জীবনের নিরাপত্তা চান বিএনপির ৫ প্রার্থী

প্রকাশিত

জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী-

নরসিংদীর ৫টি আসনের বিএনপির প্রার্থীরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজেন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান অভিযোগ করেন বলেন, সারা বাংলাদেশে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণার সময় হামলার ঘটনা ঘটছে। আমরা লিখিতভাবে ড. কামালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারকে জানিয়েছি। কিন্তু চারদিন অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন ,নির্বাচন কমিশন বড় বড় অক্ষরে আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের গণহিরিক চালালেও এখন পযর্ন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বলতে চাই প্রশাসনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশিনও সন্ত্রাসের অংশ।

তিনি আরও বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাদের লগি-বৈঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাই বলে কি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না? ভোটের অধিকার থাকবে না? রাম দা দিয়ে আমাদের মেরে ফেলে দেশকে সন্ত্রাসের জনপদ তৈরি করবে?

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের কারবন্দী প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনের প্রার্ধী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশ্রাফ উদ্দিন বকুল।

 

 

নরসিংদী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কারবন্দী খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা বলেন, একটি সাজানো ও ষড়যন্ত্র মামলায় বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা তার পক্ষে প্রচারণা চালাতে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমাদের একটি পোস্টারও লাগাতে পারছি না। সকালে পোস্টার লাগালে বিকেলে ছিঁড়ে ফেলে। প্রার্থী কারাগারে, পোস্টার থাকে না, প্রচারণা চালাতে পারি না। তাহলে কিসের নির্বাচন করবো?

নরসিংদী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী বলেন, আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ১০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। ১৫টি গাড়ি ভেঙে দিয়েছে। সাত কর্মী গুরুতর আহতবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। প্রচারণা চালাতে গেলে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাহলে লেভেল প্লেইং ফিল্ড কোথায়?

নরসিংদী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরদার শাথাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, নির্বাচনের কোনো আবহাওয়া নেই। ভোট চাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। যে দিক দিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণায় বের হই, সেদিকেই রাম দা’র আক্রমণ। আমাদের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। অথচ আমাদের মামলা নেয় না পুলিশ। উল্টো আমাদের ৪২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। পুরুষদের বলছে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে মরবে নাকি? ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দাও, আমরাই তোমাদের ভোট দিয়ে দিবো।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ ভূঁইয়া, মাধবদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে সালামা মায়া, অ্যাডভোকেট কানিজ ফাতেমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে আইনজীবী মিলনায়তন থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।