রাজশাহীতে কুল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকরা

প্রকাশিত

রাজশাহী সংবাদদাতা: রাজশাহী জেলাজুড়ে কুল চাষে আত্মনিয়োগ করেছে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা। পতিত জমিতে কুল চাষ করে একদিকে নিজেরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছেন অন্যদিকে পুষ্টির ঘাটতি পূরণসহ জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। কম খরচে বেশী লাভ হওয়ার কারণে আপেল,বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করা হয়েছে।তাই(বরই) চাষ এনে দিয়েছে নতুন বিপ্লব।
এ অঞ্চলে নিয়মিত অন্যান্য ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্থকারী ফসল। যা কৃষিক্ষেত্রে এনে দিয়েছে নতুন বিপ্লব। কুল বা বরই হচ্ছে বাংলাদেশে অন্যতম একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল।
জানা গেছে, গত কয়েকবছর যাবৎ কুল চাষ লাভজনক হওয়ায় রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিরা তাদের বাগানে ও বাড়িতে কুল চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। চাষিরা বলেছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপেল কুল ও বাউকুল গাছে ফল ধরে। মাত্র ৪ মাস সময়ের মধ্যেই এ জাতীয় কুল গাছে ফলন আসে। ফলে অনেক যুবক কুল চাষে এগিয়ে এসেছেন এবং অর্থনৈতিকভাব অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে যায়, এখানকার চাষিরা বাউকুল ও আপেলকুলসহ বিভিন্ন জাতের বড়ইয়ের চাষ করছেন। বাজারে এসব বড়ই উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে।এর আগে বালিযুক্ত জমিতে ফসল করতে হিমশিম খেতে হয়েছে, সেখানে কুল চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। কৃষক কুল বড়ই চাষে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই কুল চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন। এমন সোনার ফসল ফলানো যায়,তা প্রমান করেছেন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরাও।
কুলচাষী আবুল হোসেন জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি গড় উৎপাদন হচ্ছে ১০০থেকে ১১০ মণ। তাই এবার বেশী দামে কুল বিক্রির আশা করছেন তিনি। তবে বাউ ও থাই কুলের বাজার ভালো থাকায় পুষিয়ে নিতে পারবেন কৃষকরা।
জানা গেছে, যত্নআত্তির বালাই ছাড়াই দিব্যি বেঁচে থাকে বছরের পর বছর এ গাছটি। এক সময়  গাছটি অবহেলাতেই বেড়ে উঠত। এখন কিন্তু বরইয়ের সেই দিন নেই। বড় যত্ন করে চাষ করা হয় বরই গাছ। এ গাছের ফলটি যেমন অর্থকরী, তেমনি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। বরইয়ে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ আছে নানা কিছু উপাদান। রোগ প্রতিরোধে যেমন ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। বরই সবার জন্য ভালো হলেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য কিন্তু না। পাকা বরইয়ে চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পাকা বরই না খাওয়াই ভালো। আর যাঁদের শ্বাসকষ্ট আছে, কাঁচা বরই বেশি খেয়ে ফেললে তাঁদের শ্বাসকষ্ট কিন্তু বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এদিকে, জেলায় বিভিন্ন ফসল চাষে আর্থিকভাবে লাভবান না হওয়ায় অন্য ফসলের বিকল্প হিসাবে কুল চাষে বেশী আগ্রহী কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সফলকাম হয়েছেন বলে কৃষকরা জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানকার কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।