রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস

প্রকাশিত

নিউজ ডেস্ক : আদালতের আদেশে পুনর্বহাল হওয়া শ্রীলঙ্কা পার্লামেন্টে মাহিন্দা রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়েছে। গতকাল বুধবার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিদের ভোটে এ প্রস্তাব পাস হয়।
প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২৬ অক্টোবর রনিল বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া রুল জারি করেন, ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছেন।
তবে এই ফলাফলের মানে এই নয় যে রনিল বিক্রমাসিংহে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল হয়েছেন। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক শক্তি প্রদর্শনে তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাজাপক্ষেকে সমর্থন দেওয়া প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার হাতেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষমতা রয়েছে। গতকাল বুধবার বেশ হট্টগোলের মধ্যে রাজাপক্ষে (৭২) ও তার এমপি পুত্র নামাল রাজাপক্ষে পার্লামেন্টের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। এর অল্প কিছু পরেই ভোটের আহ্বান জানান স্পিকার। রাজাপক্ষের দলের এমপিরা পার্লামেন্টের ধাতব প্রতীক আঁকড়ে ধরে ভোটাভুটিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্পিকার এই অবস্থার মধ্যে ভোট চালিয়ে যান। তিনি বলেন, আমি রুল দিচ্ছি যে এই হাউসের এই সরকারের (রাজাপক্ষে) প্রতি আস্থা নেই। ওই সময় রাজাপক্ষের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন মন্ত্রী পার্লামেন্ট কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তারা অভিযোগ করেন, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ভোটের আয়োজন করে স্পিকার পার্লামেন্টের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন।
এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছিলেন। পার্লামেন্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। আদালত গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে অবৈধ জানিয়ে পার্লামেন্ট পুনর্বহালের আদেশ দেন। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কাকে নির্বাচন করা হবে, এ বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোটের ব্যবস্থা করতে বলেন আদালত। আদালতের আদেশের পর আজ কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট বসে।
গত ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা বরখাস্ত করে মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। আগামী ৫ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন হবে জানিয়ে ৯ নভেম্বর পার্লামেন্ট ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট। তবে বরখাস্ত করা হলেও বিক্রমাসিংহে এখনো নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করে আসছেন। তিনি দেশটির ক্ষমতার প্রতীক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিজ ছেড়ে যেতেও অস্বীকৃতি জানিয়ে সেখানে বসবাস করছেন।
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টিসহ (ইউএনপি) আরও দুটি দল প্রেসিডেন্টের এসব সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সুপ্রিম কোর্ট সিরিসেনার পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল ও নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুসারে, পার্লামেন্টে ভোটাভুটি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত করতে পারবেন না। আর পার্লামেন্টে ভোট হলে বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো আপাতদৃষ্টিতে কঠিন। কারণ, সিরিসেনার দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) ও রাজাপক্ষের দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির মিলিত আসনের সংখ্যা ৯৫ এবং বিক্রমাসিংহের দল ইউএনপির আসনসংখ্যা ১০৬।

Shares
আরো পড়ুন :  মোবাইলে প্রেম, প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ