কিশোগঞ্জের তাড়াইলে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রকাশিত

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা: কিশোগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে রোপা- আমন সবুজ ধানের সোনালী শীষের সমারোহ। ধান ক্ষেতগুলোর দিকে তাকালে ‘ধন ধানে পুষ্পে ভরা,আমাদের এই বসুন্ধরা’ কথাটির সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়। যতদূর চোখ যায় ততদূর মাঠে মাঠে হাওয়ায় দোল খাচ্ছে ধানগাছ।
সরকারের কৃষি বান্ধব কর্মসূচী, কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, অনুকূল আবহাওয়া,সার,কীটনাশকসহ বাজারে কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ, সহনশীল দাম, সহজলভ্যতা ও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সরবরাহসহ আবাদ উপযোগী পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার সাত ইউনিয়নে রোপা-আমন ধানের চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চাষ হয়েছে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে অর্থ্যাৎ ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে উৎপাদিত ধানের সোনালী শীষ এখন বাতাসে দোল খাচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। নতুন ধান উঠবে কৃষকের গোলায়। সোনালী ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে চাষিরা এখন বিভোর।
এ বছর অধিকাংশ কৃষক আমন ধানের বীজতলা তৈরী করেছে আধুনিক পদ্ধতিতে। আলোর ফাঁদ দিয়ে সনাক্ত করেছে ক্ষেতের পোকা-মাকড়। ব্যবহার হচ্ছে শেড পদ্ধতি। কৃষি অফিসের জরিপের আওতায় আনা হচ্ছে পিছিয়ে পড়া কৃষকদের। ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক পর্যবেক্ষণ আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাড়ছে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা। সময়মতো প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, সার ও কীটনাশক পাওয়ায় এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে পোকা-মাকড় দমন করায় এবছর রোপা-আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছেন।
উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের আড়াইউড়া গ্রামের কৃষক নব কুমার তালুকদার জানান, ধান ক্ষেতের পাশে দাঁড়ালে বুক জুড়িয়ে যায়। এ বছর তিনি এক একর জমিতে আমন আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার অধিক ফলন হবে বলেও আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সময়মতো ও পরিমাণমতো বৃষ্টিপাত, সার-বীজ কীটনাশকের প্রাপ্যতা, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা, আইপিএম পদ্ধতির ব্যবহার, কৃষি অফিসের উদ্যোগে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদের উপর প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ করে কৃষকরা সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে পারায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
5Shares
আরো পড়ুন :  বংশী নদীতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু