গাজীপুরে ৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, পরিবহন বিপর্যয়ে দুর্ভোগে যাত্রীরা

প্রকাশিত

শ্বেখ রাজীব হাসান আকাশ,গাজীপুরঃ মহাসড়কে বৈধ কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নামায় গাজীপুরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে গত কিছুদিনে। এ অবস্থায় যাত্রীতে ঠাসা বাসগুলোতে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে ওঠতে দেখা যায় অনেককে। প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিক্সা ইজিবাইক চলাচল করার কারণে প্রতিনিয়তই নানা বিপদ ঘটছে। এসব কারণে প্রধান সড়কগুলোতে দেখা যায় ব্যাপক যানজট। এইসব কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ে নারী ও শিশুরা। বাসে চাপাচাপি করে বহু কষ্টে উঠতে পারলেও ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।

 

ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা বলছে, গাজীপুরের চলাচলকারী ছালছাবিল, অনাবিল, স্কাইলাইন, বলাকাসহ বাসগুলোর কনটাক্টাররা সিটিং সার্ভিস বলে কোম্পানির নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অধিক ভাড়া জোড়পূর্বক নিচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করছে যা খুবই অমানবিক ও নিন্দাজনক। বিকল্প ব্যবস্থা না করে হিতে বিপরীত অবস্থায় ফেলেছে কোম্পানির লোকজন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চেকারদের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় বাসে অধিক যাত্রী থাকলেও ১০/২০ টাকার বিনিময়ে কোন প্রতিবাদ না করে চুপচাপ নেমে যায় এই দিকে অবশ্যই নজরদারি বাড়ানো উচিত। একদিকে ইজিবাইকের উপর নিশেধাজ্ঞা অন্যদিকে রেকারবিল করে পুননায় আবার গাড়ী ছেড়ে দেওয়া, হয় তাদের মহাসড়কে চলাচল করতে দিয়ে সরকারী ভাবে ভাড়া নির্ধারণ করে দিক, না হলে একেবারে ইজিবাইক বন্ধ করে দিক। মহাসড়কে গাড়ী কম থাকলে দেখা যায় ইজিবাইক চালকদের গরম ৫টাকার ভাড়া ২০টাকা আর ১০টাকার ভাড়া ৪০/৫০ টাকাও হয়ে যায়। বেপরোয়া ভাবে গাড়ী চালায় এই সব অটোরিক্সা যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সরকার এই সব ইজিবাইক বন্ধ করে মিনি বাস সার্ভিস চালু করলে সাধারণ মানুষ নিরবিগ্নে যাতায়েত করতে পারবে।

আরো পড়ুন :  খালেদাকে নিয়ে বিদেশিদের মনোভাবের ব্যাখ্যা দিলেন খসরু!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে তো বাস বাড়ানো, সড়কের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে, তারপর করতে হবে ইজিবাইক বন্ধের ব্যবস্থা। গণপরিবহন হিসেবে বাস কম থাকায় বিকল্প হিসেবে অটোরিক্সা,ইজিবাইক যাত্রীদের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠেছিল কিন্তু এর কারণে ৮০ শতাংস যানযট বৃদ্ধি পায়।

গাজীপুরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতেও  শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শ্রমিক সবার ভরসা হয়ে উঠেছিল অটোরিক্সা,ইজিবাইক কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া ও যানজটের কারনে আজ তারাই সবচেয়ে বেশী ক্ষুদ্ধ। যানজটের কারনে যারা কিছুটা দূরবর্তী স্থানে যাতায়েত করে তাদের কর্মস্থলে নিজেকে টিকিয়ে রাখাও আজকের দিনে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। মহাসড়কে অটোরিক্সা,ইজিবাইক চলাচলের কারণে যানজট বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অটোরিক্সা, ইজিবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো। এরপর গাজীপুর জেলা পুলিশ মাইকিং করে অটোরিক্সা ইজিবাইক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় কিন্তু সেই নির্দেশকে কোন তোয়াক্কা না করে অবাধে চলছে ইজিবাইক, অটোরিক্সা।

গতকাল বেশ উদ্যমের সাথে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন টঙ্গী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী তারেক। ঘাম ঝরছিল তার শরীর বেয়ে। তিনি বলেন, এক ঘস্টা দাঁড়ানোর পর কোনো বাস পাইনি আর অটোরিক্সা, ইজিবাইক এমন বেপরোয়া ভাবে চালায় আর ৫টাকার ভাড়া চায় ২০টাকা তাই হেঁটে হেঁটে যাচ্ছি।

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাজীপুরের ভোগড়া,মালেকের বাড়ী ,সাইনবোর্ড,বোর্ডবাজার,কলেজগেট ,চেরাগআলী,ঘুরে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। সবার কণ্ঠেই শোনা গেছে ক্ষোভের কথা গাড়ীতে অতিরিক্ত ভাড়া।

আরো পড়ুন :  ‘খালেদার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল’:আব্দুল্লাহ আল হারুন

মাসুদ রানা নামে একজন জানায়, পকেটে টাকা ছিল ১০ টাকা আর ভাড়া ও ১০ টাকা গাড়ীতে উঠার পর যখন ভাড়া দিতে গেলাম বলে ভাড়া ২০ টাকা কি করার গাড়ী থেকে নামাইয়া দিল আর  কি করার হাঁটা শুরু করলাম।

বেশ কিছুদিন আগে অটোরিক্সা,ইজিবাইক বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সচিব) সফিকুল ইসলাম মোবাইলে চ্যানেল সিক্সকে বলেন, ‘ইজিবাইক অবৈধ গাড়ি। বহু আগেই এগুলো সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আরো ভায়াবহ হয়েছে। মানুষের প্রাণ বাঁচাতেই মহাসড়কে এগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন,কঠিন সিদ্ধান্তের কারণে জনগণকে একটু দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে। এতে অবৈধতা প্রাণনাশের কারণ হবে না।’

তিনি চ্যানেল সিক্সকে আরও বলেন, আগে বহুবার সময় দেওয়া হয়েছিল। কোনো ফল হয়নি। তবে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমানের মতে, পুলিশ যদি লেগুনা বন্ধ করতে চায় করুক। গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা এ উদ্যোগ নিতেই পারে।

7438Shares