কেন্দুয়ায় শিশু শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত শিক্ষিকাকে অপসারনের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত

কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী পূজা দেবনাথ (রোল নং-১) কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস চৌধুরী কর্তৃক বেে কালি লেগে যাওয়ার বিষয়ে বেত্রাঘাতে আহত করার প্রতিবাদে ও প্রধান শিক্ষিকাকে অপসারনের দাবীতে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান রুহুল ইসলাম স্মারক লিপি গ্রহন করেন। এসময় তিনি বলেন,অভিযোগ আমরা আগেই পেয়েছি,তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনসুর রহমান জানান,অভিযোগ পেয়ে প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরত রাখা হয়েছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান,অভিযোগ পাওয়ার পর ৩ দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত ও ঝড়ে পরা শিশুদের ক্ষেত্রে কোন রকম শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করেছে এবং পরিপত্রও জারি করেছে।সরকারের এ আইন অমান্য করে মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস চৌধুরীর বেত্রাঘাতে শিশু নির্যাতনের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক,অমানবিক ও বেআইনি।
শিক্ষার্থীর পিতা বিশ্বজিত দেবনাথ জানান,আমার প্রথম শ্রেণীর ছোট্ট শিশুটিকে গত ৫ নভেম্বর স্কুলের বেে কার্বন কালি ভরানোর অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস চৌধুরী নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করে।পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিই।আমি এ নির্যাতনের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে,স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এনামুল হক ভূঞা জানান,এই শিশুটিকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করা হয়েছে যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এমন হলে শিক্ষকদের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা করে যাবে এবং স্কুলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাবে।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইমারত হোসেন গাজী জানান, শিশু শিক্ষার্থী পূজা দেবনাথের পিতা বিশ্বজিতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি,প্রধান শিক্ষিকা,শিক্ষা কর্মকর্তা ও অভিভাবকের সঙ্গেও কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রধান শিক্ষিকা বিলকিস চৌধুরীর নিকট জানতে চাইলে,তিনি বলেন বারান্দায় রেলিং ধরে শিক্ষার্থীরা দুষ্ঠমি করছিল সেখান থেকে পরে আহত হতে পারে এমন ভেবে আমি তাদেরকে ক্লাসে যাওয়ার জন্য বলি। ক্লাসে গিয়ে পূজা দেবনাথ কলমের কালি দিয়ে বে নষ্ট করে।তখন আমি তাকে চিকন কি দিয়ে আস্তে একবার বেত্রাঘাত করি।এখন ষড়যন্ত্র করে আমাকে হয়রানি করার জন্য আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ এনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।আমিও চাই আনিত অভিযোগের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসুক।

Shares
আরো পড়ুন :  গাজীপুরের টঙ্গীতে ৩৫ পিচ চোরাই মোবাইলসহ ৪ জন আটক