অর্থের জন্য মেয়েদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন রোহিঙ্গারা

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে থাকা নারীদের একটা বড় অংশ মানব পাচারের শিকার ও জোরপূর্বক নানা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম)। মঙ্গলবার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সাড়ে সাত লাখের বেশি মানুষের অর্ধেকই হলো নারী।

সংস্থাটি বলছে, কিছু কিছু পরিবার তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারছে না। তাই তারা তাদের মেয়েদের বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ পরিবেশে কাজে পাঠাচ্ছে যা তাদের জন্য নিরাপদ নয়। এর মাধ্যমেই পাচারকারীরা ওই নারীদের পাচার করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।

অনেকেই মানব পাচারের শিকার হলেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে অল্পবয়স্ক ও যুবতী মেয়েরা। সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নারীদের বিয়ে বা বড় শহরে চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে পাচার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জোরপূর্বক শ্রমিক বা যৌনকর্মী হতে বাধ্য করা হয়।

আরো পড়ুন :  কেন্দুয়ায় সাহিত্য কুঞ্জের আলোচনা অনুষ্ঠান

মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ একটি খামারে খুব অল্প পারিশ্রমিকে কাজ করা এক নারী বলেন, ক্যাম্পগুলোতে খুব অল্প কাজ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীদের জন্য এই সংখ্যাটা তো একেবারে শূন্যের কোটায়। এই জন্যই তারা ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে কাজ করেন।

জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারে বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য পাওয়ার পরেও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নারী ও মেয়েদের জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এছাড়াও বাকি ১০ শতাংশকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পুরুষ ও কিশোররাও এ থেকে ছাড় পায় না। প্রায় এক তৃতীয়াংশ শরণার্থীকে দিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজ করানো হয় বলে জানিয়েছে তারা।

আরো পড়ুন :  ফরিদপুরে ১১ বছর পর ধর্ষকের যাবজ্জীবন

শারীরিকভাবে অক্ষম এক বাবা বলেন, ‘প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতেই আমাদেরকে সংগ্রাম করতে হয়। আর ক্যাম্পের ভেতরে কাজ করার কোনও সুযোগ নেই। তাই মেয়েদেরকে ক্যাম্পের বাইরে যেতে হয় কাজ করার জন্য।’

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা, বৈধ কাউন্সেলিং, আশ্রয় এবং নগদ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু মানব পাচারের কারণে অনেক রোহিঙ্গা তাদের এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কক্সবাজারে জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থার প্রটেকশন সার্ভিস বিভাগের প্রধান দিনা পার্মার বলেন, মানব পাচারের কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

1Shares