নোয়াখালীর গণধর্ষণ; রিমান্ড চেয়ে ৩ আসামিকে আদালতে সোপর্দ

প্রকাশিত

নোয়াখালী প্রতিনিধি-

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে গত শুক্রবার মধ্যরাতে তিন সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন-সমাবেশ করা হয়েছে। সোমবার এ মানববন্ধন হয়। এছাড়া
ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি জাকির হোসেন জহিরের জবানবন্দীর ভিত্তিতে আটকৃত তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে সাতদিন করে রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, গণধর্ষণের স্বীকার তিন সন্তানের জননী সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আটককৃত জহির বাদে অপর তিনজনকে হয়রানি করার জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি (ভিকটিম) বলেন, তারা যদি জড়িত থাকতো আমি অবশ্যই তাদেরকে চিনতে পারতাম। আমার দেবর মান্নাকে আমি ৬ বছর থেকে চিনি। আমি শুধু জহিরকে ঘটনার সময় চিনতে পেরেছি। এ ঘটনায় জহির কেন আমার দেবর ও ভাগিনাসহ ৩ জনকে জড়িয়ে কথা বলছে তা বুঝতে পারছিনা। আমি চাই প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হোক।

 

 

অপরদিকে ভিকটিমের স্বামী আবুল হোসেন রবিবার কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে জানান, আমি বিএনপি সমর্থক এটা সত্য। অভিযুক্ত জহিরের প্ররোচণায় আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন আমার স্ত্রীর উপরও নির্যাতন করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমার ভাই ও ভাগিনা এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কবির হাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ হাছান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি জাকির হোসেন জহিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরো ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে হয়রানি করার উদ্যেশ্যে গ্রেফতার করা হয়নি।

বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে জেলা শহর মাইজদী টাউন হল মোড়ে নারী মুক্তি কেন্দ্র নোয়াখালীর শাখার ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সংহতি জানিয়েছে। সমাবেশে বক্তরা গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি ও জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার পূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে মামলাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে হয়রানি করা না হয় সেদিকে খেলার রাখার জন্যও পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

এ দিকে কবিরহাট থানা পুলিশ সোমবার দুপুরে প্রধান আসামির তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃত নির্যাতিতার সৎ দেবর ও ভাগিনাসহ ৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করেছে। তাদের প্রত্যেকের সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। এছাড়া মামলাটি তদন্তের জন্য ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের তাগিদ দিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কবিরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।