আমাদের দোষেই বাংলাদেশের জন্ম

প্রকাশিত

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না, কিন্তু তাঁকে সেই পথে যেতে বাধ্য করা হয়।’ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার পাকিস্তানি নীতির সমালোচনা করে এ কথা বলেছেন নওয়াজ।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাঞ্জাব হাউসে গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবীদের এক অনুষ্ঠানে নওয়াজ বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাঙালিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে উপযুক্ত আচরণ করিনি এবং তাদের আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিই।’

আরো পড়ুন :  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বৃহস্পতিবার

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির জের ধরে গত জুলাই মাসে নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। এরপর পদত্যাগ করেন তিনি। তখন থেকে কয়েকবার তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ গতকাল বলেন, ‘বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছিল বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশন। কিন্তু আমরা সেটা পড়েও দেখিনি।’

আরো পড়ুন :  অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে নওয়াজ বলেন, জটিল এই বিচারব্যবস্থা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করেছে। তারা স্বৈরশাসনকে বৈধতা দিয়েছে এবং সুবিধাবাদের জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরশাসকের বিচার করতে পারে, এমন আদালত পাকিস্তানে কখনোই ছিল না।’

এরপর নিজের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নওয়াজ বলেন, বছরের পর বছর তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে এবং প্রতিবাদী হতে বাধ্য করা হয়েছে। রাষ্ট্র কর্তৃক তাঁকে কোণঠাসা করার ঘটনার সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির সঙ্গে মিল আছে বলে মনে করেন তিনি।

আরো পড়ুন :  অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিকদের সংগঠন বনজা’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘আমার সঙ্গে এবং পাকিস্তানের সব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যা করা হয়েছে তা ঠিক নয়।’

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের এই ধারার অবসান দাবি করেন নওয়াজ। তিনি বলেন, পর্দার অন্তরাল থেকে যাঁরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছেন, তাঁদের উচিত পাপের জন্য অনুশোচনা করা এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।