বোরহানুদ্দিন কলেজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হায়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত

নিউজ ডেস্ক :চতুর্থ শ্রেণির এক নারী কর্মচারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দিন কলেজের এক শিক্ষককে ছয়মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছে। মাকের্টিং বিভাগের ওই শিক্ষকের নাম তানভীর আহমদ হিজল।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কলেজে একা পেয়ে ওই নারী কর্মচারীকে যৌন হয়রানি করে ওই শিক্ষক। তবে লজ্জায় বিষয়টি চেপে রাখলেও পরে আবারও কু-প্রস্তাব দেয় অভিযুক্ত হিজল। এরপর ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে কলেজের এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানায়। ওই শিক্ষিকা ঘটনাটি অধ্যক্ষকে অবহিত করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৫ নভেম্বর কলেজের গভর্নিং বডির (জিবি) সভায় হিজলের বিরুদ্ধে উল্লিখিত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কলেজের গর্ভনিং বডির (জিবি) সভাপতি অধ্যাপক ড. হারুনর রশিদ  বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হিজলকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার চাকরির পরিসমাপ্তি ঘটানো হবে।’

অভিযোগ আছে, কলেজে কয়েকজন শিক্ষকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি যৌন হয়রানি ও পরকীয়ার সিন্ডিকেট আছে। ওইসব শিক্ষক কলেজে বেশ প্রভাবশালী। এসব কাজে তারা একজন আরেকজনকে রক্ষা করে ও প্রশ্রয় দেয়। তাদেরই একজন অভিযুক্ত এই শিক্ষক।

আরো পড়ুন :  ”ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে,আগামী প্রজন্ম বিপদগামী হবেন না” : কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এম.পি

ওই নারী কর্মচারীকে যৌন হয়রানির খবর চাউর হয় এ মাসের শুরুতে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রথমে এই ঘটনা জানা শিক্ষক প্রতিনিধি তা চেপে যান। পরে অন্য শিক্ষকরা জানার পর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। গত ১১ নভেম্বর কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে- তা জানতে চান। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তাদেরকে জানান কলেজ প্রধান।

এরপর বিষয়টি জিবি সভাপতি ও অন্য সদস্যদের কানে যায়। তারপর জিবি সভায় সদস্যরা ব্যবস্থা নেন।

কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান এ ব্যাপারে  বলেন, ‘নারী কর্মচারীকে যৌন হয়রানির বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে জিবি একটা ব্যবস্থা নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মচারীকে যৌন হয়রানির ঘটনাটি শোনার পরই অভিযুক্ত শিক্ষককে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছি। তবে বিষয়টি সত্য নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। তাই বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে অপরাধীকে চাকরিচ্যুতসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। কলেজের অন্য বিভাগের এক শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিক্ষিকার সংসার ভেঙে যায়। পরে শিক্ষিকা অন্য একজনকে বিয়ে করলেও তার (হিজল) সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রাখতে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিক্ষিকার দ্বিতীয় স্বামী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় ডায়েরি করেন এবং তার স্ত্রীকে বিরুক্ত না করতে সতর্ক করেন। কর্মচারী হয়রানির ঘটনায় ব্যাবস্থা নেয়ার চাপ দিতে ১১ নভেম্বর এই শিক্ষিকাও যান অধ্যক্ষের কাছে।

আরো পড়ুন :  ময়শনসিংহের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে নতুন ৪টি বিভাগ

শিক্ষকরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক তার বিভাগের আরও এক শিক্ষিকাকে নানাভাবে বিরক্ত করতেন। বিষয়টি তিনি অধ্যক্ষসহ সিনিয়র শিক্ষকদের জানালেও কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এ ছাড়া একাধিক ছাত্রীকেও তিনি উত্যক্ত করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক তানবীর আহমেদ হিজল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষক শত্রুতা করে এসব মিথ্যা প্রচার করছেন।’

Shares