গৃহবধূ থেকে শ্রমিক নেতা ঘুরেফিরে মন্ত্রিসভায়

প্রকাশিত

খুলনা প্রতিনিধি-

খুলনা শহরের খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা নিয়ে গড়ে ওঠা এলাকাটি শ্রমিক অধ্যুষিত। গত শতকের ষাটের দশকে খুলনায় ভারী ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এখানে স্থায়ী ও অস্থায়ী বিপুলসংখ্যক শ্রমিকদের বসবাস। আবার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের দাবিতে এই অঞ্চল হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। এভাবেই এখানে অনেক শ্রমিক নেতার জন্ম, তাঁদের কেউ কেউ দিয়েছেন জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব। এঁদের মধ্যে বিএনপির সাবেক হুইপ মো. আশরাফ হোসেন, প্রয়াত শ্রমিক নেতা কমরেড হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, সরদার মোতাহার হোসেন, ফ ম সিরাজ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান অন্যতম। একজন নারী হয়ে শ্রমিক রাজনীতির জটিল বিষয়টি তিনি নিজ মেধা ও যোগ্যতার সঙ্গে রপ্ত করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। জাতীয় রাজনীতিতে একসময় নারীর যখন কোনো অবস্থান ছিল না, তখন থেকে হাতে গোনা যে কজন নারী রাজনীতিক মাঠে-ময়দানে ছিলেন তাঁদের কাতারে ছিলেন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। চারবারের জাতীয় সংসদ সদস্য ও একবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর আবারও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব এবং যথারীতি শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

আরো পড়ুন :  গ্রিন টি’র নামে আকাশপথে আসছে নতুন মাদক ‘এনপিএস’

একসময় দেশে মাত্র ১৩টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ছিল। তার মধ্যে খুলনাঞ্চলে ছিল ৯টি। আবার এর মধ্যে চারটি পাটকলই শুধু খালিশপুরে অবস্থিত। এ ছাড়া নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিলস ছিল খালিশপুরে। আছে খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিপিসির তিনটি তেলের ডিপো, দৌলতপুরে ব্যক্তিমালিকানায় শতাধিক পাটগুদাম ও পাট রপ্তানিকারকদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জুট স্পিনার্স মিল, নগরীর বৈকালীতে জেলা এবং মহেশ্বরপাশায় বিভাগীয় খাদ্যগুদামসহ অসংখ্য ছোট-বড় শিল্পকারখানা; আর তাতে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিক। এসব শ্রমিকের বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

12Shares