গাজীপুরে লাইসেন্স ছাড়াই মুদি দোকানেও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার,চ্যানেল সিক্স-

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই নীতিমালা লংঘন করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে গাজীপুরের রাস্তাঘাট বাজার এলাকা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার দোকান, ফাস্টফুড, কসমেটিকস দোকান, তেল বিক্রির দোকান, ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানসহ হাইওয়ে রাস্তার কাছে, ফুটপাতে গ্রামের রাস্তার মোড়ে, ফার্মেসিতে ও থান কাপড় বিক্রির দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই এলপি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো দোকানের সামনে বা ভেতরে খোলামেলা অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বিস্ম্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা এলপি গ্যাস বিক্রেতারা সংশ্লিষ্ট আইন না মেনেই ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা তারা রাখছেন না।  আবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ সংগ্রহেরও তোয়াক্কা করছেন না।  এলপি গ্যাস প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদে আইন অনুসরণ করছেন না।  ব্যবসা পরিচালনার সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করলেও ১০ টির বেশি সিলিন্ডারে আবশ্যকীয় সনদ তাদের নেই।

খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশির ভাগই আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অবগত।  তার পরও তদারকির অভাবে ঝূঁকি জেনেও তারা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিপণন কৌশলে প্ররোচিত হয়েও তারা আইন অনুসরণ থেকে পিছিয়ে আসছেন।

 

 

গাজীপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ ছাড়াই স্থানভেদে ৩০ থেকে শুরু করে শতাধিক এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে মজুদ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।  এসব দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এলপি গ্যাসবোঝাই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়  এছাড়া ঐসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ দোকান মালিকরা তা রাখছেন না। আবার কয়েকটি দোকানে এ গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও তা বেশিরভাগই মেয়াদ উত্তীর্ণ। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এলপি গ্যাস ব্যবহার, বিপণন ও বাজার জাত করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার বাধ্যতা মূলক সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের প্রায় ব্যবসায়ীরা এলপি গ্যাস বিক্রির কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা দোকানে ও গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনের ফুটপাত, জনাকীর্ণ এলাকায় যত্রতত্র দাহ্য পদার্থ পেট্রোল ও গ্যাস সিলিন্ডার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে বিক্রি করছেন। পরিবেশবীদদের মতে, যত্রতত্র অবাধে পেট্রোল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রীর ফলে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটে মানুষ মারা যেতে পারে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক বলেন, একটি গ্যাস সিলিন্ডারই একটি বোমা মনে করতে হবে। তিনি আরো বলেন, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন ২০০৩ এর ৪ ধারা মোতাবেক সরকার ঘোষিত ফায়ার সার্ভিসের কোন জ্বালানি নিয়ে কেই ব্যবসা করলে (মজুদ প্রসেসিং প্রক্রিয়াকরণ এ্যাক্ট:) তাকে উক্ত বিধান অনুযায়ী ফায়ার লাইসেন্স করতে হবে। অন্যথায় উক্ত আইনের ১৭ ও ১৮ ধারা মোতাবেক ০৩ বছরের কারাদন্ড অর্থদন্ড এবং উক্ত দোকান বা স্থানের মালামাল বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বলেন, ১০টির বেশি এলপি গ্যাসপূর্ণ গ্যাসাধার রাখলে যেকোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিতে হবে।  সনদ ছাড়া ব্যবসা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দেশের অনেকেই তা মানছে না।  এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  সম্প্রতি এলপি গ্যাস ব্যবসায়ে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেছি এবং আমাদের উদ্বেগের কথা তাদের জানিয়েছি।

জনগণের দাবি যত্রতত্র অবাধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই লাইসেন্সবিহীন সিলিন্ডার বিক্রি ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ করতে হবে। একজন নাগরিক হিসেবে তিনিও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ