ঘর সামলে একসঙ্গে দু’টি পুজোর থিম গড়ছেন দুই বান্ধবী

প্রকাশিত

পবিত্র ত্রিবেদী,কলকাতা: 

 

 

ঝুঁকি নেওয়ার সাহস ও শিল্পী সত্তার টানেই দুই তরুণী এবার কলকাতার দুটো বড় বাজেটের পুজোর থিম রূপায়ণ করতে ঝাঁপিয়েছেন। শেষ মুহূর্তে সংসার সামলে রাতদিন এক করে কাজ করে চলেছেন গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের প্রাক্তনী মধ্য তিরিশের দুই বন্ধু। নতুন কিছু করার বাসনা ও শিল্পীর আত্মপ্রকাশ করার অনুভূতিই তাঁদের চলার শক্তি। দুই নবাগতা শিল্পীর একজন প্রাক্তন শিক্ষিকা গড়ফার সায়নী নিয়োগী। অন্যজন আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা সেরামিক ইনস্টলেশন শিল্পী গার্গী ঘোষ। লেকটাউনের নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোর থিম ‘নাটক কথা’ ও বরানগরের রামকৃষ্ণপুরমের পুজোর থিম ‘শিক্ষায় দীক্ষা’র কাজ তাঁরা করে চলেছেন সমান তালে।
দুই শিল্পীর কথায়, যখন এই থিম করার প্রস্তাব আসে তখন এমনিতে আমরা নতুন, তার উপরে পুজোর আগে হাতে বেশি সময় ছিল না। ফলে প্রথমে না বলে দিয়েছিলাম। পরে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই কাজ করতে রাজি হই। গার্গীদেবীর বক্তব্য, এই যে নতুন কিছু করছি, এই এক্সাইটমেন্টই আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে। সায়নীদেবীর কথায়, আমি আলাদা করে নিজেকে থিম শিল্পী বলব না। বরং মনে করি আমি একজন শিল্পী। তারই প্রকাশ করেছি । সংখ্যায় অনেক কম হলেও মহিলা থিম শিল্পীর কথা এখন শোনা যায়। কিন্তু, দুই মহিলা শিল্পী একসঙ্গে কোনও দুর্গা পুজোর থিম এর আগে করেছেন এমনটা মনে করতে পারছেন না অনেকে।
বাংলায় নাটকের শুরুর সময় থেকে এখনও পর্যন্ত সব নাটকের ছবি, ক্লিপিংস জোগাড়, গবেষণা এবং মণ্ডপে তাঁর রূপায়ণ সবটাই তাঁদের করতে হয়েছে। একইভাবে স্লেটের সাহায্যে শিক্ষাতে মুক্তির বিষয়টি তুলে ধরার কাজও সম্পূর্ণভাবে তাঁদেরই করতে হচ্ছে। রবিবারই কাজ করে রাত তিনটেয় বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। তৃতীয়ার মধ্যে সব কাজ শেষ করতে হবে, সেজন্য পুজো মণ্ডপের কাছেই এদিন থেকে রাতে থাকা শুরু করেছেন তাঁরা।
আঁকা শিখতে গিয়ে দুই বন্ধুর পরিচয় সেই ২০০১ সালে। এরপর গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে পথ চলা। বিয়ের পর সংসারে হেঁসেল সামলে দুজনেই নেমে পড়েছেন একসঙ্গে। সায়নী নিয়োগী জানালেন, মহিলা থিম শিল্পী একেবারেই যে নেই তা নয়, তবে খুব কম। তবে সেখানে বেশিরভাগ সময় কোনও না কোনও পুরুষ সহযোগী থাকেন। আমরা সম্পূর্ণ দুজন মহিলাই এই কাজ করছি। ভবিষ্যতেও করব। পাবলিক ওয়ার্ক হিসেবে পুজোর থিম করার ক্ষেত্রে এটা প্রথম কাজ। তবে এর আগে আমার যখন গ্র্যাজুয়েশন চলছে সেসময় ব্যক্তিগতভাবে বোসপুকুরের কাছে মহাজাতি কল্যাণ সমিতি ও পরে ডিপিএস রুবি পার্কের কাছে হালতুতে থিম করার উদ্যোগ নিয়েছি। পঠন পাঠনে আমার পেপার ছিল নাটক নিয়ে। তাছাড়া বাবা গান, নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকে নাটকের প্রতি ভালবাসা। আমার এই উদ্যোগকে আগে বাবা-মা সমর্থন করেছেন। এখন শ্বশুর, শাশুড়ি আমার এই কাজ খুব সমর্থন করছেন বলেই সব সামলে করতে পারছি।
গার্গী ঘোষ জানালেন, হঠাৎ করে এত বড় দায়িত্ব। অনেক দেরি করেই আমরা শুরু করেছি। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই কাজে নেমেছি। আমরা এই কাজে পরিকল্পনা করে যে এসেছিলাম তা নয়।