাবে প্রপার্টি সার্চ করবেন তা দেখে নিন: ভাড়ার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছেন? bikroy.com-এ সহজেই খুঁজে নিন!

প্রপার্টি পোর্টালগুলো আপনাকে নির্দিষ্ট করে যেকোনো ধরনের প্রপার্টি সার্চ করার স্বাধীনতা দিয়ে থাকে, হোক তা অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট, রুম, ফ্যামিলি বাসা, ছোট কিংবা বড়, বা আপনার প্রতিটি চাহিদা সঙ্গে মিলিয়ে যেকোনো কিছু। এইসব পোর্টালে আপনি যেকোনো প্রপার্টির বিজ্ঞাপন পাবেন বিস্তারিত বর্ণনা সহ, সঙ্গে রয়েছে কাস্টমার কেয়ার সাপোর্ট, ঠিকানা, ছবি এবং একটি জায়গা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য। অতএব আপনার প্রপার্টির খোঁজ শুরু করার জন্য এটি একটি দারুণ উপায়। এছাড়াও আপনি বাড়তি অনলাইন সাপোর্ট, যেমন গুগল ম্যাপস, প্লেসেস, রেস্টুরেন্টস, স্কুলস ইত্যাদি ব্যবহার করে আপনার পছন্দের এলাকাটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণও করতে পারবেন।

প্রপার্টি পোর্টালগুলো এমন একটি মাধ্যম যা সত্যিই কার্যকর। এগুলো হয়তো আপনাকে আপনার জন্য পারফেক্ট একটা জায়গা খুঁজে পাওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারবে না, কিন্তু এতটুকু নিশ্চিত করতে পারবে যে আপনি অনলাইনে আপনার জন্য থাকা সব রকম জরুরি তথ্য একসঙ্গে জেনে নিচ্ছেন।

* ভাড়ার জন্য প্রপার্টি খোঁজার সময় নিজেকে যে প্রশ্নগুলো অবশ্যই করে নেবেন। হোক তা একটি বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা একটি রুম মাত্র
– ফ্ল্যাটটি কি অসম্পূর্ণ, খুব বেশি পুরোনো বা বিধ্বস্ত নাকি বসবাস শুরু করার জন্য প্রস্তুত?

– ওই এলাকায় একই ধরনের প্রপার্টির তুলনায় পছন্দের জায়গাটির ভাড়া ঠিক কতটা মিলে যায়?

– ইউটিলিটি এবং অন্যান্য বিলগুলো কি ভাড়ার মধ্যে পড়ে নাকি বাইরে?

– টেলিফোন, ডিশ ও ইন্টারনেটের লাইন রয়েছে কি?

– ভাড়ার চুক্তি ঠিক কত দিনের?

– এখানে কত মাসের ভাড়া অ্যাডভান্স করা বাঞ্ছনীয়?

– এই চুক্তি কোনো কারণে বাতিল করতে হলে কি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে?

– আপনার ফ্ল্যাটটি পাবলিক পরিবহন, দোকান পাট এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের থেকে কাছে না দূরে?

– বাসাটির মেন্টেইনেন্সজনিত সমস্যার জন্য দায়িত্ব কার?

– আপনার গাড়ি, বাইক অথবা সাইকেলের জন্য পার্কিং খালি রয়েছে কি?

– উক্ত বিল্ডিং, এলাকা ইত্যাদির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?

উপরোক্ত ধাপগুলো ঢাকায় আপনার পছন্দের এলাকায় ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়ার জন্য অন্যতম সেরা উপায়গুলোর মধ্যে কয়েকটি। আশা করি এ প্রতিবেদন আপনাকে কিছু নতুন আইডিয়া দিতে পেরেছে বা অন্তত পুরোনো কিছু আইডিয়াকে নতুনভাবে আপনার মনে জায়গা করে দিয়েছে। আপনার ভাড়ার চুক্তিটি স্বাক্ষর করবার আগে মনে করে উপরে উল্লেখিত প্রশ্নগুলো নিজেকে করে নেবেন।

আরো পরামর্শ থাকল যে, আপনি ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ, এলাকার মধ্যে দোকান পাট এবং শপগুলোয় যাওয়ার সুযোগ, পরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি ব্যাপার আপনার অন্যান্য সমস্ত চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে তারপর নিজের জন্য একটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিন। অনলাইনে থাকা সব রকম তথ্য ও সম্পদ যেমন বিভিন্ন অনলাইন প্রপার্টি পোর্টালের বিজ্ঞাপনগুলো আপনার কাজে লাগান।

Shares