টঙ্গীতে জাভান হোটেলে অভিযান ৫ লাখ টাকার বিদেশী মদসহ গ্রেপ্তার-৩

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার- শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ মদসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রির অভিযোগে গাজীপুর টঙ্গীর আমতলী এলাকার ‘জাবান হোটেলে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-১ ও র‌্যাব -৩। র‌্যাব-৩এর সুত্রে জানা যায়,গতকাল রাত  সাড়ে ১১টায় দিকে  র‌্যাব-১ ও র‌্যাব -৩ একটি টিম জাভান হোটেলে বিশেষ অভিযান চালায় ।এ সময় হোটেল জাভান থেকে ৬০বোতল বিদেশি মদ ও ১০ কেস বিদেশী বিয়ারসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। জব্দকৃত বিদেশী মদ ও বিয়ারের মূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকা।আটককৃতরা হলেন ডিজে ফ্লর ম্যানেজার হিমু (৪৭)মার্কেটিং ম্যানেজার লিয়াকত হোসেন(৫০) রিসিপশনের শহীদ (৩৪) র‌্যাব -৩ এর সদস্যরা জানান, জাবান হোটেলের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত সুবিধার মদ বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তারা বিপুল পরিমান রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার মদ বিক্রি করে আসছিল। সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ওখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ  লাইসেন্স না নিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই প্রকাশ্যে হোটেলটিতে মদ ও বিয়ার বিক্রি করা হতো। সেখানে প্রতি রাতে ডিজে পার্টিসহ নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলতো। গ্রেফতারের পর আসামিরা জানিয়েছে, টঙ্গী থানা পুলিশ ও গাজীপুর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের যোগসাজশেই এ ক্লাবে বসতো মাদকের বিশেষ আসর। এখানে বেশিরভাগই রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী এলাকার মাদকাসক্ত টিনএজাররা মাদকের আসর বসাতো। দিনভর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে ইয়াবা সেবন করার সুযোগ পেতো।রাতে ডিজে পার্টিতে অংশ নিতো গাজীপুরের দাগি অপরাধী ও মাদকসেবীরা। ভেতরে পার্টি চলাবস্থায় টঙ্গী থানার পুলিশ নিয়মিত মাসোহারার বিনিময়ে পুলিশী পাহারার ব্যবস্থা করতো।

আরো পড়ুন :  মালিবাগে গুদাম ঘরে আগুন

আরো পড়ুন- হোটেল জাবানের নারী কর্মীরা কি সারারাত হোটেলে তাহাজ্জুত নামাজ পড়েন ?!

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে টঙ্গী থানার ওসি কামাল বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। সে জন্য জানতে পারিনি। আমি কোন উৎকোচ খাইনি। তবে আমার কোন স্টাফ খেয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

ইতোপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল জাভান হোটেলে বিশেষ অভিযান চালায় । এ সময় হোটেল থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার সমমূল্যের ৩৬ লিটার বিলাতি মদ ও ৭২ ক্যান হ্যানিক্যান বিয়ার, যৌনবর্ধক ওষুধ ও তিনটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় কাউন্টার থেকে প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক তুহিন আহমেদ, ম্যানেজার মোঃ হুমায়ুন কবির ও ক্যাশিয়ার শাহরিয়ার আহমেদকে আটক করা হয়। পরে কাউন্টারের নিচ থেকে মদের বোতল ও বিয়ারের ক্যানগুলো উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়। ডিএনসি’র সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম বলেন, লাইসেন্স না নিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই প্রকাশ্যে হোটেলটিতে মদ ও বিয়ার বিক্রি করা হয়। ওই এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কার্যালয় থাকার পরও কেন সেখানে সদর দফতরের টিমকে গিয়ে অভিযান চালাতে হয়েছে তা প্রশ্ন করেছেন এলাকাবাসী ।

আরো পড়ুন :  যেমন বাবা তেমন ছেলে

আরো পড়ুন-উত্তরা ক্লাব ও টঙ্গীর জাবান হোটেলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী অভিযান

উল্লেখ্য- জাভান হোটেলে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গত ৩০শে সেপ্টেম্বর রোজ রবিবার দৈনিক ইত্তেফাকের টঙ্গী প্রতিনিধি কাজী রফিককে জাভান হোটেলে ডেকে নিয়ে নর্তকিকে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাঁজানো মিথ্যা মামলায় ইত্তেফাকের সাংবাদিক কাজী রফিক কে গ্রেফতার করা হয় । মিথ্যা মামলায় ইত্তেফাকের সাংবাদিক কাজী রফিক কে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবী উঠেছিল সাংবাদিকসহ সকল মহলের ।

220Shares